শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কবরের মাটি নিয়ে বিরোধে একজন নিহত

রংপুরের তারাগঞ্জে কবরের মাটি তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতরভাবে আহত এক ব্যক্তি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে মারা গেছেন। নিহতের নাম খালেকুজ্জামান।

শনিবার সকালে সকাল আটটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার ভোরেই তিনি মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগী পরিবারের বরাতে জানা গেছে, উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কিসামত মেনানগর বড়বাড়ি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিবাদ ছিল আবদুল জব্বারের পরিবারের সঙ্গে খালেকুজ্জামানের পরিবারের। শুক্রবার ফজরের নামাজ শেষে আবদুল ছালেক (নিহতের ভাই) বাড়ির পাশে তাঁদের দাদির কবর জিয়ারত করতে গেলে দেখা যায়, কবরের মাটি তুলে নেওয়া হয়েছে -এ নিয়ে তার সঙ্গে আবদুল জব্বারের ছেলে বাবু মিয়া-এর কথা-কাটাকাটি হয়। সূত্রে বলা হয়, একপর্যায়ে বাবু মিয়া, তার ভাই লেবু মিয়া, দুলাল মিয়া ও চান মিয়া মিলে আবদুল ছালেককে মারধর করেন।

খবর পেয়ে ছুটে যান খালেকুজ্জামান ও মাহবুবুর রহমান; তখনও তারা হামলার শিকার হন। বর্ণিত অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় খালেকুজ্জামানের মাথায় খুন্তি দিয়ে আঘাত করা হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেলে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল আটটায় খালেকুজ্জামানের মৃত্যু হয়। নিহত খালেকুজ্জামানের মা ছালেমা বেগম কান্নায় জ্ঞান হারিয়েও পরে জ্ঞান ফিরে পান ও কাঁদতে কাঁদতে ঘটনার ন্যায্য বিচারের দাবি করেন।

প্রতিবেশীরা জানান, খালেকুজ্জামানের সহায়ক-সম্পদ শুধু ৩০ শতক জমি- আর কেবল দিনমজুরি করে স্ত্রী, দুই সন্তানসহ পাঁচ সন্তানের সংসার চালাতেন; এখন পুরো পরিবার দিশাহীন। নিহতের ভাতিজা জান্নাতুল ইসলাম বলেন, “আমার নির্দোষ চাচাকে মেরে ফেলেছে, আমরা হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি চাই।” তারাগঞ্জ থানার ওসি এমএ ফারুক জানান, এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লাশের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে; ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পরবর্তীতে জানানো হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কবরের মাটি নিয়ে বিরোধে একজন নিহত

প্রকাশিত সময় : ১০:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

রংপুরের তারাগঞ্জে কবরের মাটি তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতরভাবে আহত এক ব্যক্তি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে মারা গেছেন। নিহতের নাম খালেকুজ্জামান।

শনিবার সকালে সকাল আটটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার ভোরেই তিনি মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগী পরিবারের বরাতে জানা গেছে, উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কিসামত মেনানগর বড়বাড়ি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিবাদ ছিল আবদুল জব্বারের পরিবারের সঙ্গে খালেকুজ্জামানের পরিবারের। শুক্রবার ফজরের নামাজ শেষে আবদুল ছালেক (নিহতের ভাই) বাড়ির পাশে তাঁদের দাদির কবর জিয়ারত করতে গেলে দেখা যায়, কবরের মাটি তুলে নেওয়া হয়েছে -এ নিয়ে তার সঙ্গে আবদুল জব্বারের ছেলে বাবু মিয়া-এর কথা-কাটাকাটি হয়। সূত্রে বলা হয়, একপর্যায়ে বাবু মিয়া, তার ভাই লেবু মিয়া, দুলাল মিয়া ও চান মিয়া মিলে আবদুল ছালেককে মারধর করেন।

খবর পেয়ে ছুটে যান খালেকুজ্জামান ও মাহবুবুর রহমান; তখনও তারা হামলার শিকার হন। বর্ণিত অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় খালেকুজ্জামানের মাথায় খুন্তি দিয়ে আঘাত করা হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেলে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল আটটায় খালেকুজ্জামানের মৃত্যু হয়। নিহত খালেকুজ্জামানের মা ছালেমা বেগম কান্নায় জ্ঞান হারিয়েও পরে জ্ঞান ফিরে পান ও কাঁদতে কাঁদতে ঘটনার ন্যায্য বিচারের দাবি করেন।

প্রতিবেশীরা জানান, খালেকুজ্জামানের সহায়ক-সম্পদ শুধু ৩০ শতক জমি- আর কেবল দিনমজুরি করে স্ত্রী, দুই সন্তানসহ পাঁচ সন্তানের সংসার চালাতেন; এখন পুরো পরিবার দিশাহীন। নিহতের ভাতিজা জান্নাতুল ইসলাম বলেন, “আমার নির্দোষ চাচাকে মেরে ফেলেছে, আমরা হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি চাই।” তারাগঞ্জ থানার ওসি এমএ ফারুক জানান, এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লাশের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে; ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পরবর্তীতে জানানো হবে।