শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ‎মামলায় সহপাঠীসহ তিনজন রিমান্ডে

আশুলিয়ার গণ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সহপাঠীসহ তিন আসামির বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রিমান্ডে নেওয়াদের মধ্যে গণ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাজুল ইসলাম তাজ ও শ্রাবণ সাহা উৎসের তিন দিন, অন্তু দেওয়ানের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আর আসামি দেলোয়ার ভূঁইয়ার রিমান্ড শুনানির দিন রোববার (৭ ডিসেম্বর) ধার্য করেছেন আদালত। আসামিদের মধ্যে অন্তু দেওয়ান ক্যাম্পাসের সিনিয়র। অপর তিন আসামি ভিকটিমের সহপাঠী।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ এ আদেশ দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার ইন্সপেক্টর সফিকুল ইসলাম সুমন আসামিদের মধ্যে দেলোয়ারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ডের আবেদন করেন। এ ছাড়া অপর তিন আসামির সাত দিন করে রিমান্ড চেয়েও আবেদন করেন তিনি। কিন্তু আসামি দেলোয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

‎বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট এস এইচ কৃষ্ণ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানিতে বলেন, ‘তারা শুধু ধর্ষণই করেনি, ভিডিও ধারণ করে ভাইরাল করার হুমকি দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কাজ হয়নি। তাদের (আসামিদের) কাছে শিক্ষক, শিক্ষিকা, প্রশাসন জিম্মি। আইন বিভাগের ছাত্র হয়ে তারা এ অন্যায় করেছে। এরা আইনজীবী হয়ে আদালতে আসলে কি করবে। তাদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’

আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট রায়হানুর রশীদসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। পরে আদালত এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে পিকনিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ওই ছাত্রীকে আশুলিয়ার ফুলেরটেক এলাকায় নিয়ে যায় তার সহপাঠিরা। পথিমধ্যে কোমল পানীয় ‘মোজোর’ সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ালে কিছুক্ষণ পর অচেতন হয়ে যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে জ্ঞান ফিরলে আসামিদের ফুলের টেকের মেসে নিজেকে দেখেন ভুক্তভোগী এবং বুঝতে পারেন তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে। এসময় ওই শিক্ষার্থী ডাকচিৎকার শুরু করলে আসামিরা ধারণ করা ভিডিও ও অশালীন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াসহ এসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকি দেয়। ঘটনার পর থেকে জিম্মি করে একাধিক ধাপে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৯৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।

গত ৪ নভেম্বর তাকে আবারও শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসামিরা। পরে গত ৬ নভেম্বর আসামি অন্তু দেওয়ানের নির্দেশনায় হুমকি ও অন্তু দেওয়ানের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তাদের প্রস্তাবে রাজী না হলে ভুক্তভোগীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ এলোপাথারী চড়-থাপ্পর দিয়ে টেনেহিঁচড়ে অন্তু দেওয়ানের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় আবারও বোতলে থাকা বিষাক্ত নেশাজাতীয় পানীয় ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক খেতে বাধ্য করে। ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় কোনমতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে গুরুত্বর অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়েন। পরে সহপাঠী ও শিক্ষকরা গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেলে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বজন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিলে আসামিরা আরও চড়াও হন। গত ২৬ নভেম্বর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রেখে অভিযোগ তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় আসামিরা। এ ঘটনায় গত ২ ডিসেম্বর ওই শিক্ষার্থী আশুলিয়া থানায় মামলা করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আশুলিয়ায় শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ‎মামলায় সহপাঠীসহ তিনজন রিমান্ডে

প্রকাশিত সময় : ১১:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

আশুলিয়ার গণ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সহপাঠীসহ তিন আসামির বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রিমান্ডে নেওয়াদের মধ্যে গণ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাজুল ইসলাম তাজ ও শ্রাবণ সাহা উৎসের তিন দিন, অন্তু দেওয়ানের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আর আসামি দেলোয়ার ভূঁইয়ার রিমান্ড শুনানির দিন রোববার (৭ ডিসেম্বর) ধার্য করেছেন আদালত। আসামিদের মধ্যে অন্তু দেওয়ান ক্যাম্পাসের সিনিয়র। অপর তিন আসামি ভিকটিমের সহপাঠী।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ এ আদেশ দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার ইন্সপেক্টর সফিকুল ইসলাম সুমন আসামিদের মধ্যে দেলোয়ারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ডের আবেদন করেন। এ ছাড়া অপর তিন আসামির সাত দিন করে রিমান্ড চেয়েও আবেদন করেন তিনি। কিন্তু আসামি দেলোয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

‎বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট এস এইচ কৃষ্ণ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানিতে বলেন, ‘তারা শুধু ধর্ষণই করেনি, ভিডিও ধারণ করে ভাইরাল করার হুমকি দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কাজ হয়নি। তাদের (আসামিদের) কাছে শিক্ষক, শিক্ষিকা, প্রশাসন জিম্মি। আইন বিভাগের ছাত্র হয়ে তারা এ অন্যায় করেছে। এরা আইনজীবী হয়ে আদালতে আসলে কি করবে। তাদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’

আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট রায়হানুর রশীদসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। পরে আদালত এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে পিকনিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ওই ছাত্রীকে আশুলিয়ার ফুলেরটেক এলাকায় নিয়ে যায় তার সহপাঠিরা। পথিমধ্যে কোমল পানীয় ‘মোজোর’ সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ালে কিছুক্ষণ পর অচেতন হয়ে যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে জ্ঞান ফিরলে আসামিদের ফুলের টেকের মেসে নিজেকে দেখেন ভুক্তভোগী এবং বুঝতে পারেন তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে। এসময় ওই শিক্ষার্থী ডাকচিৎকার শুরু করলে আসামিরা ধারণ করা ভিডিও ও অশালীন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াসহ এসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকি দেয়। ঘটনার পর থেকে জিম্মি করে একাধিক ধাপে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৯৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।

গত ৪ নভেম্বর তাকে আবারও শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসামিরা। পরে গত ৬ নভেম্বর আসামি অন্তু দেওয়ানের নির্দেশনায় হুমকি ও অন্তু দেওয়ানের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তাদের প্রস্তাবে রাজী না হলে ভুক্তভোগীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ এলোপাথারী চড়-থাপ্পর দিয়ে টেনেহিঁচড়ে অন্তু দেওয়ানের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় আবারও বোতলে থাকা বিষাক্ত নেশাজাতীয় পানীয় ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক খেতে বাধ্য করে। ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় কোনমতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে গুরুত্বর অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়েন। পরে সহপাঠী ও শিক্ষকরা গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেলে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বজন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিলে আসামিরা আরও চড়াও হন। গত ২৬ নভেম্বর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রেখে অভিযোগ তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় আসামিরা। এ ঘটনায় গত ২ ডিসেম্বর ওই শিক্ষার্থী আশুলিয়া থানায় মামলা করে।