শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাটোরে হাসপাতালে চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ , নার্সসহ ৪ স্টাফ পুলিশ হেফাজতে

নাটোরে একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এ এইচ এম আমিরুল ইসলামের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটায় জনসেবা হাসপাতালের বিশ্রামকক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নার্সসহ চার স্টাফকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আমিরুল সিংড়া উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।

তিনি বিএনপির অঙ্গসংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সাবেক আহ্বায়ক। তিনি জনসেবা হাসপাতালের মালিক ও পরিচালক ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসেবা হাসপাতালে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নিয়মিত রোগী দেখেন চিকিৎসক আমিরুল। গতকাল রোববার রাতে তিনি হাসপাতালে ছিলেন। আজ সকাল ১০টার পর থেকে কক্ষে তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে হাসপাতালের কর্মচারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তাঁরা দরজা ভেঙে কক্ষের ভেতর রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান।

হাসপাতালের স্টাফ আল আমিন জানান, গতকাল রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আমিরুল হাসপাতালের স্টাফদের সঙ্গে ছিলেন। এরপর তিনি ঘুমাতে যান। আজ সকালে জেলা বিএনপির অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্ত তিনি ঘুম থেকে ওঠেননি। তাঁরা ভেবেছেন, আমিরুল অনেক রাত জাগার কারণে ঘুমাচ্ছেন। পরে দরজা ধাক্কা দিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তখন স্টাফরা মিলে দরজা ভেঙে লাশ দেখতে পান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নাটোরের সিভিল সার্জন মুক্তাদির আরেফিন বলেন, ‘খবর পেয়ে জনসেবা হাসপাতালে এসেছি। তিনি আমাদের আস্থাভাজন একজন মানুষ ছিলেন। ড্যাব ও বিএমএর সাবেক আহ্বায়কও ছিলেন। তাঁকে নিজ বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।’ নাটোরের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সব ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, তিনি নিজ কক্ষে খুন হয়েছেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। প্রযুক্তিগত সহায়তা ব্যবহার করে দ্রুত খুনিদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

নাটোরে হাসপাতালে চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ , নার্সসহ ৪ স্টাফ পুলিশ হেফাজতে

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নাটোরে একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এ এইচ এম আমিরুল ইসলামের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটায় জনসেবা হাসপাতালের বিশ্রামকক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নার্সসহ চার স্টাফকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আমিরুল সিংড়া উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।

তিনি বিএনপির অঙ্গসংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সাবেক আহ্বায়ক। তিনি জনসেবা হাসপাতালের মালিক ও পরিচালক ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসেবা হাসপাতালে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নিয়মিত রোগী দেখেন চিকিৎসক আমিরুল। গতকাল রোববার রাতে তিনি হাসপাতালে ছিলেন। আজ সকাল ১০টার পর থেকে কক্ষে তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে হাসপাতালের কর্মচারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তাঁরা দরজা ভেঙে কক্ষের ভেতর রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান।

হাসপাতালের স্টাফ আল আমিন জানান, গতকাল রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আমিরুল হাসপাতালের স্টাফদের সঙ্গে ছিলেন। এরপর তিনি ঘুমাতে যান। আজ সকালে জেলা বিএনপির অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্ত তিনি ঘুম থেকে ওঠেননি। তাঁরা ভেবেছেন, আমিরুল অনেক রাত জাগার কারণে ঘুমাচ্ছেন। পরে দরজা ধাক্কা দিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তখন স্টাফরা মিলে দরজা ভেঙে লাশ দেখতে পান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নাটোরের সিভিল সার্জন মুক্তাদির আরেফিন বলেন, ‘খবর পেয়ে জনসেবা হাসপাতালে এসেছি। তিনি আমাদের আস্থাভাজন একজন মানুষ ছিলেন। ড্যাব ও বিএমএর সাবেক আহ্বায়কও ছিলেন। তাঁকে নিজ বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।’ নাটোরের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সব ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, তিনি নিজ কক্ষে খুন হয়েছেন। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। প্রযুক্তিগত সহায়তা ব্যবহার করে দ্রুত খুনিদের আইনের আওতায় আনা হবে।’