রাজশাহীতে বিচারকের ছেলে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত লিমন মিয়ার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করায় আদালতে উপস্থিত হয়ে ব্যাখা দিয়েছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। এসময় তিনি বিবিধ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতির আবেদন জানান। আদালত এবিষয়ে আগামী ১ ডিসেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য্য করেছেন।
রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ মাসুম জানান, রাজশাহীতে মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবদুর রহমানের ছেলের হত্যাকাণ্ড ও স্ত্রীকে আহত করার ঘটনায় হেফাজতে থাকা অবস্থায় লিমন মিয়ার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করায় পুলিশ কমিশনারকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবার সকালে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান সাদা পোশাকে একটি প্রাইভেট কারে রাজশাহী মেট্রোপলিটন আদালত-৫ এ হাজির হন। পুলিশ কমিশনারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জমসেদ আলী আদালতকে অবহিত করেন, আসামির বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানানো হয় আদালতে।
মেট্রোপলিটন আদালত-৫ এর বিচারক আশিকুর রহমান শুনানী শেষে আগামী ১ ডিসেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য্য করেছেন।
গত ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার নগরীর তেরখাদিয়া ডাবতলায় এলাকায় বিচারকের ভাড়া ফ্লাটে অভিযুক্ত লিমন মিয়া কৌশলে প্রবেশ করে তার নবম শ্রেণি পড়ুয়া পুত্র তাওসিফ রহমান সুমনকে ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত ও শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এছাড়া বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসিকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত লিমন মিয়াকে পুলিশ আটক করে এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অভিযুক্ত লিমন মিয়া হাসপাতালো পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মিডিয়ায় বক্তব্য প্রদান করেন। যা আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বনাম রাষ্ট্র ৩৯ বিএলডি ৪৭০ সহ বিভিন্ন মামলায় প্রদত্ত সুপ্রিম কোর্ট এর নির্দেশনার সুস্পষ্ট লংঘন। পরে আদালত এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে পুলিশ কমিশনারকে আদালতে তলব করেন।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 

























