বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাবিতে পোষ্য কোটার দাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ফের কর্মবিরতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা সুবিধা পুনর্বহাল ও সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে কর্মবিরতি।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে পরীক্ষা ছাড়া বেশকিছু বিভাগের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। দাবি না মানলে পরে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

এতে অংশ নিয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এনামুল হক বলেন, পৃথিবীর সব দেশে যুগে যুগে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা চালু রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল স্টেকহোল্ডার শিক্ষার্থীরা। আর শিক্ষক ও কর্মকর্তারা তাদের সেবা প্রদান করে থাকেন। আমি যেহেতু সেবক, আমার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসহ সবকিছুর দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। এটা সহজ বিষয়, এখানে না বোঝার কিছু নেই।

তিনি বলেন, প্রশাসনের প্রতি আহ্বান এক মাসের মধ্যে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে সমঝোতায় আসতে হবে।

এ সময় উর্দু বিভাগের অধ্যাপক আতোয়ার রহমান বলেন, আমরা নতুন কোনো দাবি নিয়ে সমাবেত হইনি। বরং আমাদের অধিকার পুনরায় চালুর দাবিতে দাঁড়িয়েছি। কেবল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা থেকে আমাদের সন্তানদের বঞ্চিত করা বৈষম্য ছাড়া কিছুই নয়। দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সুবিধা বিদ্যমান থাকলে আমরা কেন বঞ্চিত হবো? আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দাবি মানা না হলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হবো।

কর্মসূচীতে ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, রাত ১০টার মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট ডেকে আগে যেটা ছিল (পোষ্য কোটা) ওইটা ফিরিয়ে আনতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাবিতে পোষ্য কোটার দাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ফের কর্মবিরতি

প্রকাশিত সময় : ০৭:৫৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা সুবিধা পুনর্বহাল ও সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে কর্মবিরতি।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে পরীক্ষা ছাড়া বেশকিছু বিভাগের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। দাবি না মানলে পরে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

এতে অংশ নিয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এনামুল হক বলেন, পৃথিবীর সব দেশে যুগে যুগে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা চালু রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল স্টেকহোল্ডার শিক্ষার্থীরা। আর শিক্ষক ও কর্মকর্তারা তাদের সেবা প্রদান করে থাকেন। আমি যেহেতু সেবক, আমার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসহ সবকিছুর দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। এটা সহজ বিষয়, এখানে না বোঝার কিছু নেই।

তিনি বলেন, প্রশাসনের প্রতি আহ্বান এক মাসের মধ্যে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে সমঝোতায় আসতে হবে।

এ সময় উর্দু বিভাগের অধ্যাপক আতোয়ার রহমান বলেন, আমরা নতুন কোনো দাবি নিয়ে সমাবেত হইনি। বরং আমাদের অধিকার পুনরায় চালুর দাবিতে দাঁড়িয়েছি। কেবল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা থেকে আমাদের সন্তানদের বঞ্চিত করা বৈষম্য ছাড়া কিছুই নয়। দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সুবিধা বিদ্যমান থাকলে আমরা কেন বঞ্চিত হবো? আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দাবি মানা না হলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হবো।

কর্মসূচীতে ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, রাত ১০টার মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট ডেকে আগে যেটা ছিল (পোষ্য কোটা) ওইটা ফিরিয়ে আনতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।