রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আজ রবিবার সকালে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের পর তালা দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের বিক্ষোভের মধ্যেই মনোনয়নপত্র নিতে যান সাবেক সমন্বয়কসহ শিক্ষার্থীরা। এ সময় সেখানে দফায় দফায় ধস্তাধস্তি হয়।
এতে শিক্ষার্থী, সংবাদকর্মীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, আজ সকাল ৯টা থেকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রদল। সকাল ১০টার দিকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হলে ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেন এবং একটি চেয়ার ভেঙে টেবিল উল্টে দেন। পরে তারা ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
খবর পেয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার, মেহেদী সজীব, নুরুল শহীদ এবং শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। তারা তালা খুলতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কয়েক দফা ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় তারা তালা খুলতে ছাত্রদলকে পাঁচ মিনিটের আল্টিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ে তালা না খোলায় বেলা সোয়া ১টায় কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঝুলানো তালা ভেঙে ফেলেন শিক্ষার্থীরা। তালা ভেঙে ফেলা হলেও উভয়পক্ষ ঘটনাস্থলে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
উভয়পক্ষের উত্তেজনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহের রহমান, মতিহার হল শাখা সভাপতি হাসিম রানা, রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র মাহির, সাবেক সমন্বয়ক নুরুল শহীদ এবং ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাপারসন মনিরুলসহ অন্তত ৮ জন আহত হন।
ভাঙচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘আমরা বারবার দাবি জানিয়ে আসলেও প্রশাসন নিজের খেয়াল-খুশি মতো নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করছে। আমরা এর প্রতিবাদেই আজ এখানে অবস্থান নিয়েছি।’
রাহী আরও বলেন, ‘আমরা কোনো ভাঙচুর করিনি। টেবিলটা শুধু সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা এখানে অবস্থান করব।’
সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীব বলেন, ‘আজকে মনোনয়নপত্র বিতরণের শেষ দিনে সবাই মনোনয়ন নিতে আসছেন। আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে যেন মনোনয়নপত্র বিতরণ এবং নির্বাচন সম্পন্ন হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘আজ মনোনয়ন উত্তোলনের শেষ দিন। তাই আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মনোনয়ন উত্তোলন করতে এসেছি। ছাত্রদল এ ক্ষেত্রে বাধা দিয়ে নির্বাচনের বিপক্ষ শক্তির পরিচয় দিয়েছে।’
রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার সময় বর্তমান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ভর্তি ছিলেন না। তাই তাদের ভোটাধিকার নেই। আগামী নির্বাচনে তারা ভোট দিতে পারবেন।’

রায়হান রোহানঃ 
























