রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন রচিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আগস্ট বিপ্লব’ শিরোনামভুক্ত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আলোচনাসভায় বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শুধু রাজশাহীর নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের মুক্তিকামী আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। নতুন প্রজন্মকে সেই সংগ্রামের ইতিহাস জানাতে হবে, যাতে তারা দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করেন। এ ধরনের গ্রন্থ ইতিহাসকে বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখে না, বরং তরুণদের কাছে জীবন্ত করে তোলে। গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার জন্য এটি হবে অমূল্য সংযোজন।
গ্রন্থের লেখক ও কালের কণ্ঠের রাজশাহী ব্যুরোপ্রধান ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন থেমে গেলেও তার রেশ রয়ে গিয়েছিল। কবিতা, ছড়া কিংবা স্লোগানে আমরা তা প্রত্যক্ষ করেছি। ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই আবু সাঈদ শাহাদাত বরণের পরই বন্ধুদের অনুরোধে বইটি লেখা শুরু করি। তখনও জানতাম না যে এই আন্দোলন ৫ আগস্ট এসে সফলতার মুখ দেখবে।
’ তিনি বলেন, ‘ভাই-বোনেরা জীবন দিয়েছে, নানা স্লোগান ও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে—এসব যেন হারিয়ে না যায়, তাই বই লেখার উদ্যোগ নিই। আজ তা পূর্ণতা পেল।’
ড. সাদিকুল আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস শুধু দলিল-দস্তাবেজেই সীমাবদ্ধ নয়, সাধারণ মানুষের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতায়ও বেঁচে আছে। আমি সে অভিজ্ঞতাগুলো সংরক্ষণ করার চেষ্টা করেছি। তরুণদের জন্য এটি হবে এক মূল্যবান তথ্যভাণ্ডার, যা তাদের ইতিহাস জানাতে ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে সহায়তা করবে।
ভবিষ্যতের গবেষণার জন্যও বইটি হবে সহায়ক।
সভাপতির বক্তব্যে হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হেরিটেজ রাজশাহী এ অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্য লালন ও সংরক্ষণে কাজ করে আসছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এ অঞ্চলের মানুষকে স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করেছিল। এই বইয়ের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম তাদের ইতিহাস জানবে এবং শিকড়ের সঙ্গে নিজেদের সংযুক্ত করতে পারবে। এ ধরনের গবেষণামূলক কাজে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখার আলম মাসউদ, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের পরিচালক কাজী এম মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

রায়হান রোহানঃ 

























