বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় জামায়াত আমীরের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

নওগাঁর এনায়েতপুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষক ও সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোনায়েম হোসাইনের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মাওলানা মোনায়েমকে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন নির্ধারণ করেছে জামায়াত।
তবে অভিযোগ উঠার পর মাওলানা মোনায়েমকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দেওয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদের দলীয় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার মুহাম্মদ আবদুর রাকিব।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ছাত্রীদের যৌন হয়রানির বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা মাওলানা মোনায়েমের পোস্টার সম্বলিত ছবিতে জুতার মালা পরিয়ে বিক্ষোভ করেছে।
দশম শ্রেণির ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর অভিযোগ, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে বৃষ্টি হচ্ছিল। এসময় সে ক্লাসে একা ছিলো। মাওলানা মোনায়েম হোসাইন ক্লাস নিতে এসে একা পেয়ে তাকে বোরকার হিজাব খুলতে বলে শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করেন। আরেকদিন একা পেয়ে জোরপূর্বক চুম্বন করেন তিনি।
পরে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী এ ঘটনা সহপাঠীদের জানালে একইভাবে আরও কয়েকজন ছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার বলে জানান। পরে ওই শিক্ষকের শাস্তি দাবিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
দশম শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন ‌‘আমাদের ষষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির অনেক ছাত্রীকে মোনায়েম স্যার যৌন হয়রানি করেছেন। এতদিন ভয়ে কেউই প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। এখন আমরা যৌথভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছি। মাদরাসা সুপারকে অভিযোগ করার পরও তিনি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।’
মাদরাসার শিক্ষক সালেক রহমান বলেন, ‘নওগাঁ সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর হওয়ার পাশাপাশি এ উপজেলায় জামায়াত মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোনায়েম হোসাইন। তাই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাদরাসা সুপারকে হাতের পুতুলের মতো নাচান তিনি। একের পর এক ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করতে মাদরাসায় ছাত্রীদের শাখা আলাদা করেছেন মোনায়েম হোসাইন। এবতেদায়ি শিক্ষক হয়েও নিয়ম বহির্ভূতভাবে তিনি ষষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির ছাত্রীদের ক্লাস নেন। মুখোশ উন্মোচন হওয়ার পর থেকে তিনি মাদরাসায় আসছেন না। ছাত্র-ছাত্রীরা তার পোস্টারে জুতা পেটাসহ জুতার মালা পরিয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা মোনায়েম হোসাইন বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হওয়ায় আমার ইমেজ নষ্ট করতে মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। ছাত্রীদের অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’
এদিকে, রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলা জামায়াতের জরুরি সভায় নৈতিক স্খলনজনিত কারণে মাওলানা মোনায়েমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার মুহাম্মদ আবদুর রাকিব বলেন, মোনায়েন হোসাইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরপরই ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। যেখানে মোনায়েম হোসাইনের নৈতিক স্খলন হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে এনায়েতপুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষকদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টিও ওঠে এসেছে। ওইসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের। এখন থেকে মোনায়েম হোসাইনের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক

নওগাঁয় জামায়াত আমীরের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশিত সময় : ১২:১১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫
নওগাঁর এনায়েতপুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষক ও সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোনায়েম হোসাইনের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মাওলানা মোনায়েমকে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন নির্ধারণ করেছে জামায়াত।
তবে অভিযোগ উঠার পর মাওলানা মোনায়েমকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দেওয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদের দলীয় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার মুহাম্মদ আবদুর রাকিব।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর ছাত্রীদের যৌন হয়রানির বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা মাওলানা মোনায়েমের পোস্টার সম্বলিত ছবিতে জুতার মালা পরিয়ে বিক্ষোভ করেছে।
দশম শ্রেণির ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর অভিযোগ, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে বৃষ্টি হচ্ছিল। এসময় সে ক্লাসে একা ছিলো। মাওলানা মোনায়েম হোসাইন ক্লাস নিতে এসে একা পেয়ে তাকে বোরকার হিজাব খুলতে বলে শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করেন। আরেকদিন একা পেয়ে জোরপূর্বক চুম্বন করেন তিনি।
পরে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী এ ঘটনা সহপাঠীদের জানালে একইভাবে আরও কয়েকজন ছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার বলে জানান। পরে ওই শিক্ষকের শাস্তি দাবিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
দশম শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন ‌‘আমাদের ষষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির অনেক ছাত্রীকে মোনায়েম স্যার যৌন হয়রানি করেছেন। এতদিন ভয়ে কেউই প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। এখন আমরা যৌথভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছি। মাদরাসা সুপারকে অভিযোগ করার পরও তিনি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।’
মাদরাসার শিক্ষক সালেক রহমান বলেন, ‘নওগাঁ সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর হওয়ার পাশাপাশি এ উপজেলায় জামায়াত মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোনায়েম হোসাইন। তাই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাদরাসা সুপারকে হাতের পুতুলের মতো নাচান তিনি। একের পর এক ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করতে মাদরাসায় ছাত্রীদের শাখা আলাদা করেছেন মোনায়েম হোসাইন। এবতেদায়ি শিক্ষক হয়েও নিয়ম বহির্ভূতভাবে তিনি ষষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির ছাত্রীদের ক্লাস নেন। মুখোশ উন্মোচন হওয়ার পর থেকে তিনি মাদরাসায় আসছেন না। ছাত্র-ছাত্রীরা তার পোস্টারে জুতা পেটাসহ জুতার মালা পরিয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা মোনায়েম হোসাইন বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হওয়ায় আমার ইমেজ নষ্ট করতে মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। ছাত্রীদের অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’
এদিকে, রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলা জামায়াতের জরুরি সভায় নৈতিক স্খলনজনিত কারণে মাওলানা মোনায়েমকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার মুহাম্মদ আবদুর রাকিব বলেন, মোনায়েন হোসাইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরপরই ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। যেখানে মোনায়েম হোসাইনের নৈতিক স্খলন হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে এনায়েতপুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষকদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টিও ওঠে এসেছে। ওইসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের। এখন থেকে মোনায়েম হোসাইনের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই।