রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘র‌্যাগিংয়ের’ অভিযোগ

  • রায়হান রোহানঃ
  • প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৮৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীরা তাঁদের সিনিয়রদের বিরুদ্ধে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জমা দেন। এতে ‘সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সালাম দেওয়ানো নিয়ে কটূ মন্তব্য’, ‘সমকামী বলা’, ‘অশ্লীল কবিতা পড়ানো’, ‘মারধরের হুমকিসহ’ বিভিন্ন অভিযোগ করেন তারা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ক্যাম্পাসের প্রথম দিনে তাঁদের ১০ থেকে ১৫ বার পরিচয় দিতে বাধ্য করা হয়; সঠিক পরিচয় দেওয়ার পরও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা হয়। তাঁদের নানা ভঙ্গিতে হাসতে বলা হয়, মারধরের হুমকি দেওয়া হয় এবং অশ্লীল ভাষায় গালি দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সালাম দিতে বলা হয়। সালাম দিলে আবার তাদের পারিবারিক শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গালি দেওয়া হয়।

এছাড়া ২০২৪-২০২৫ সেশনের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণের দিন (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বৃষ্টিতে বসিয়ে রাখা হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

সবশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে সব শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থাকতে বলা হয় এবং কেউ অনুপস্থিত থাকলে তারও জবাবদিহি সিআরকে (ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ) দিতে বলা হয়। ওই দিন উপস্থিত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ফোন চেক করা হয়; ৮০ জন ব্যাচমেট ও ৮০ জন ইমিডিয়েট (২০২৩-২৪ সেশন) সিনিয়রের নম্বর ফোনে সেভ না থাকলে তাদের গালাগালি ও হুমকি দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে প্রক্টরের কাছে অফিসিয়ালি অভিযোগ জানায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রথম দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আমাদের নানা ধরনের হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। এ সময় ‘আই কন্টাক্ট’, ‘হাতের ইশারা’, ‘অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি’ ও ‘পরিচয় দেওয়াকে’ কেন্দ্র করে আমাদের বিরক্ত করা হয়। পাশাপাশি অশ্লীল ভাষায় গালাগালিও সহ্য করতে হয়েছে।

একই বিভাগের ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ৩ সেপ্টেম্বর রাতে মণ্ডলের মোড়ের একটি মেসে ১৮ থেকে ২০ জন ইমিডিয়েট সিনিয়র আমাদের দাঁড় করিয়ে পরিচয় পর্বের নামে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে। এ সময় আমাদের কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা, অশ্লীল গান ও গল্প বলতে বাধ্য করা হয় এবং সমকামী ট্যাগ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে প্রক্টর মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ এসেছে। আমরা বিভাগের সভাপতির সঙ্গে কথা বলবো এবং অভিযুক্ত ২০২৩-২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলবো। আজকে আমরা প্রক্টরিয়াল বডি এদের হাতেনাতেই ধরেছি। অবশ্যই তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘র‌্যাগিংয়ের’ অভিযোগ

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীরা তাঁদের সিনিয়রদের বিরুদ্ধে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জমা দেন। এতে ‘সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সালাম দেওয়ানো নিয়ে কটূ মন্তব্য’, ‘সমকামী বলা’, ‘অশ্লীল কবিতা পড়ানো’, ‘মারধরের হুমকিসহ’ বিভিন্ন অভিযোগ করেন তারা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ক্যাম্পাসের প্রথম দিনে তাঁদের ১০ থেকে ১৫ বার পরিচয় দিতে বাধ্য করা হয়; সঠিক পরিচয় দেওয়ার পরও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা হয়। তাঁদের নানা ভঙ্গিতে হাসতে বলা হয়, মারধরের হুমকি দেওয়া হয় এবং অশ্লীল ভাষায় গালি দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ রয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সালাম দিতে বলা হয়। সালাম দিলে আবার তাদের পারিবারিক শিক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গালি দেওয়া হয়।

এছাড়া ২০২৪-২০২৫ সেশনের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণের দিন (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বৃষ্টিতে বসিয়ে রাখা হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

সবশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে সব শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থাকতে বলা হয় এবং কেউ অনুপস্থিত থাকলে তারও জবাবদিহি সিআরকে (ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ) দিতে বলা হয়। ওই দিন উপস্থিত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ফোন চেক করা হয়; ৮০ জন ব্যাচমেট ও ৮০ জন ইমিডিয়েট (২০২৩-২৪ সেশন) সিনিয়রের নম্বর ফোনে সেভ না থাকলে তাদের গালাগালি ও হুমকি দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে প্রক্টরের কাছে অফিসিয়ালি অভিযোগ জানায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রথম দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আমাদের নানা ধরনের হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। এ সময় ‘আই কন্টাক্ট’, ‘হাতের ইশারা’, ‘অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি’ ও ‘পরিচয় দেওয়াকে’ কেন্দ্র করে আমাদের বিরক্ত করা হয়। পাশাপাশি অশ্লীল ভাষায় গালাগালিও সহ্য করতে হয়েছে।

একই বিভাগের ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ৩ সেপ্টেম্বর রাতে মণ্ডলের মোড়ের একটি মেসে ১৮ থেকে ২০ জন ইমিডিয়েট সিনিয়র আমাদের দাঁড় করিয়ে পরিচয় পর্বের নামে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে। এ সময় আমাদের কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা, অশ্লীল গান ও গল্প বলতে বাধ্য করা হয় এবং সমকামী ট্যাগ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে প্রক্টর মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ এসেছে। আমরা বিভাগের সভাপতির সঙ্গে কথা বলবো এবং অভিযুক্ত ২০২৩-২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলবো। আজকে আমরা প্রক্টরিয়াল বডি এদের হাতেনাতেই ধরেছি। অবশ্যই তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’