রাজশাহীর চারঘাটে স্বামী মারা যাওয়ার ৯ বছর পর বিধবা নারীর কোলে জন্ম নিলো ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান। রবিবার সন্ধ্যার আগে বিধবা ওই নারী সন্তান প্রসাব করেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সন্তান দেখতে ভিড় জমায় আশে পাশের গ্রামের শতশত নারী পুরুষ।
এক পযার্য়ে এই অবৈধ সন্তানের পিতৃ পরিচয় প্রকাশ করেন বিধবা নারী কারিমন বেওয়া। তিনি জনান এই সন্তানের পিতা প্রতিবেশী সাবেক ইউপি সদস্য শুকচান্দ আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম।এ খবর শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের কালুহাটি পশ্চিম পাড়া এলাকা।
সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় চারঘাট মডেল থানা পুলিশ ও সংবাদকর্মীরা। তার আগেই আত্মগোপনে চলে যান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের কালুহাটি পশ্চিমপাড়া গ্রামে। জানা যায়, ৯ বছর পূর্বে দুই ছেলে সন্তান ও এক মেয়ে সন্তান রেখে মারা যান কালুহাটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের আকছেদ আলী। এরপর সন্তানদের নিয়ে বেকায়দায় পড়েন বিধবা নারী কারিমন বেওয়া (৩৫)। খেয়ে না খেয়ে চলতে থাকে কারিমন বেওয়ার জীবনযুদ্ধ।
এরই মাঝে ঢাল হয়ে পাশে দাড়ান প্রতিবেশী সাবেক ইউপি সদস্য শুকচান্দ আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম। এক পর্যায়ে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন দুজনে। বিয়ের আশ্বাসে একাধিকবার অবৈধ শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। সম্পর্কের জেরে গর্ভবতী হয়ে পড়েন ওই বিধাব নারী। গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করে ব্যর্থ হন সাইফুল ইসলাম। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতেই এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন কারিমন বেগম।
বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ওই নারী নিজ বাড়িতেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কারিমন বলেন, ২০১৬ সালে আমার স্বামী আকছেদ মারা যান। দুই ছেলে ও এক কন্যা নিয়ে খেয়ে না খেয়ে চলছিলাম। সাইফুল ইসলাম বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সাথে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে আমি গর্ভবতী হই। সে আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বলে। আজকে আমার একটি পুত্র সন্তান হয়েছে। বিয়ে করার কথা বলে সাইফুল আমার সাথে যে অন্যায় করেছে, আমি তার বিচার চাই। এই নবজাতক সন্তানের পিতৃ পরিচয় চাই। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় বিশ বছর আগে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার তালহাড়া গ্রামের কাবির উদ্দিনের মেয়ে কারিমন বেগমের সঙ্গে কালুহাটি পশ্চিম পাড়া গ্রামের আকছেদ আলীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর দুই ছেলে সন্তান ও এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন কারিমন।
বর্তমানে তার বড় ছেলে উচ্চ মাধ্যমিক ২য় বর্ষের ছাত্র, মেজ ছেলে ৮ম শ্রেণি ও মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন। এ ঘটনার সত্যতা জানতে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী নির্দোষ, আমার স্বামীর নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। কারিমন বেগমের একাধিক মানুষের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। ইউপি সদস্য শামীম সরদার জানান, আকছেদ আলী মারা যাওয়ার পরে তার বিধবা স্ত্রী নিজ বাড়িতেই পুত্র সন্তান জন্ম দেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কারিমনের ভাসুরের ছেলে মাসুদ রানা (৫০) বলেন, চাচা মারা যাওয়ার পর প্রায় প্রতিদিন রাতে চাচির বাড়ির আশে পাশে ঘুরাফিরা করতে দেখা যেত অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে। সাইফুল যে অন্যায়টা করেছে, আমরা তার বিচার চাই ও নবজাতক সন্তানের পিতৃ পরিচয় চাই। চারঘাট মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি রাতেই জানতে পেরেছি। কেউ কোন অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 

























