মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাঁজা বিক্রি করতে নিষেধ করায় খু’ন হন সাম্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাঁজা বিক্রি নিষেধ করার অভিযোগে ছুরিকাঘাতে হত্যা হওয়ার ঘটনায় সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে ডিবি পুলিশ। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা হলেন- মেহেদী হাসান, মো. রাব্বি (কবুতর রাব্বি), মো. রিপন (আকাশ), নাহিদ হাসান (পাপেল), মো. হৃদয় ইসলাম, মো. হারুন অর রশিদ (সোহাগ) এবং মো. রবিন। চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে- তামিম হাওলাদার, সম্রাট মল্লিক, পলাশ সরদার ও সুজন সরকার।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মেহেদীর নেতৃত্বে অভিযুক্তরা উদ্যানে চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা হিসেবে গাঁজা বিক্রি করত। বিক্রি শেষে তারা সব টাকা মেহেদীর কাছে জমা দিত। ঘটনার আগে মেহেদী অভিযোগ করেছিলেন, তার সহযোগীরা বিক্রির টাকা ঠিকমতো দিচ্ছে না। সাম্য ও তার বন্ধুদের বিক্রয় প্রতিহত করার কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

গত ১৩ মে রাত ১১টার দিকে সাম্য এবং তার দুই বন্ধু মোটরসাইকেলে উদ্যানে প্রবেশ করলে তারা কবুতর রাব্বিকে থামাতে চায়। এরপর ঘটনার স্থান গোল পুকুরের কাছে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মেহেদী, কবুতর রাব্বি, রিপন ও অন্যান্যরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সাম্যকে মেহেদীর নির্দেশে রানে এবং বুকে আঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় সাম্যকে বন্ধুরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অব্যাহৃত আসামিরা ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন কিন্তু সরাসরি হামলায় জড়িত ছিলেন না। তারা পরে আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পথচারী ও মোটরসাইকেল চালকদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, তারা হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসামিরা মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং নিহতকে হত্যার ঘটনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। আদালত চার্জশিটের ভিত্তিতে মামলা বিবেচনা করবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গাঁজা বিক্রি করতে নিষেধ করায় খু’ন হন সাম্য

প্রকাশিত সময় : ০৩:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাঁজা বিক্রি নিষেধ করার অভিযোগে ছুরিকাঘাতে হত্যা হওয়ার ঘটনায় সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে ডিবি পুলিশ। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা হলেন- মেহেদী হাসান, মো. রাব্বি (কবুতর রাব্বি), মো. রিপন (আকাশ), নাহিদ হাসান (পাপেল), মো. হৃদয় ইসলাম, মো. হারুন অর রশিদ (সোহাগ) এবং মো. রবিন। চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে- তামিম হাওলাদার, সম্রাট মল্লিক, পলাশ সরদার ও সুজন সরকার।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মেহেদীর নেতৃত্বে অভিযুক্তরা উদ্যানে চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা হিসেবে গাঁজা বিক্রি করত। বিক্রি শেষে তারা সব টাকা মেহেদীর কাছে জমা দিত। ঘটনার আগে মেহেদী অভিযোগ করেছিলেন, তার সহযোগীরা বিক্রির টাকা ঠিকমতো দিচ্ছে না। সাম্য ও তার বন্ধুদের বিক্রয় প্রতিহত করার কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

গত ১৩ মে রাত ১১টার দিকে সাম্য এবং তার দুই বন্ধু মোটরসাইকেলে উদ্যানে প্রবেশ করলে তারা কবুতর রাব্বিকে থামাতে চায়। এরপর ঘটনার স্থান গোল পুকুরের কাছে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মেহেদী, কবুতর রাব্বি, রিপন ও অন্যান্যরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সাম্যকে মেহেদীর নির্দেশে রানে এবং বুকে আঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় সাম্যকে বন্ধুরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ১২টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অব্যাহৃত আসামিরা ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন কিন্তু সরাসরি হামলায় জড়িত ছিলেন না। তারা পরে আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পথচারী ও মোটরসাইকেল চালকদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, তারা হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসামিরা মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং নিহতকে হত্যার ঘটনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। আদালত চার্জশিটের ভিত্তিতে মামলা বিবেচনা করবেন।