শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

সুপার ওভারে ভারতকে হারিয়ে রাইজিং স্টার এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল বাংলাদেশ। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ভারতের ‘এ’ দলকে হারিয়ে ফাইনালে যায় বাংলাদেশের ‘এ’ দল।

কাতারের রাজধানী দোহায় ম্যাচের নির্ধারিত ২০ ওভারে দুই দলের স্কোর দাঁড়ায় ১৯৪ রানে। পরে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

সুপার ওভারে আগে ব্যাট করতে নামে ভারত। পর পর দুই বলে ২ উইকেট হারিয়ে কোনো রান করতে পারেনি দলটি। ফলে ১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে নিজের উইকেট দিয়ে আসেন ইয়াসির আলী রাব্বি। সহজ লক্ষ্যও কঠিন করে তোলার পর ওয়াইড পেয়ে জিতে যায় বাংলাদেশ।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে ঝড় তোলেন জিসান ও হাবিবুর। পঞ্চম ওভারে দলীয় ৪৩ রানে জিসানের বিদায়ে ভাঙ্গে এই জুটি। ১৪ বলে ২ ছক্কা ও ২ চারের মারে ২৬ রানে থামে জিসানের ইনিংস। এরপর একাই লড়াই চালিয়ে যান হাবিবুর। ৪৬ বলে ৬৫ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে দলের ভিত গড়ে দেন তিনি। যদিও তার যোগ্য সঙ্গী হতে পারেননি কেউ। আব্রার ১৯ বলে ১৩, আকবর ১০ বলে ৯ আর রনি ২ বলে শূন্য রানে আউট হন।

হাবিবুরের বিদায়ের পর তাণ্ডব চালান এসএম মেহরব হোসেন ও ইয়াসির আলী। এই জুটির বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ইনিংসের শেষ ১২ বলে বাংলাদেশ পায় অবিশ্বাস্য ৫০ রান। মাত্র ১৮ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে দলকে বড় পুঁজি এনে দেন মেহরব। ৯ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন ইয়াসির। বাংলাদেশ ‘এ’ দল করে ৬ উইকেটে ১৯৪।

ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন বিজয়কুমার। ৪ ওভারে উইকেটশূন্য থেকে তার খরচ ৫১ রান। সবচেয়ে মিতব্যয়ী ছিলেন সুযশ শর্মা। ৪ ওভারে ১৭ রান খরচায় ১ উইকেট নেন তিনি। ৩৯ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন গুরজাপনিত সিং।

১৯৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ভারতও কড়া জবাব দেয়। বৈভব সূর্যবংশী (১৫ বলে ৩৮) এবং প্রিয়াংশ আর্যর (২৩ বলে ৪৪) ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতেই চালকের আসনে বসে ভারত। শেষদিকে জিতেশ শর্মা (৩৩) ও আশুতোষ শর্মা (১৩) চেষ্টা চালালেও বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপে পড়ে তারা।

শেষ বলে ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪ রান, কিন্তু আকবরের বলে ৩ রান নিলে ম্যাচটি গড়ায় সুপার ওভারে। বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন রাকিবুল হাসান এবং আবু হায়দার রনি। ১টি করে উইকেট তোলেন রিপন মন্ডল এবং আবদুল গাফফার সাকলাইন।

রোববার (২৩ নভেম্বর) হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মধ্যে যে দল জিতবে ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫

সুপার ওভারে ভারতকে হারিয়ে রাইজিং স্টার এশিয়া কাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল বাংলাদেশ। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ভারতের ‘এ’ দলকে হারিয়ে ফাইনালে যায় বাংলাদেশের ‘এ’ দল।

কাতারের রাজধানী দোহায় ম্যাচের নির্ধারিত ২০ ওভারে দুই দলের স্কোর দাঁড়ায় ১৯৪ রানে। পরে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

সুপার ওভারে আগে ব্যাট করতে নামে ভারত। পর পর দুই বলে ২ উইকেট হারিয়ে কোনো রান করতে পারেনি দলটি। ফলে ১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে নিজের উইকেট দিয়ে আসেন ইয়াসির আলী রাব্বি। সহজ লক্ষ্যও কঠিন করে তোলার পর ওয়াইড পেয়ে জিতে যায় বাংলাদেশ।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে ঝড় তোলেন জিসান ও হাবিবুর। পঞ্চম ওভারে দলীয় ৪৩ রানে জিসানের বিদায়ে ভাঙ্গে এই জুটি। ১৪ বলে ২ ছক্কা ও ২ চারের মারে ২৬ রানে থামে জিসানের ইনিংস। এরপর একাই লড়াই চালিয়ে যান হাবিবুর। ৪৬ বলে ৬৫ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে দলের ভিত গড়ে দেন তিনি। যদিও তার যোগ্য সঙ্গী হতে পারেননি কেউ। আব্রার ১৯ বলে ১৩, আকবর ১০ বলে ৯ আর রনি ২ বলে শূন্য রানে আউট হন।

হাবিবুরের বিদায়ের পর তাণ্ডব চালান এসএম মেহরব হোসেন ও ইয়াসির আলী। এই জুটির বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ইনিংসের শেষ ১২ বলে বাংলাদেশ পায় অবিশ্বাস্য ৫০ রান। মাত্র ১৮ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে দলকে বড় পুঁজি এনে দেন মেহরব। ৯ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন ইয়াসির। বাংলাদেশ ‘এ’ দল করে ৬ উইকেটে ১৯৪।

ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন বিজয়কুমার। ৪ ওভারে উইকেটশূন্য থেকে তার খরচ ৫১ রান। সবচেয়ে মিতব্যয়ী ছিলেন সুযশ শর্মা। ৪ ওভারে ১৭ রান খরচায় ১ উইকেট নেন তিনি। ৩৯ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন গুরজাপনিত সিং।

১৯৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ভারতও কড়া জবাব দেয়। বৈভব সূর্যবংশী (১৫ বলে ৩৮) এবং প্রিয়াংশ আর্যর (২৩ বলে ৪৪) ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতেই চালকের আসনে বসে ভারত। শেষদিকে জিতেশ শর্মা (৩৩) ও আশুতোষ শর্মা (১৩) চেষ্টা চালালেও বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপে পড়ে তারা।

শেষ বলে ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪ রান, কিন্তু আকবরের বলে ৩ রান নিলে ম্যাচটি গড়ায় সুপার ওভারে। বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন রাকিবুল হাসান এবং আবু হায়দার রনি। ১টি করে উইকেট তোলেন রিপন মন্ডল এবং আবদুল গাফফার সাকলাইন।

রোববার (২৩ নভেম্বর) হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মধ্যে যে দল জিতবে ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।