মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসান মারা গেছেন

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক এমপি, স্বরাষ্ট্র ও কৃষিমন্ত্রী এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) সাবেক মেয়র মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান (৮৯) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) গুলশানের নিজ বাসভবনে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ফরহাদ ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাজধানীতে নিজ বাসায়ই বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাদ জোহর টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা শেষে সন্তেষের নিজ বাড়িতে স্ত্রীর কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে।

মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ছিলেন একাধারে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, শিক্ষানুরাগী এবং টাঙ্গাইলের উন্নয়নের রূপকার। তাকে বলা হয় আধুনিক টাঙ্গাইলের স্থপতি, ঢাকার সৌন্দর্য বিনির্মাণের কারিগর এবং জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু। অসাধারণ মেধা, নেতৃত্বগুণ ও দেশপ্রেম দিয়ে তিনি টাঙ্গাইল তথা দেশের গর্ব হয়ে উঠেছিলেন। মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসানের মৃত্যুতে টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ফরহাদ ইকবাল বলেন, ‘তিনি ছিলেন একজন সমাজসেবক, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল মানুষ। শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তার মৃত্যুতে টাঙ্গাইল সদর একজন অভিভাবক হারাল।’

জানা যায়, তার পূর্বপুরুষদের মূল নিবাস ছিল দেলদুয়ার উপজেলার মুশুরিয়া গ্রামে। পরে তার দাদা জয়েন উদ্দিন শিকদার ব্রিটিশ জাহাজে চাকরি করতেন এবং চাকরিজীবন শেষে প্রাপ্ত জমির সুবাদে মাকোরকোলে বসতি স্থাপন করেন। সেখানেই তাদের পরিবার স্থায়ীভাবে গড়ে ওঠে। তার বাবা আসিম উদ্দিন ছিলেন এলাকায় অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৫৬ সালে বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৯ সালের ১৩ জুন তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন প্রাপ্ত হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধে কাশ্মীরের আখনুর সেক্টরে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

উল্লেখ্য, মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ১৯৩৬ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাকোরকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের শাসনামলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন এবং ২০১২ সালের উপনির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য হন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসান মারা গেছেন

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৭:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক এমপি, স্বরাষ্ট্র ও কৃষিমন্ত্রী এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) সাবেক মেয়র মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান (৮৯) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) গুলশানের নিজ বাসভবনে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ফরহাদ ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাজধানীতে নিজ বাসায়ই বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাদ জোহর টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা শেষে সন্তেষের নিজ বাড়িতে স্ত্রীর কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে।

মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ছিলেন একাধারে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, শিক্ষানুরাগী এবং টাঙ্গাইলের উন্নয়নের রূপকার। তাকে বলা হয় আধুনিক টাঙ্গাইলের স্থপতি, ঢাকার সৌন্দর্য বিনির্মাণের কারিগর এবং জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু। অসাধারণ মেধা, নেতৃত্বগুণ ও দেশপ্রেম দিয়ে তিনি টাঙ্গাইল তথা দেশের গর্ব হয়ে উঠেছিলেন। মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসানের মৃত্যুতে টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ফরহাদ ইকবাল বলেন, ‘তিনি ছিলেন একজন সমাজসেবক, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল মানুষ। শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তার মৃত্যুতে টাঙ্গাইল সদর একজন অভিভাবক হারাল।’

জানা যায়, তার পূর্বপুরুষদের মূল নিবাস ছিল দেলদুয়ার উপজেলার মুশুরিয়া গ্রামে। পরে তার দাদা জয়েন উদ্দিন শিকদার ব্রিটিশ জাহাজে চাকরি করতেন এবং চাকরিজীবন শেষে প্রাপ্ত জমির সুবাদে মাকোরকোলে বসতি স্থাপন করেন। সেখানেই তাদের পরিবার স্থায়ীভাবে গড়ে ওঠে। তার বাবা আসিম উদ্দিন ছিলেন এলাকায় অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৫৬ সালে বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৯ সালের ১৩ জুন তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন প্রাপ্ত হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধে কাশ্মীরের আখনুর সেক্টরে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

উল্লেখ্য, মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ১৯৩৬ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাকোরকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের শাসনামলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন এবং ২০১২ সালের উপনির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য হন।