বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পে স্কেল নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বসতে চান সরকারি কর্মচারীরা

সরকারি চাকরিজীবীরা বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেলের বিষয়ে মতবিনিময় করার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে আবেদন করেছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতির আহবায়ক ইসহাক কবীরের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল সিএসএফের কাছে এ আবেদন জমা দেন। তারা জানান, অনুমতি পেলে শিগগিরই এ সাক্ষাৎ হতে পারে

আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবী আদায় ঐক্য পরিষদ সচিবালয়ের বাইরে দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের সব কর্মচারি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট। এতে শিক্ষক-কর্মচারিসহ ২২ লাখ সরকারি কর্মচারি সম্পৃক্ত। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা সরকারের সব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত।

আরও বলা হয়, ২০১৫ সালের বৈষম্যমূলক পে স্কেল প্রদানের পর থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বৈষম্য নিরসনের জন্য বিভিন্ন সময় কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কিন্তু বিগত সরকার দাবি পূরণ দূরে থাক, সংগঠনের কথা আমলে না নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে জুলুম-অত্যাচার চালিয়েছে।

বর্তমান সময়ে বাজারমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, সেবা খাতের ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিবারের ভরণ-পোষণের ব্যয় বৃদ্ধির দরুণ ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারিরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাই চলমান জীবন বাস্তবতার নিরিখে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের সাত দফা দাবির বিষয়গুলো অবগতির জন্য সাক্ষাৎ করে তুলে ধরার অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছে।

সাত দফা দাবি:
১. ১:৪ অনুপাতে ১২ ধাপে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকায় বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। ইতোমধ্যে যাদের মূল বেতন শেষ ধাপে উন্নীত হয়েছে, তাদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি নিয়মিত করতে হবে।
২. ২০১৫ সালে পে-স্কেলের গেজেটে প্রত্যাহারকৃত তিনটি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালসহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনঃবহাল এবং সকল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান গ্রাচুইটি বা আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশের স্থলে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ ও পেনশন গ্রাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
৩. ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সব পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। অধস্তন আদালতের কর্মচারীদের বিচার বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে গণ্য করতে হবে। এছাড়া টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদ মর্যাদা দিতে হবে।
৪. কর্মরত কর্মচারীদের বেতন স্কেল শেষ ধাপে উন্নীত হওয়ায় বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে না বিধায় চাকরিতে কর্মরতদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হবে।
৫. বাজারমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে সব ভাতাদি পুনঃনির্ধারণ, সব কর্মচারিদের রেশন ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে।
৬. চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর ও অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করতে হবে।
৭. উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদধারিদের প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল এবং সিলেকশন গ্রেড প্রদান করার অবকাশ নেই মর্মে অর্থ মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত বৈষম্যমূলক আদেশ বাতিল করতে হবে।

দাবির বিষয়টি বিবেচনা করে বিএনপির সর্বোচ্চ অভিভাবক ও মানবিক গুণের গুণান্বিত বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে সরকারি কর্মচারীদের বর্ণিত দাবিসমূহ সাক্ষাত করে উপস্থাপনের তারিখ ও সময় প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে আবেদনে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পে স্কেল নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বসতে চান সরকারি কর্মচারীরা

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীরা বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেলের বিষয়ে মতবিনিময় করার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে আবেদন করেছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতির আহবায়ক ইসহাক কবীরের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল সিএসএফের কাছে এ আবেদন জমা দেন। তারা জানান, অনুমতি পেলে শিগগিরই এ সাক্ষাৎ হতে পারে

আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবী আদায় ঐক্য পরিষদ সচিবালয়ের বাইরে দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের সব কর্মচারি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট। এতে শিক্ষক-কর্মচারিসহ ২২ লাখ সরকারি কর্মচারি সম্পৃক্ত। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা সরকারের সব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত।

আরও বলা হয়, ২০১৫ সালের বৈষম্যমূলক পে স্কেল প্রদানের পর থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বৈষম্য নিরসনের জন্য বিভিন্ন সময় কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কিন্তু বিগত সরকার দাবি পূরণ দূরে থাক, সংগঠনের কথা আমলে না নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে জুলুম-অত্যাচার চালিয়েছে।

বর্তমান সময়ে বাজারমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, সেবা খাতের ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিবারের ভরণ-পোষণের ব্যয় বৃদ্ধির দরুণ ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারিরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাই চলমান জীবন বাস্তবতার নিরিখে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের সাত দফা দাবির বিষয়গুলো অবগতির জন্য সাক্ষাৎ করে তুলে ধরার অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছে।

সাত দফা দাবি:
১. ১:৪ অনুপাতে ১২ ধাপে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকায় বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। ইতোমধ্যে যাদের মূল বেতন শেষ ধাপে উন্নীত হয়েছে, তাদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি নিয়মিত করতে হবে।
২. ২০১৫ সালে পে-স্কেলের গেজেটে প্রত্যাহারকৃত তিনটি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালসহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনঃবহাল এবং সকল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান গ্রাচুইটি বা আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশের স্থলে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ ও পেনশন গ্রাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।
৩. ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সব পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। অধস্তন আদালতের কর্মচারীদের বিচার বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে গণ্য করতে হবে। এছাড়া টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদ মর্যাদা দিতে হবে।
৪. কর্মরত কর্মচারীদের বেতন স্কেল শেষ ধাপে উন্নীত হওয়ায় বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে না বিধায় চাকরিতে কর্মরতদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হবে।
৫. বাজারমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে সব ভাতাদি পুনঃনির্ধারণ, সব কর্মচারিদের রেশন ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে।
৬. চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর ও অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করতে হবে।
৭. উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদধারিদের প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল এবং সিলেকশন গ্রেড প্রদান করার অবকাশ নেই মর্মে অর্থ মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত বৈষম্যমূলক আদেশ বাতিল করতে হবে।

দাবির বিষয়টি বিবেচনা করে বিএনপির সর্বোচ্চ অভিভাবক ও মানবিক গুণের গুণান্বিত বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে সরকারি কর্মচারীদের বর্ণিত দাবিসমূহ সাক্ষাত করে উপস্থাপনের তারিখ ও সময় প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে আবেদনে।