শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পদ্মা-মহানন্দার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি ৯ হাজার পরিবার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি গত ১৩ আগস্ট বিপৎসীমার ৩১ সেমি নিচে সর্বোচ্চ ২১ দশমিক ৭৪ মিটার সমতলে প্রবাহিত হওয়ার পর বিগত ৪৮ ঘণ্টায় ৪ সেমি কমলেও মহানন্দা, পুনর্ভবাসহ জেলার নদীগুলোর পানি বাড়ছেই। পদ্মার পানিবৃদ্ধিতে তীরবর্তী ১২টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে কমে এসেছে পদ্মার পানি বৃদ্ধি। অন্য নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও কমেছে বৃদ্ধির হার।

তবে বন্যার মৌসুমে এ অবস্থা স্থায়ী হবে, না কি আবার বাড়বে- তা নিয়ে চিন্তিত নদীতীরের বাসিন্দারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র বলছে, আগামী ২/১ দিনের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হতে পারে। অবস্থা আরো খারাপ না হওয়ার আশা করছে সংস্থাটি। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মা বিপৎসীমার মাত্র ৩৫ সেমি নীচ দিয়ে ২১ দশমিক ৭০ মিটার সমতলে প্রবাহিত হচ্ছিল।

মহানন্দা বিপৎসীমার মাত্র ৭৬ সেমি নিচে ১৯ দশমিক ৭৯ মিটার ও পুনর্ভবা বিপৎসীমার ১ দশমিক ৫২ মিটার নীচ দিয়ে ২০ দশমিক শুন্য ৩ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল। অর্থাৎ জেলার সকল বড় নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নীচেই রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যনুযায়ী, চলতি মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মত পানিবৃদ্ধির কারণে বাড়ির চারদিকে ও ভেতরে পানি প্রবেশ করে পানিবন্দি হয়েছেন সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী হাজার হাজার পরিবার। অনেকেই মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন।

গবাদিপশুরও নাজেহাল অবস্থা। বেড়েছে ত্রাণের চাহিদা।
সদরের নারায়নপুর, আলাতুলী, ইসলামপুর, দেবীনগর, শাজাহানপুর, চরবাগডাঙ্গা, সুন্দরপুর এবং শিবগঞ্জ উপজেলার দূর্লভপুর, পাঁকা, মনাকষা, উজিরপুর ও ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পদ্মার পানি প্রবেশ করে নিমজ্জিত, অর্ধনিমজ্জিত ও আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি ও বাগান। পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়, বিভিন্ন ধরনের মাদরাসা ও কলেজ।

গ্রামীণ সড়কে পানি উঠে চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে ভোগান্তি। মহানন্দার পানি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার কিছু অঞ্চল ও সদরের বারঘরিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করেছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শনের পর জানিয়েছেন, দুই উপজেলায় পদ্মার পানিবৃদ্ধিজনিত কারণে অন্তত ৯ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছেন। পানিবন্দি ও পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ৫৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের চারদিকে পানি থাকলেও পাঠদান বন্ধ হয়নি। এ ছাড়া আক্রান্ত সকল ইউনিয়নে কৃষি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মানুষ পানিবন্দি হয়নি।

পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম. আহসান হাবীব বলেন, উজানে ভারত থেকে ধেয়ে আসা পানি ও বৃষ্টিপাতের কারণে পানি বেড়ে সতর্কসীমায় পৌঁছেছে। ভারতে গঙ্গা সকল পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তবে আশা করা হচ্ছে, পানি আর বাড়বে না। কমতে শুরু করবে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এখনও বন্যার পূর্বাভাস দেয়নি বলেও জানান প্রকৌশলী তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াসিন আলী বলেন, শুক্রবার পর্যন্ত মূলত পদ্মার কারণে সদর ও শিবগঞ্জ, মহানন্দার কারণে জেলার সকল উপজেলা এবং পুণর্ভবার কারণে গোমস্তাপুরে প্রায় ১৭ হাজার বিঘা ফসলি জমি (আড়াই হাজার হেক্টর) বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, ভূট্টা, সবজি, হলুদ, কলা, পেঁয়াজের বীজতলা ইত্যাদি।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় প্রায় দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দি। অন্তত ১৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ। গত বুধবার (১৩আগষ্ট) থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।

শিবগঞ্জ ইউএনও আজাহার আলী বলেন, অন্তত সাড়ে ৭ হাজার পরিবার পানিবন্দি। অন্তত ৪৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ । ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। ৭৮৭ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। গবাদিপশু চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখনও কোনো আশ্রয় কেন্দ্র চালু করতে হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পদ্মা-মহানন্দার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি ৯ হাজার পরিবার

প্রকাশিত সময় : ১০:৪২:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি গত ১৩ আগস্ট বিপৎসীমার ৩১ সেমি নিচে সর্বোচ্চ ২১ দশমিক ৭৪ মিটার সমতলে প্রবাহিত হওয়ার পর বিগত ৪৮ ঘণ্টায় ৪ সেমি কমলেও মহানন্দা, পুনর্ভবাসহ জেলার নদীগুলোর পানি বাড়ছেই। পদ্মার পানিবৃদ্ধিতে তীরবর্তী ১২টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে কমে এসেছে পদ্মার পানি বৃদ্ধি। অন্য নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও কমেছে বৃদ্ধির হার।

তবে বন্যার মৌসুমে এ অবস্থা স্থায়ী হবে, না কি আবার বাড়বে- তা নিয়ে চিন্তিত নদীতীরের বাসিন্দারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র বলছে, আগামী ২/১ দিনের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হতে পারে। অবস্থা আরো খারাপ না হওয়ার আশা করছে সংস্থাটি। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মা বিপৎসীমার মাত্র ৩৫ সেমি নীচ দিয়ে ২১ দশমিক ৭০ মিটার সমতলে প্রবাহিত হচ্ছিল।

মহানন্দা বিপৎসীমার মাত্র ৭৬ সেমি নিচে ১৯ দশমিক ৭৯ মিটার ও পুনর্ভবা বিপৎসীমার ১ দশমিক ৫২ মিটার নীচ দিয়ে ২০ দশমিক শুন্য ৩ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল। অর্থাৎ জেলার সকল বড় নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নীচেই রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যনুযায়ী, চলতি মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মত পানিবৃদ্ধির কারণে বাড়ির চারদিকে ও ভেতরে পানি প্রবেশ করে পানিবন্দি হয়েছেন সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী হাজার হাজার পরিবার। অনেকেই মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন।

গবাদিপশুরও নাজেহাল অবস্থা। বেড়েছে ত্রাণের চাহিদা।
সদরের নারায়নপুর, আলাতুলী, ইসলামপুর, দেবীনগর, শাজাহানপুর, চরবাগডাঙ্গা, সুন্দরপুর এবং শিবগঞ্জ উপজেলার দূর্লভপুর, পাঁকা, মনাকষা, উজিরপুর ও ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পদ্মার পানি প্রবেশ করে নিমজ্জিত, অর্ধনিমজ্জিত ও আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি ও বাগান। পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়, বিভিন্ন ধরনের মাদরাসা ও কলেজ।

গ্রামীণ সড়কে পানি উঠে চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে ভোগান্তি। মহানন্দার পানি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার কিছু অঞ্চল ও সদরের বারঘরিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করেছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শনের পর জানিয়েছেন, দুই উপজেলায় পদ্মার পানিবৃদ্ধিজনিত কারণে অন্তত ৯ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছেন। পানিবন্দি ও পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ৫৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের চারদিকে পানি থাকলেও পাঠদান বন্ধ হয়নি। এ ছাড়া আক্রান্ত সকল ইউনিয়নে কৃষি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মানুষ পানিবন্দি হয়নি।

পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম. আহসান হাবীব বলেন, উজানে ভারত থেকে ধেয়ে আসা পানি ও বৃষ্টিপাতের কারণে পানি বেড়ে সতর্কসীমায় পৌঁছেছে। ভারতে গঙ্গা সকল পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তবে আশা করা হচ্ছে, পানি আর বাড়বে না। কমতে শুরু করবে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এখনও বন্যার পূর্বাভাস দেয়নি বলেও জানান প্রকৌশলী তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াসিন আলী বলেন, শুক্রবার পর্যন্ত মূলত পদ্মার কারণে সদর ও শিবগঞ্জ, মহানন্দার কারণে জেলার সকল উপজেলা এবং পুণর্ভবার কারণে গোমস্তাপুরে প্রায় ১৭ হাজার বিঘা ফসলি জমি (আড়াই হাজার হেক্টর) বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, ভূট্টা, সবজি, হলুদ, কলা, পেঁয়াজের বীজতলা ইত্যাদি।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় প্রায় দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দি। অন্তত ১৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ। গত বুধবার (১৩আগষ্ট) থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।

শিবগঞ্জ ইউএনও আজাহার আলী বলেন, অন্তত সাড়ে ৭ হাজার পরিবার পানিবন্দি। অন্তত ৪৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ । ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। ৭৮৭ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। গবাদিপশু চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখনও কোনো আশ্রয় কেন্দ্র চালু করতে হয়নি।