সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হামলা করতে ৩টি সংগঠনকে টাকা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন : রাহী

  • রায়হান রোহানঃ
  • প্রকাশিত সময় : ১১:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১২০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেছেন, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের রাকসু নির্বাচনে ভোটার করার জন্য ছাত্রদল যে আন্দোলন করছে, তা বানচাল করার জন্য ছাত্রদলের ওপর হামলা করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিনটি সংগঠনকে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে প্রশাসন ভবনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি চলার সময় সাংবাদিকদের কাছে সুলতান আহমেদ রাহী এই অভিযোগ করেন। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার ও ছাত্রদলের নারী কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ দুপুরে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল।

রাবি ছাত্রদল নেতা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজত্ব কায়েম করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংগঠনে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের দেওয়া হয়েছে। রাবি প্রশাসনের কাছে তারা বিক্রি হয়ে গেছে। গতকাল রোববার শুধু আমাদের ওপর হামলা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে তিনটি সংগঠনকে পাঁচ লাখ করে ১৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। অথচ সেই ভিসি আগে যখন আমতলায় বসে থাকতেন, চায়ের বিল দেওয়ার মতো তাঁর সৎ সাহস ছিল না।’

সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, শিবিরের নেতা-কর্মীরা বাজে স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁরা ১, ২, ৩, ৪ করে বাজে স্লোগান দিয়েছেন। তাঁরা সারা দেশে ছাত্ররাজনীতিকে দূষিত করে দিয়েছেন। তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মতো আচরণ করা উচিত। তাঁরা ইসলামের কথা বলেন, কিন্তু নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করে স্লোগান দেন

রাবি ছাত্রদল নেতা বলেন, ‘এই আন্দোলনে অন্যান্য সব সংগঠনের আমাদের পাশে আসার কথা ছিল। তারা আসছে না এই জন্য যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের রাকসুর মুলা দেখিয়েছে। যে মুলা দেখিয়ে ছাত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে। শিক্ষক নিয়োগে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করে কীভাবে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া যায়, এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি।’ এ সময় সুলতান আহমেদ রাহী অভিযোগ তোলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রদলের ওপর হামলা করতে প্রশাসন তিনটি সংগঠনকে পাঁচ লাখ করে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘এ রকম জঘন্য মিথ্যা কথা জীবনে আমি কমই শুনেছি। সম্পূর্ণ মিথ্যাচারের ওপরে যদি কোনো কিছু থাকে, তাহলে এটা তাই।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মাঝে মাঝে তিনি (ছাত্রদল সভাপতি) এই রকম কথা বলছেন। এটা সবাই জানেন। কিন্তু এটা অযৌক্তিক অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাউকে টাকা দিয়েছে কি না, সেটা বলতে পারব না, তবে ছাত্রশিবিরকে দেয়নি—এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি।’ মোস্তাকুর বলেন, ছাত্রদল রাকসু নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টা করছে। তাদের কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে এটা করছেন। এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত বলেও মনে হয় না।

রাবি ছাত্রদলের দাবি, বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৪ হাজার নতুন শিক্ষার্থী ছাত্রদলের ভোটার। তাই তাঁদের ভোটার করা হয়নি। শুধু তা-ই নয়, হিন্দু শিক্ষার্থীরাও ছাত্রদলকে ভোট দেবেন। তাঁরা যাতে ভোট না দিতে পারেন, সে জন্য প্রথম তফসিলে দুর্গাপূজার ষষ্ঠীর দিনে ভোটের দিন ঠিক করা হয়েছিল।

নতুন শিক্ষার্থীদের ভোটার করার দাবিতে গতকাল রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রদল। তারা মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পরে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রশিবির ও সাবেক সমন্বয়কদের অনুসারীদের হাতাহাতিতে অন্তত সাতজন আহত হন।

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার করা নিয়ে ছাত্রদল আন্দোলন চালিয়ে গেলেও এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আর গতকালের অপ্রীতিকর ঘটনার ফলে অনেক প্রার্থী ব্যাংকে যেতে পারেননি বলে মনোনয়নপত্র বিতরণের সময়সীমা আরও দুই দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। সে অনুযায়ী আজও প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়। আগামীকাল মঙ্গলবারও এ কার্যক্রম চলবে।

নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেছিলাম। সেই সভায় সিদ্ধান্ত এসেছে, ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। এ ব্যাপারে তারা কোনো ছাড় দেবে না। কমিশনও মনে করে, কোনো কারণে যদি ২৫ তারিখের বাইরে যেতে হয়, তাহলে এই কমিশন কাজ করতে পারবে কি না, সেই বিষয়েও আমরা সন্দেহ প্রকাশ করছি।’

প্রথম বর্ষকে ভোটার করা হবে কি না—জানতে চাইলে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘নতুন শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর বরাদ্দ করা, হলে অ্যাটাচমেন্ট করা ও পরিচয়পত্র ইস্যু করার ব্যাপার আছে। আমরা প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছি, তারা এই কাজগুলো করতে পারবে কি না এবং এটা যেন তারা আমাদের আজকেই জানায়। তারপরে আমরা কমিশন বসে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ বারের মতো হাল্ট প্রাইজ’র গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত

হামলা করতে ৩টি সংগঠনকে টাকা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন : রাহী

প্রকাশিত সময় : ১১:০৭:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেছেন, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের রাকসু নির্বাচনে ভোটার করার জন্য ছাত্রদল যে আন্দোলন করছে, তা বানচাল করার জন্য ছাত্রদলের ওপর হামলা করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিনটি সংগঠনকে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে প্রশাসন ভবনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি চলার সময় সাংবাদিকদের কাছে সুলতান আহমেদ রাহী এই অভিযোগ করেন। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার ও ছাত্রদলের নারী কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ দুপুরে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল।

রাবি ছাত্রদল নেতা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজত্ব কায়েম করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংগঠনে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের দেওয়া হয়েছে। রাবি প্রশাসনের কাছে তারা বিক্রি হয়ে গেছে। গতকাল রোববার শুধু আমাদের ওপর হামলা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে তিনটি সংগঠনকে পাঁচ লাখ করে ১৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। অথচ সেই ভিসি আগে যখন আমতলায় বসে থাকতেন, চায়ের বিল দেওয়ার মতো তাঁর সৎ সাহস ছিল না।’

সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, শিবিরের নেতা-কর্মীরা বাজে স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁরা ১, ২, ৩, ৪ করে বাজে স্লোগান দিয়েছেন। তাঁরা সারা দেশে ছাত্ররাজনীতিকে দূষিত করে দিয়েছেন। তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মতো আচরণ করা উচিত। তাঁরা ইসলামের কথা বলেন, কিন্তু নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করে স্লোগান দেন

রাবি ছাত্রদল নেতা বলেন, ‘এই আন্দোলনে অন্যান্য সব সংগঠনের আমাদের পাশে আসার কথা ছিল। তারা আসছে না এই জন্য যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের রাকসুর মুলা দেখিয়েছে। যে মুলা দেখিয়ে ছাত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে। শিক্ষক নিয়োগে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করে কীভাবে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া যায়, এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি।’ এ সময় সুলতান আহমেদ রাহী অভিযোগ তোলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রদলের ওপর হামলা করতে প্রশাসন তিনটি সংগঠনকে পাঁচ লাখ করে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘এ রকম জঘন্য মিথ্যা কথা জীবনে আমি কমই শুনেছি। সম্পূর্ণ মিথ্যাচারের ওপরে যদি কোনো কিছু থাকে, তাহলে এটা তাই।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মাঝে মাঝে তিনি (ছাত্রদল সভাপতি) এই রকম কথা বলছেন। এটা সবাই জানেন। কিন্তু এটা অযৌক্তিক অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাউকে টাকা দিয়েছে কি না, সেটা বলতে পারব না, তবে ছাত্রশিবিরকে দেয়নি—এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি।’ মোস্তাকুর বলেন, ছাত্রদল রাকসু নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টা করছে। তাদের কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে এটা করছেন। এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত বলেও মনে হয় না।

রাবি ছাত্রদলের দাবি, বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৪ হাজার নতুন শিক্ষার্থী ছাত্রদলের ভোটার। তাই তাঁদের ভোটার করা হয়নি। শুধু তা-ই নয়, হিন্দু শিক্ষার্থীরাও ছাত্রদলকে ভোট দেবেন। তাঁরা যাতে ভোট না দিতে পারেন, সে জন্য প্রথম তফসিলে দুর্গাপূজার ষষ্ঠীর দিনে ভোটের দিন ঠিক করা হয়েছিল।

নতুন শিক্ষার্থীদের ভোটার করার দাবিতে গতকাল রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রদল। তারা মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পরে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রশিবির ও সাবেক সমন্বয়কদের অনুসারীদের হাতাহাতিতে অন্তত সাতজন আহত হন।

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার করা নিয়ে ছাত্রদল আন্দোলন চালিয়ে গেলেও এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আর গতকালের অপ্রীতিকর ঘটনার ফলে অনেক প্রার্থী ব্যাংকে যেতে পারেননি বলে মনোনয়নপত্র বিতরণের সময়সীমা আরও দুই দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। সে অনুযায়ী আজও প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়। আগামীকাল মঙ্গলবারও এ কার্যক্রম চলবে।

নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেছিলাম। সেই সভায় সিদ্ধান্ত এসেছে, ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। এ ব্যাপারে তারা কোনো ছাড় দেবে না। কমিশনও মনে করে, কোনো কারণে যদি ২৫ তারিখের বাইরে যেতে হয়, তাহলে এই কমিশন কাজ করতে পারবে কি না, সেই বিষয়েও আমরা সন্দেহ প্রকাশ করছি।’

প্রথম বর্ষকে ভোটার করা হবে কি না—জানতে চাইলে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘নতুন শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর বরাদ্দ করা, হলে অ্যাটাচমেন্ট করা ও পরিচয়পত্র ইস্যু করার ব্যাপার আছে। আমরা প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছি, তারা এই কাজগুলো করতে পারবে কি না এবং এটা যেন তারা আমাদের আজকেই জানায়। তারপরে আমরা কমিশন বসে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’