শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আওয়ামীপন্থি শিক্ষককে দৌড়ে ধরা নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষককে দৌড়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চবির আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান মুহাম্মদ রোমানকে কয়েকজন ছাত্র দৌড়ে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি ও নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমানকে দেখা গেছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এরপরই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দিনভর আলোচনা-সমালোচনা চলে। হাসান মুহাম্মদ রোমান ক্যাম্পাসে আওয়ামী ও বামপন্থী শিক্ষকদের রাজনৈতিক সংগঠন হলুদ দলের একাংশের সঙ্গে যুক্ত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন আইন অনুষদের গ্যালারিতে পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন হাসান মুহাম্মদ। তার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সমর্থন, শিক্ষার্থীদের নামে মিথ্যা মামলা ও হেনস্তাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি তদন্ত চলছে।

চাকসুর আইন বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, “শিক্ষক হাসান মুহাম্মদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সমর্থন
থাকার অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে মামলা করেন। আইন অনুষদের এক শিক্ষার্থীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠান। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে তার রুমে মদ-জুয়ার আসর ও নারীদের যৌন হয়রানিও করতেন নিয়মিত।’’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আওয়ামীপন্থি শিক্ষককে দৌড়ে ধরা নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

প্রকাশিত সময় : ০৮:৫৫:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষককে দৌড়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চবির আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান মুহাম্মদ রোমানকে কয়েকজন ছাত্র দৌড়ে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি ও নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমানকে দেখা গেছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এরপরই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দিনভর আলোচনা-সমালোচনা চলে। হাসান মুহাম্মদ রোমান ক্যাম্পাসে আওয়ামী ও বামপন্থী শিক্ষকদের রাজনৈতিক সংগঠন হলুদ দলের একাংশের সঙ্গে যুক্ত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন আইন অনুষদের গ্যালারিতে পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন হাসান মুহাম্মদ। তার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সমর্থন, শিক্ষার্থীদের নামে মিথ্যা মামলা ও হেনস্তাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি তদন্ত চলছে।

চাকসুর আইন বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, “শিক্ষক হাসান মুহাম্মদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সমর্থন
থাকার অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে মামলা করেন। আইন অনুষদের এক শিক্ষার্থীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠান। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে তার রুমে মদ-জুয়ার আসর ও নারীদের যৌন হয়রানিও করতেন নিয়মিত।’’