শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

থাইরয়েডের সমস্যা বাড়াতে পারে যেসব খাবার

হরমোনের মাত্রা বেশি হলে যেমন এক রকম সমস্যা হয়, তেমনই কম হলেও দেখা দেয় নানা উপসর্গ। কারো ওজন বাড়ে, কারো কমে যায়। দেখা দেয় অতিরিক্ত ক্লান্তি, দুর্বলতা, মনঃসংযোগে সমস্যাসহ নানা জটিলতা। সময়মতো চিকিৎসা না হলে সমস্যা বাড়তে পারে, এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

থাইরয়েডের চিকিৎসা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হয়, তবে সঠিক খাবার ও জীবনযাপনের মাধ্যমে রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেমন কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো থাইরয়েডের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। চলুন, জেনে নিই।

সয়াবিন ও সয়াজাত পণ্য
সয়াবিন, টফু, সয়া দুধ প্রভৃতি খাবারে থাকে ফাইটোইস্ট্রোজেন ও গয়ট্রোজেন নামক উপাদান।

যা থাইরয়েড হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণে বাধা দিতে পারে। ২০১৫ সালে ‘জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত সয়াবিন গ্রহণ থাইরয়েডের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে। তাই থাইরয়েডের রোগীরা সয়া পণ্য খেলে তা যেন হয় পরিমিতভাবে।

গ্লুটেন
গম, ময়দা ও গ্লুটেন-সমৃদ্ধ খাবার অনেক সময় থাইরয়েড হরমোনের নিঃসরণে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা জানাচ্ছে, গ্লুটেন অন্ত্রের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে এবং পরোক্ষভাবে থাইরয়েডে সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই গ্লুটেন এড়িয়ে চলা অনেক সময় উপকারী।

প্রক্রিয়াজাত খাবার
চিপস, প্যাকেটজাত খাবার, প্রক্রিয়াজাত মাংস প্রভৃতি প্রক্রিয়াজাত খাবারে অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণ থাকে। যা হাইপোথাইরয়েডিজমে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত লবণ শরীরের রক্তচাপ ও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

ফ্যাটযুক্ত ও তেলে ভাজা খাবার
বেশি ফ্যাটযুক্ত বা তেলে ভাজা খাবার থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতায় বাধা দেয়। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যেমন— অ্যাভোকাডো বা অলিভ অয়েল সীমিতভাবে খাওয়া যেতে পারে, তবে ফাস্ট ফুড বা অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।

চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার
চিনি, মিষ্টি, কেক, মিষ্টান্ন জাতীয় খাবার যেমন ডায়াবেটিসে খারাপ, তেমনই থাইরয়েডের রোগীদের জন্যও ক্ষতিকর। ২০১৮ সালে ‘এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম ক্লিনিকস অব নর্থ আমেরিকা’ গবেষণায় বলা হয়েছে, চিনি বিপাকক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করে। যা থাইরয়েড রোগীদের আরো দুর্বল করে তুলতে পারে।

নির্দিষ্ট কিছু ফল ও শস্য
স্ট্রবেরি, চিনাবাদামে থাকা নির্দিষ্ট উপাদান হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ ধরনের খাবার খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

থাইরয়েডের সমস্যা বাড়াতে পারে যেসব খাবার

প্রকাশিত সময় : ০৬:৪৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

হরমোনের মাত্রা বেশি হলে যেমন এক রকম সমস্যা হয়, তেমনই কম হলেও দেখা দেয় নানা উপসর্গ। কারো ওজন বাড়ে, কারো কমে যায়। দেখা দেয় অতিরিক্ত ক্লান্তি, দুর্বলতা, মনঃসংযোগে সমস্যাসহ নানা জটিলতা। সময়মতো চিকিৎসা না হলে সমস্যা বাড়তে পারে, এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

থাইরয়েডের চিকিৎসা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হয়, তবে সঠিক খাবার ও জীবনযাপনের মাধ্যমে রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেমন কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো থাইরয়েডের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। চলুন, জেনে নিই।

সয়াবিন ও সয়াজাত পণ্য
সয়াবিন, টফু, সয়া দুধ প্রভৃতি খাবারে থাকে ফাইটোইস্ট্রোজেন ও গয়ট্রোজেন নামক উপাদান।

যা থাইরয়েড হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণে বাধা দিতে পারে। ২০১৫ সালে ‘জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত সয়াবিন গ্রহণ থাইরয়েডের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে। তাই থাইরয়েডের রোগীরা সয়া পণ্য খেলে তা যেন হয় পরিমিতভাবে।

গ্লুটেন
গম, ময়দা ও গ্লুটেন-সমৃদ্ধ খাবার অনেক সময় থাইরয়েড হরমোনের নিঃসরণে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা জানাচ্ছে, গ্লুটেন অন্ত্রের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে এবং পরোক্ষভাবে থাইরয়েডে সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই গ্লুটেন এড়িয়ে চলা অনেক সময় উপকারী।

প্রক্রিয়াজাত খাবার
চিপস, প্যাকেটজাত খাবার, প্রক্রিয়াজাত মাংস প্রভৃতি প্রক্রিয়াজাত খাবারে অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণ থাকে। যা হাইপোথাইরয়েডিজমে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত লবণ শরীরের রক্তচাপ ও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

ফ্যাটযুক্ত ও তেলে ভাজা খাবার
বেশি ফ্যাটযুক্ত বা তেলে ভাজা খাবার থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতায় বাধা দেয়। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যেমন— অ্যাভোকাডো বা অলিভ অয়েল সীমিতভাবে খাওয়া যেতে পারে, তবে ফাস্ট ফুড বা অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।

চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার
চিনি, মিষ্টি, কেক, মিষ্টান্ন জাতীয় খাবার যেমন ডায়াবেটিসে খারাপ, তেমনই থাইরয়েডের রোগীদের জন্যও ক্ষতিকর। ২০১৮ সালে ‘এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম ক্লিনিকস অব নর্থ আমেরিকা’ গবেষণায় বলা হয়েছে, চিনি বিপাকক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করে। যা থাইরয়েড রোগীদের আরো দুর্বল করে তুলতে পারে।

নির্দিষ্ট কিছু ফল ও শস্য
স্ট্রবেরি, চিনাবাদামে থাকা নির্দিষ্ট উপাদান হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ ধরনের খাবার খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।