২০২৫ সালের শুরুতে একজন ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।
নয়াদিল্লি যখন বাংলাদেশের সম্ভাব্য পরবর্তী সরকার গঠনকারী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে চাইছে, তখন শফিকুর ২০২৫ সালের শুরুতে রহমান একজন ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার বিষটি নিশ্চিত করেন
রয়টার্সকে শফিকুর রহমান বলেন, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকেরা প্রকাশ্যে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও, ওই ভারতীয় কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা পালানোর পরও ভারতে অবস্থান করায় বিষয়টি উদ্বেগের। তার পতনের পর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারত শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারিত হয়।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের সকলের প্রতি একে অপরকে প্রতিও উন্মুক্ত হতে হবে। সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।’
শফিকুর রহমানের বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সকে সাড়া দেয়নি। তবে ভারত সরকারের একটি সূত্র বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানায় রয়টার্স।
এদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখি। আমরা কখনোই কোনো এক দেশের দিকে ঝুঁকে পড়তে আগ্রহী নই। বরং সবাইকে সম্মান করি এবং দেশগুলোর মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চাই।’
তিনি আরও বলেন, জামায়াতকে অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত কোনো সরকারই রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে ‘স্বস্তিতে’ থাকবে না। আওয়ামী লীগের সমর্থনে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন সাহাবুদ্দিন। দেশের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধান সাহাবুদ্দিন নিজেও চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে তিনি মেয়াদের মাঝপথে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।
বুধবার রয়টার্সের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন শফিকুর রহমানের অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি আর জটিল করতে চান না।
রয়টার্স জানায়, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের আগস্টে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া এক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জামায়াতের এই পুনরুত্থান ঘটে। হাসিনার আওয়ামী লীগ দল বর্তমানে নির্বাচনে নিষিদ্ধ। শেখ হাসিনা ছিলেন জামায়াতের কঠোর সমালোচক। তার শাসনামলে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত কথিত যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের একাধিক নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় যে যুদ্ধে জামায়াত পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
২০১৩ সালে একটি আদালত জামায়াতের গঠনতন্ত্র দেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের পরিপন্থী বলে রায় দেওয়ার পর দলটিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের আগস্টে জামায়াতের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 













