মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদেশে পাড়ি দিয়ে লা’শ হয়ে ফিরলেন বাগমারার আনামুল

ভ্যানচালক ইয়ানুস আলীর ছেলে আনামুল হক সৌদি আরবে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর আশা করেছিলেন। কিন্তু কেবল ১৪ দিন পর তিনি বাড়ি ফিরলেন লাশ হয়ে। তার মৃত্যুর পর এখন ঋণের বোঝা এবং স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দিশেহারা পরিবারের সদস্যরা।

রোববার দুপুরে আনামুল হকের লাশ নিজ গ্রাম, বাগমারার মাড়িয়া ইউনিয়নের গোয়ালপাড়ায় পৌঁছালে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী আতিক হোসেনের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান আনামুল। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি ‘আলী আবদুল্লাহ আল-মাকরামি কম’ নামে প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন।

কিন্তু ১ অক্টোবর সৌদি আরবের আফিফ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। ওই দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হন, যার মধ্যে আনামুল একমাত্র বাংলাদেশি ছিলেন। মৃত্যুর পর ১৪ দিন লাশ আফিফ শহরের একটি হাসপাতালের মর্গে ছিল এবং পরে দূতাবাসের সহায়তায় দেশে আনা হয়।

নিহতের বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ঋণ কইরা বেটাকে বিদেশ পাঠালাম, ভাবছিলাম অনেক টাকা লইয়া আসবে। এখন সব শেষ। বেটার বউ-ছাওয়াল নিয়া কীভাবে থাকমু।” স্ত্রী বিলকিস বানু জানান, ১৪ দিন স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না, পরে দূতাবাসে ফোন করে জানতে পারি, তিনি মারা গেছেন।

স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী আতিক হোসেন মৃত্যুর পরও তাঁদের কাছ থেকে টাকা দাবি করছেন। এই বিষয়ে আতিক হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিদেশে পাড়ি দিয়ে লা’শ হয়ে ফিরলেন বাগমারার আনামুল

প্রকাশিত সময় : ০৫:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

ভ্যানচালক ইয়ানুস আলীর ছেলে আনামুল হক সৌদি আরবে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর আশা করেছিলেন। কিন্তু কেবল ১৪ দিন পর তিনি বাড়ি ফিরলেন লাশ হয়ে। তার মৃত্যুর পর এখন ঋণের বোঝা এবং স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দিশেহারা পরিবারের সদস্যরা।

রোববার দুপুরে আনামুল হকের লাশ নিজ গ্রাম, বাগমারার মাড়িয়া ইউনিয়নের গোয়ালপাড়ায় পৌঁছালে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী আতিক হোসেনের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান আনামুল। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি ‘আলী আবদুল্লাহ আল-মাকরামি কম’ নামে প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন।

কিন্তু ১ অক্টোবর সৌদি আরবের আফিফ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। ওই দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হন, যার মধ্যে আনামুল একমাত্র বাংলাদেশি ছিলেন। মৃত্যুর পর ১৪ দিন লাশ আফিফ শহরের একটি হাসপাতালের মর্গে ছিল এবং পরে দূতাবাসের সহায়তায় দেশে আনা হয়।

নিহতের বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ঋণ কইরা বেটাকে বিদেশ পাঠালাম, ভাবছিলাম অনেক টাকা লইয়া আসবে। এখন সব শেষ। বেটার বউ-ছাওয়াল নিয়া কীভাবে থাকমু।” স্ত্রী বিলকিস বানু জানান, ১৪ দিন স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না, পরে দূতাবাসে ফোন করে জানতে পারি, তিনি মারা গেছেন।

স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী আতিক হোসেন মৃত্যুর পরও তাঁদের কাছ থেকে টাকা দাবি করছেন। এই বিষয়ে আতিক হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।