শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মবের ভয়ে পুলিশ ফিরে আসে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—প্রশ্ন রিজভীর

মবের ভয়ে পুলিশ যদি ফিরে আসে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রংপুরে পিটিয়ে দুই ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘পুলিশ খবর পেয়ে গিয়েও ফিরে এসেছে মবের ভয়ে। এই যদি আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি হয়, তাহলে আজকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাটা কোথায়।’

বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার পালানোর পরের সময়টা হবে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, স্বস্তিদায়ক। সেখানে যদি কিছু কিছু ঘটনা এমন ঘটতে থাকে যেটি জনসমাজের মধ্যে ভীতি এবং শঙ্কা তৈরি করবে।’

মব সংস্কৃতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুইদিন আগে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দুজন মানুষ রূপলাল দাস (৪০) ও প্রদীপ দাস (৩৫)। তাদেরকে এই মব সংস্কৃতি অর্থাৎ বেশ কিছু লোক মিলে পিটিয়ে মারলেন, কত দুর্ভাগ্যজনক।

খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেছে। গিয়েও ফিরে এসেছে যে মবের মধ্যে পড়তে চায় না। এই যদি আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি হয়, তাহলে আজকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাটা কোথায়। এটা তো আজকে ভাবিয়ে তুলেছে।

এই মব কালচার একটা বৃহত্তর ক্যান্সারের ঘা তৈরি করেছে আমাদের জনসমাজের মধ্যে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই প্রচেষ্টা নিতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কারো হাতে আইন তুলে নেওয়ার কোনো অধিকার নেই। যে অধিকারটা শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন তার র‌্যাবকে, পুলিশকে।

তারা নির্বিচারে হত্যা করত, বিচারবহির্ভূত হত্যা করত।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘নিজেদেরটা আড়াল করে, বানোয়াট গল্প-কাহিনী তৈরি করে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে যারা একেবারে অপসংস্কৃতির মধ্যে ভোগেন এবং ন্যূনতম রাজনৈতিক সভ্যতা বলে কিছু নেই, তারা এই কাজ করতে পারেন।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘বিএনপির নামে বা এর অঙ্গসংগঠনের নামে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, দখলদারি প্রকাশে প্রতিদিন কাউকে না কাউকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। কারো পদ স্থগিত করা হচ্ছে, শোকজ করা হচ্ছে, আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হচ্ছে।’

পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতির জন্য দেশের মানুষ এখনো প্রস্তুত নয় দাবি করে রিজভী বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ এখনো এই ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত না। আমাদের সমাজ ওই স্তরে নেই, যে স্তরে পশ্চিম ইউরোপের সমাজ আছে। এখন যারা এই কথা বলছেন, আমার মনে হয় এক ধরনের জটিলতা তৈরি করা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে বলে মনে করি না।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মবের ভয়ে পুলিশ ফিরে আসে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—প্রশ্ন রিজভীর

প্রকাশিত সময় : ১১:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

মবের ভয়ে পুলিশ যদি ফিরে আসে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রংপুরে পিটিয়ে দুই ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘পুলিশ খবর পেয়ে গিয়েও ফিরে এসেছে মবের ভয়ে। এই যদি আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি হয়, তাহলে আজকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাটা কোথায়।’

বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার পালানোর পরের সময়টা হবে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, স্বস্তিদায়ক। সেখানে যদি কিছু কিছু ঘটনা এমন ঘটতে থাকে যেটি জনসমাজের মধ্যে ভীতি এবং শঙ্কা তৈরি করবে।’

মব সংস্কৃতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দুইদিন আগে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দুজন মানুষ রূপলাল দাস (৪০) ও প্রদীপ দাস (৩৫)। তাদেরকে এই মব সংস্কৃতি অর্থাৎ বেশ কিছু লোক মিলে পিটিয়ে মারলেন, কত দুর্ভাগ্যজনক।

খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেছে। গিয়েও ফিরে এসেছে যে মবের মধ্যে পড়তে চায় না। এই যদি আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি হয়, তাহলে আজকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাটা কোথায়। এটা তো আজকে ভাবিয়ে তুলেছে।

এই মব কালচার একটা বৃহত্তর ক্যান্সারের ঘা তৈরি করেছে আমাদের জনসমাজের মধ্যে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই প্রচেষ্টা নিতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কারো হাতে আইন তুলে নেওয়ার কোনো অধিকার নেই। যে অধিকারটা শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন তার র‌্যাবকে, পুলিশকে।

তারা নির্বিচারে হত্যা করত, বিচারবহির্ভূত হত্যা করত।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘নিজেদেরটা আড়াল করে, বানোয়াট গল্প-কাহিনী তৈরি করে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে যারা একেবারে অপসংস্কৃতির মধ্যে ভোগেন এবং ন্যূনতম রাজনৈতিক সভ্যতা বলে কিছু নেই, তারা এই কাজ করতে পারেন।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘বিএনপির নামে বা এর অঙ্গসংগঠনের নামে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, দখলদারি প্রকাশে প্রতিদিন কাউকে না কাউকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। কারো পদ স্থগিত করা হচ্ছে, শোকজ করা হচ্ছে, আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হচ্ছে।’

পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতির জন্য দেশের মানুষ এখনো প্রস্তুত নয় দাবি করে রিজভী বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ এখনো এই ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত না। আমাদের সমাজ ওই স্তরে নেই, যে স্তরে পশ্চিম ইউরোপের সমাজ আছে। এখন যারা এই কথা বলছেন, আমার মনে হয় এক ধরনের জটিলতা তৈরি করা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে বলে মনে করি না।’