মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর মোহনপুরে অতিবৃষ্টিতে নুয়ে পড়েছে আমন ধান, বিপাকে কৃষকরা

  • মোহনপুর
  • প্রকাশিত সময় : ১০:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮৩

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে রোপা আমন ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। ফলন ঘরে তোলার আগমুহূর্তে আধাপাকা ধান মাটিতে মিশে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

শনিবার বিকেলে মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪ হেক্টর জমির ধানসহ মোট ১০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে অনেক জমিতে এখনো পানি জমে থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করতে সময় লাগবে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩,৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সোনালি হয়ে আসা ধানের খেতগুলো বৃষ্টির চাপে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। বিঘার পর বিঘা জমির ধান নুয়ে পড়ায় ফলন ও গুণগত মান দুটিই ক্ষতির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় কৃষক রহিদুল ইসলাম, রুবেল হোসেন ও মন্টু বলেন, “আমরা আলু চাষে লোকসান গুনেছি, পানের দামও কম। এবার আশা ছিল আমন ধান দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেবো, কিন্তু শুক্রবার রাতভর টানা বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল। জমিতে গিয়ে দেখি ধান পানিতে ডুবে শুয়ে পড়েছে।”

তারা আরও বলেন, “ঋণ নিয়ে আবাদ করেছি। এখন ধান পাকার সময় বৃষ্টিতে শিষ ভিজে নষ্ট হচ্ছে। ফলন অর্ধেকেও নামতে পারে।”

অন্যদিকে, উপজেলা কৃষি অফিসের সরকারি ফেসবুক পেজে কৃষকদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে- “অতিবৃষ্টিতে ফসল রক্ষায় নালা কেটে পানি নিষ্কাশন করুন, বৃষ্টি থেমে গেলে ধানসহ অন্যান্য ফসলে ছত্রাকনাশক স্প্রে দিন, এবং প্রয়োজনে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিন।”

মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, “কৃষকদের আমরা পরামর্শ দিচ্ছি, যেসব ধান শুয়ে পড়েছে সেগুলো গোছা করে বেঁধে দিতে। এতে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজশাহীর মোহনপুরে অতিবৃষ্টিতে নুয়ে পড়েছে আমন ধান, বিপাকে কৃষকরা

প্রকাশিত সময় : ১০:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে রোপা আমন ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। ফলন ঘরে তোলার আগমুহূর্তে আধাপাকা ধান মাটিতে মিশে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

শনিবার বিকেলে মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪ হেক্টর জমির ধানসহ মোট ১০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে অনেক জমিতে এখনো পানি জমে থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করতে সময় লাগবে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩,৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সোনালি হয়ে আসা ধানের খেতগুলো বৃষ্টির চাপে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। বিঘার পর বিঘা জমির ধান নুয়ে পড়ায় ফলন ও গুণগত মান দুটিই ক্ষতির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় কৃষক রহিদুল ইসলাম, রুবেল হোসেন ও মন্টু বলেন, “আমরা আলু চাষে লোকসান গুনেছি, পানের দামও কম। এবার আশা ছিল আমন ধান দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেবো, কিন্তু শুক্রবার রাতভর টানা বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল। জমিতে গিয়ে দেখি ধান পানিতে ডুবে শুয়ে পড়েছে।”

তারা আরও বলেন, “ঋণ নিয়ে আবাদ করেছি। এখন ধান পাকার সময় বৃষ্টিতে শিষ ভিজে নষ্ট হচ্ছে। ফলন অর্ধেকেও নামতে পারে।”

অন্যদিকে, উপজেলা কৃষি অফিসের সরকারি ফেসবুক পেজে কৃষকদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে- “অতিবৃষ্টিতে ফসল রক্ষায় নালা কেটে পানি নিষ্কাশন করুন, বৃষ্টি থেমে গেলে ধানসহ অন্যান্য ফসলে ছত্রাকনাশক স্প্রে দিন, এবং প্রয়োজনে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিন।”

মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, “কৃষকদের আমরা পরামর্শ দিচ্ছি, যেসব ধান শুয়ে পড়েছে সেগুলো গোছা করে বেঁধে দিতে। এতে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।”