মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়ে ১২ দিন পর এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম মো. শিহাব (১৭)। তিনি উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের মিজানুর রহমান রিপনের ছেলে। চলতি বছর এসএসসি পাস করেছিলেন শিহাব।

শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ২০ অক্টোবর রাতে প্রেমিকার আত্মীয়-স্বজনদের হাতে তিনি নির্মম নির্যাতনের শিকার হন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেদিন রাতে শিহাব পার্শ্ববর্তী বান্দুড়িয়া এলাকায় তার প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যান। তিনি তেতুলতলা বাকের কাছাকাছি পৌঁছালে প্রেমিকার আত্মীয়-স্বজনরা তাকে তাড়া দেন। শিহাব পালিয়ে মাঠের ভেতর দিয়ে দৌড়াতে থাকেন এবং অন্ধকারে দিক হারিয়ে একটি পুকুরে পড়ে যান। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি পুকুরে নেমে তাকে তুলে এনে বেধড়ক মারধর করেন।

অচেতন অবস্থায় শিহাবকে ফেলে রেখে চলে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তিনি জ্ঞান ফিরে পাননি। ১২ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ২৪ অক্টোবর রাতে নিহতের বাবা মিজানুর রহমান রিপন নয়জনকে নামীয় আসামি এবং আরও আট-নয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে গোদাগাড়ী থানায় মামলা করেন।

নামীয় আসামিরা হলেন- রতন আলী (৩২), মো. কানন (২২), সুজন আলী (৩২), ইয়ার উদ্দীন (৩২), মো. শরীফ (৩৫), মো. রাব্বি (২৫), মো. হালিম (৩০) ও মো. কলিম (৩২)। তবে শনিবার দুপুর পর্যন্ত পুলিশ কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

গোদাগাড়ী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে শিহাব হামলার শিকার হয়েছিল। তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজশাহীতে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু

প্রকাশিত সময় : ১১:০৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়ে ১২ দিন পর এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম মো. শিহাব (১৭)। তিনি উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের মিজানুর রহমান রিপনের ছেলে। চলতি বছর এসএসসি পাস করেছিলেন শিহাব।

শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ২০ অক্টোবর রাতে প্রেমিকার আত্মীয়-স্বজনদের হাতে তিনি নির্মম নির্যাতনের শিকার হন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেদিন রাতে শিহাব পার্শ্ববর্তী বান্দুড়িয়া এলাকায় তার প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যান। তিনি তেতুলতলা বাকের কাছাকাছি পৌঁছালে প্রেমিকার আত্মীয়-স্বজনরা তাকে তাড়া দেন। শিহাব পালিয়ে মাঠের ভেতর দিয়ে দৌড়াতে থাকেন এবং অন্ধকারে দিক হারিয়ে একটি পুকুরে পড়ে যান। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি পুকুরে নেমে তাকে তুলে এনে বেধড়ক মারধর করেন।

অচেতন অবস্থায় শিহাবকে ফেলে রেখে চলে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তিনি জ্ঞান ফিরে পাননি। ১২ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ২৪ অক্টোবর রাতে নিহতের বাবা মিজানুর রহমান রিপন নয়জনকে নামীয় আসামি এবং আরও আট-নয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে গোদাগাড়ী থানায় মামলা করেন।

নামীয় আসামিরা হলেন- রতন আলী (৩২), মো. কানন (২২), সুজন আলী (৩২), ইয়ার উদ্দীন (৩২), মো. শরীফ (৩৫), মো. রাব্বি (২৫), মো. হালিম (৩০) ও মো. কলিম (৩২)। তবে শনিবার দুপুর পর্যন্ত পুলিশ কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

গোদাগাড়ী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে শিহাব হামলার শিকার হয়েছিল। তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।”