সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লিটনের ফিফটিতে বড় জয় বাংলাদেশের

শক্তিমত্তার বিচারে নেদারল্যান্ডসের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠের পারফরম্যান্সেও সেটারই ছাপ দেখা গেল। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে টাইগাররা। এই জয়ে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল লিটন দাসের দল।

সিলেটে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান করে নেদারল্যান্ডস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেছেন তেজা। বাংলাদেশের হয়ে ২৮ রানে ৪ উইকেট শিকার করে সেরা বোলার তাসকিন। জবাবে খেলতে নেমে ১৩ ওভার তিন বলে ৮ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। দলের হয়ে ফিফটি করেন লিটন।

১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দুর্দান্ত শুরু বাংলাদেশের। ইনিংসের প্রথম তিন বলের তিনটিই সীমানা ছাড়া করেন পারভেজ হোসেন ইমন। উড়ন্ত সূচনা পাওয়া এই ওপেনার অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই সাজঘরে ফিরতে হয়েছে তাকে। আরিয়ান দত্তের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হওয়ার আগে ৯ বলে ১৫ রান করেছেন এই ওপেনার।

ইমন দ্রুত ফিরলেও তিনে নেমে রানের চাকা সচল রাখেন লিটন দাস। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন তানজিদ তামিম। শুরু থেকেই দেখে-শুনে ব্যাটিং করার চেষ্টা করেন তামিম। তবে উইকেটে থিতু হওয়ার পর ফুলটস ডেলিভারিতে উইকেট বিলিয়ে দেওয়া খানিকটা দৃষ্টিকটুই। সাজঘরে ফেরার আগে ২৪ বলে ২৯ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।

লাল বলে নিয়মিত পারফর্ম করলেও গত কয়েক মাস ধরেই সাদা বলের ক্রিকেটে বেশ ভুগছেন লিটন। এমন সময়েও টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব দেওয়া হয় তাকে। ফলে অনেকেই এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেছেন। সেটার জবাব আজ দিয়েছেন লিটন। ফিফটি পেয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এই মাইলফলক ছুঁতে তিনি খরচ করেছেন মাত্র ২৬ বল।

শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৫৪ রান করেছেন লিটন। আর চারে নেমে ১৯ বলে অপরাজিত ৩৬ রান করেছেন সাইফ হাসান। তাতে ৩৯ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এর আগে নেদারল্যান্ডসের ইনিংসের প্রথম ওভারেই স্পিন আক্রমনে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। নতুন বল তুলে দেন শেখ মেহেদির হাতে। প্রথম ওভারে ডানহাতি এই অফ স্পিনার বেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। তবে অপর প্রান্ত থেকে পেস আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে তিন বাউন্ডারি হজম করেন শরিফুল ইসলাম।

এক ওভার করার পরই শরিফুলকে সরিয়ে তাসকিন আহমেদকে আক্রমণে আনেন লিটন। তাতেই সাফল্যের দেখা পায় বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসে নিজের করা প্রথম বলেই ব্রেকথ্রু এনে দেন তাসকিন।

মিডল-লেগ স্টাম্পের ওপর করা গুড লেংথের বলে শর্ট কভারে জাকের আলির হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ম্যাক্স ও’ডাউড। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৫ বলে ২৩ রান।

অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে ফিরে আবারো প্রথম বলেই উইকেট পেয়েছেন তাসকিন। এবার তার শিকার ভিক্রমজিত সিং। এই পেসারের করা খাটো লেংথের বলে লং অনে ধরা পরেন ভিক্রম।

প্রায় দুই বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন সাইফ হাসান। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই জায়গা পেয়েছেন একাদশেও। লম্বা সময় পর দলে ফিরে বল হাতে আক্রমণে এসে প্রথম ওভারেই ২ উইকেট শিকার করলেন এই স্পিনার।

দুই বছর পর জাতীয় দলে ফিরে প্রথম ওভারেই ২ উইকেট নিয়েছেন সাইফ হাসান

ইনিংসের ১০ম ওভারের চতুর্থ বলটি লেগ স্টাম্পের ওপর করেছিলেন সাইফ, সেখানে প্যাডল সুইপ করেন স্কট এডওয়ার্ডস। তবে ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি। তাতে বল চলে যায় লং লেগে, খানিকটা দৌড়ে এসে দারুণ ক্যাচ নেন জাকের। ৭ বলে ১২ রানের বেশি করতে পারেননি ডাচ অধিনায়ক।

দুই বল পরই তেজা নিদামিনুরুকেও ফিরিয়েছেন সাইফ। এবারও একই ধরনের ডেলিভারিতেই উইকেট পেয়েছেন এই স্পিনার। তাওহিদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২৬ রান করেছেন এই ব্যাটার।

৮৬ রানে পঞ্চম উইকেট হারানো ডাচরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় অনেকটাই ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ২০ ওভার খেলেও দেড়শ রান করতে পারেনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ বারের মতো হাল্ট প্রাইজ’র গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত

লিটনের ফিফটিতে বড় জয় বাংলাদেশের

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

শক্তিমত্তার বিচারে নেদারল্যান্ডসের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠের পারফরম্যান্সেও সেটারই ছাপ দেখা গেল। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে টাইগাররা। এই জয়ে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল লিটন দাসের দল।

সিলেটে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান করে নেদারল্যান্ডস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেছেন তেজা। বাংলাদেশের হয়ে ২৮ রানে ৪ উইকেট শিকার করে সেরা বোলার তাসকিন। জবাবে খেলতে নেমে ১৩ ওভার তিন বলে ৮ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। দলের হয়ে ফিফটি করেন লিটন।

১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় দুর্দান্ত শুরু বাংলাদেশের। ইনিংসের প্রথম তিন বলের তিনটিই সীমানা ছাড়া করেন পারভেজ হোসেন ইমন। উড়ন্ত সূচনা পাওয়া এই ওপেনার অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই সাজঘরে ফিরতে হয়েছে তাকে। আরিয়ান দত্তের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হওয়ার আগে ৯ বলে ১৫ রান করেছেন এই ওপেনার।

ইমন দ্রুত ফিরলেও তিনে নেমে রানের চাকা সচল রাখেন লিটন দাস। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন তানজিদ তামিম। শুরু থেকেই দেখে-শুনে ব্যাটিং করার চেষ্টা করেন তামিম। তবে উইকেটে থিতু হওয়ার পর ফুলটস ডেলিভারিতে উইকেট বিলিয়ে দেওয়া খানিকটা দৃষ্টিকটুই। সাজঘরে ফেরার আগে ২৪ বলে ২৯ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।

লাল বলে নিয়মিত পারফর্ম করলেও গত কয়েক মাস ধরেই সাদা বলের ক্রিকেটে বেশ ভুগছেন লিটন। এমন সময়েও টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব দেওয়া হয় তাকে। ফলে অনেকেই এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেছেন। সেটার জবাব আজ দিয়েছেন লিটন। ফিফটি পেয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এই মাইলফলক ছুঁতে তিনি খরচ করেছেন মাত্র ২৬ বল।

শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৫৪ রান করেছেন লিটন। আর চারে নেমে ১৯ বলে অপরাজিত ৩৬ রান করেছেন সাইফ হাসান। তাতে ৩৯ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এর আগে নেদারল্যান্ডসের ইনিংসের প্রথম ওভারেই স্পিন আক্রমনে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। নতুন বল তুলে দেন শেখ মেহেদির হাতে। প্রথম ওভারে ডানহাতি এই অফ স্পিনার বেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। তবে অপর প্রান্ত থেকে পেস আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে তিন বাউন্ডারি হজম করেন শরিফুল ইসলাম।

এক ওভার করার পরই শরিফুলকে সরিয়ে তাসকিন আহমেদকে আক্রমণে আনেন লিটন। তাতেই সাফল্যের দেখা পায় বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসে নিজের করা প্রথম বলেই ব্রেকথ্রু এনে দেন তাসকিন।

মিডল-লেগ স্টাম্পের ওপর করা গুড লেংথের বলে শর্ট কভারে জাকের আলির হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ম্যাক্স ও’ডাউড। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৫ বলে ২৩ রান।

অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে ফিরে আবারো প্রথম বলেই উইকেট পেয়েছেন তাসকিন। এবার তার শিকার ভিক্রমজিত সিং। এই পেসারের করা খাটো লেংথের বলে লং অনে ধরা পরেন ভিক্রম।

প্রায় দুই বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন সাইফ হাসান। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই জায়গা পেয়েছেন একাদশেও। লম্বা সময় পর দলে ফিরে বল হাতে আক্রমণে এসে প্রথম ওভারেই ২ উইকেট শিকার করলেন এই স্পিনার।

দুই বছর পর জাতীয় দলে ফিরে প্রথম ওভারেই ২ উইকেট নিয়েছেন সাইফ হাসান

ইনিংসের ১০ম ওভারের চতুর্থ বলটি লেগ স্টাম্পের ওপর করেছিলেন সাইফ, সেখানে প্যাডল সুইপ করেন স্কট এডওয়ার্ডস। তবে ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি। তাতে বল চলে যায় লং লেগে, খানিকটা দৌড়ে এসে দারুণ ক্যাচ নেন জাকের। ৭ বলে ১২ রানের বেশি করতে পারেননি ডাচ অধিনায়ক।

দুই বল পরই তেজা নিদামিনুরুকেও ফিরিয়েছেন সাইফ। এবারও একই ধরনের ডেলিভারিতেই উইকেট পেয়েছেন এই স্পিনার। তাওহিদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২৬ রান করেছেন এই ব্যাটার।

৮৬ রানে পঞ্চম উইকেট হারানো ডাচরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় অনেকটাই ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ২০ ওভার খেলেও দেড়শ রান করতে পারেনি।