শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাঁপাইবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ, দূর্ভোগে যাত্রীরা

বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকা রুটে চলাচলকারী বাস সমূহের চালক, সুপার ভাইজার ও সহকারীরা কর্ম বিরতি শুরু করেছেন।

ফলে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে বন্ধ রয়েছে যাত্রবাহী বাস চলাচল। এদিকে হটাৎ করে এই রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। বাস চালকরা জানান, আমরা দৈনিক ২৪ থেকে ৩২ ঘন্টা কাজ কওে থাকি। এ সময় একটি যাত্রীবাহী বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চলাচল করলে একজন চালক বেতন পান ১ হাজার ৩৫০ টাকা, সুপারভাইজার ৫৭৫ টাকা এবং হেলপার পায় ৫৫০ টাকা। এটা পরিবহন মালিকরা প্রদাণ করে থাকেন।

কিন্তু বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির বাজারে এই বেতনে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর এ ব্যাপারে শ্রমিক ইউনিয়নের মাধ্যমে মালিক পক্ষকে জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন মালিকদের কাছে বেতন বৃদ্ধি দাবি করেও প্রতিকার পাননি পরিবহন শ্রমিকরা। তারা বলেন, অনেক আগে থেকে সরকারীভাবে একটা বেতন ভাতা প্রদাণের নিয়ম আছে। কিন্তু আমরা তা পাইনা। কেবল মাত্র একতা পরিবহনের চালকসহ সংশ্লিষ্টরা আমাদের চেয়ে উচ্চ বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। বিধায় তাদের বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা কাওকে জোড় করতে পারিনা।

আর তাই একজন চালকের বেতন ২ হাজার টাকা এবং সুপার ভাইজার ও চালকের সহকারীর (হেলপার) বেতন ৫শ টাকা করে বৃদ্ধির দাবী পূরন না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্ম বিরতি অব্যাহত থাকবে। এদিকে একই দাবীতে রাজশাহী ও নাটোর জেলায় কর্ম বিরতি পালন করছেন চালক, সুপার ভাইজার ও চালকের সহকারী।

ঢাকাগামী একজন যাত্রী জানান, আমি ঢাকায় একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করি। কয়েকদিনের ছুটিতে বাসায় এসেছিলাম। কিন্তু আজ ঢাকায় ফিরতে গিয়ে ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি বাস বন্ধ। যদিও আমার এটাতে সাময়িক অসুবিধা হবে কিন্তু শ্রমিকদের এই যৌক্তিক দাবী বাস মালিকরা মেনে নিলে ভবিষ্যতে এমন দাবী নিয়ে হয়তো আর বাস চলাচল বন্ধ হবেনা। এ বিষয়ে ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, একমাত্র একতা পরিবহনের চালকের বেতন আগে থেকেই দেয়া হয় ১৭৫০ টাকা।

যেখানে অন্যান্য পরিবহনে তা দেয়া হয় ১৩৫০ টাকা। এ নিয়ে বেতন বৃদ্ধির দাবীতে চলতি মাসের ৮/৯ তারিখে শ্রমিকরা বাস চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাজশাহী ও নাটোরের বাস মালিক ও শ্রমিকরা ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এ বিষয়ে একটা সমাধানে আসার কথা বলেন। কিন্তু তা না করে আবারো সময় বৃদ্ধি করে সে বিষয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সমাধানের আশ^াস দিলে চালকরা আস্থা না আনতে পেরে আবারো বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

এখন তারা চালকের বেতন ১৩৫০ টাকা থেকে ২২০০ টাকা, সুপারভাইজারের ৫৭৫ টাকা থেকে ১২০০ টাকা এবং হেলপারের বেতন ৫৫০ টাকা থেকে ১১০০ টাকা করার দাবী জানান। এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় কাউন্টারগুলো বন্ধ রাখা হয়। বন্ধ রাখা হয় টিকিট বিক্রয়। ঢাকাগামী যাত্রীরা বাসট্যান্ডে এসে দূর্ভোগে পড়েন। তবে দূর্ভোগ থাকলেও যাত্রীরাও শ্রমিকদের সুরে সুর মিলিয়ে শ্রমিকদের এই দাবীকে যৌক্তিক বলছেন। তবে ন্যাশনাল ট্রাভেলস, দেশ ট্রাভেলস, হানিফ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, গ্রামীন ট্রাভেলস এর বাস চালকরা এই কর্মসুচি পালন করলেও শুধুমাত্র একতা পরিবহন বাস চলাচল স্বাভাবিক রেখেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

চাঁপাইবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ, দূর্ভোগে যাত্রীরা

প্রকাশিত সময় : ১১:১০:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকা রুটে চলাচলকারী বাস সমূহের চালক, সুপার ভাইজার ও সহকারীরা কর্ম বিরতি শুরু করেছেন।

ফলে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে বন্ধ রয়েছে যাত্রবাহী বাস চলাচল। এদিকে হটাৎ করে এই রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। বাস চালকরা জানান, আমরা দৈনিক ২৪ থেকে ৩২ ঘন্টা কাজ কওে থাকি। এ সময় একটি যাত্রীবাহী বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চলাচল করলে একজন চালক বেতন পান ১ হাজার ৩৫০ টাকা, সুপারভাইজার ৫৭৫ টাকা এবং হেলপার পায় ৫৫০ টাকা। এটা পরিবহন মালিকরা প্রদাণ করে থাকেন।

কিন্তু বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির বাজারে এই বেতনে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর এ ব্যাপারে শ্রমিক ইউনিয়নের মাধ্যমে মালিক পক্ষকে জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন মালিকদের কাছে বেতন বৃদ্ধি দাবি করেও প্রতিকার পাননি পরিবহন শ্রমিকরা। তারা বলেন, অনেক আগে থেকে সরকারীভাবে একটা বেতন ভাতা প্রদাণের নিয়ম আছে। কিন্তু আমরা তা পাইনা। কেবল মাত্র একতা পরিবহনের চালকসহ সংশ্লিষ্টরা আমাদের চেয়ে উচ্চ বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। বিধায় তাদের বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা কাওকে জোড় করতে পারিনা।

আর তাই একজন চালকের বেতন ২ হাজার টাকা এবং সুপার ভাইজার ও চালকের সহকারীর (হেলপার) বেতন ৫শ টাকা করে বৃদ্ধির দাবী পূরন না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্ম বিরতি অব্যাহত থাকবে। এদিকে একই দাবীতে রাজশাহী ও নাটোর জেলায় কর্ম বিরতি পালন করছেন চালক, সুপার ভাইজার ও চালকের সহকারী।

ঢাকাগামী একজন যাত্রী জানান, আমি ঢাকায় একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করি। কয়েকদিনের ছুটিতে বাসায় এসেছিলাম। কিন্তু আজ ঢাকায় ফিরতে গিয়ে ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি বাস বন্ধ। যদিও আমার এটাতে সাময়িক অসুবিধা হবে কিন্তু শ্রমিকদের এই যৌক্তিক দাবী বাস মালিকরা মেনে নিলে ভবিষ্যতে এমন দাবী নিয়ে হয়তো আর বাস চলাচল বন্ধ হবেনা। এ বিষয়ে ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, একমাত্র একতা পরিবহনের চালকের বেতন আগে থেকেই দেয়া হয় ১৭৫০ টাকা।

যেখানে অন্যান্য পরিবহনে তা দেয়া হয় ১৩৫০ টাকা। এ নিয়ে বেতন বৃদ্ধির দাবীতে চলতি মাসের ৮/৯ তারিখে শ্রমিকরা বাস চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাজশাহী ও নাটোরের বাস মালিক ও শ্রমিকরা ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এ বিষয়ে একটা সমাধানে আসার কথা বলেন। কিন্তু তা না করে আবারো সময় বৃদ্ধি করে সে বিষয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সমাধানের আশ^াস দিলে চালকরা আস্থা না আনতে পেরে আবারো বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

এখন তারা চালকের বেতন ১৩৫০ টাকা থেকে ২২০০ টাকা, সুপারভাইজারের ৫৭৫ টাকা থেকে ১২০০ টাকা এবং হেলপারের বেতন ৫৫০ টাকা থেকে ১১০০ টাকা করার দাবী জানান। এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় কাউন্টারগুলো বন্ধ রাখা হয়। বন্ধ রাখা হয় টিকিট বিক্রয়। ঢাকাগামী যাত্রীরা বাসট্যান্ডে এসে দূর্ভোগে পড়েন। তবে দূর্ভোগ থাকলেও যাত্রীরাও শ্রমিকদের সুরে সুর মিলিয়ে শ্রমিকদের এই দাবীকে যৌক্তিক বলছেন। তবে ন্যাশনাল ট্রাভেলস, দেশ ট্রাভেলস, হানিফ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, গ্রামীন ট্রাভেলস এর বাস চালকরা এই কর্মসুচি পালন করলেও শুধুমাত্র একতা পরিবহন বাস চলাচল স্বাভাবিক রেখেছে।