সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১৫-২০ লাখের চুক্তিতে হত্যা, লেনদেন বিকাশে

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি সংস্থাটি। ডিবির ধারণা, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, সম্প্রতি কারওয়ানবাজারে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাসহ একাধিক কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।

ঢাকা, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল বিকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন আলামত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- দুই শুটারের একজন জিন্নাত, কিলিং মিশনের মূল সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল, ঘটনার পর আসামিদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী আব্দুল কাদির এবং ঘটনার আগের দিন ঘটনাস্থল রেকি করা মো. রিয়াজ। আব্দুল কাদির বিল্লালের চাচা। অপর শুটার জিন্নাতের ভাই রহিম এখনও পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল ও ছয় হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, মুসাব্বির হত্যার পেছনে রাজনৈতিক কিংবা অন্য কোনো ইন্ধন রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি, কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে এর পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা কিংবা অর্থের বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি নাÑ সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক শুটার রহিমকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিবি সূত্র জানিয়েছে, মুসাব্বিরকে হত্যার জন্য খুনিদের সঙ্গে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা বিভ্রান্তিকর ও পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছেন। ডিবির একটি সূত্র জানায়, মূল মাস্টারমাইন্ড সরাসরি খুনিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। বিদেশে অবস্থানরত এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার বিল্লালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিকাশের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের অর্থ পাঠানো হয়। মধ্যস্থতাকারীকে গ্রেপ্তার করা গেলে মূল পরিকল্পনাকারী সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা করছে ডিবি।

ডিবি কর্মকর্তারা আরও জানান, বিদেশে থাকা বিল্লালের এক বড় ভাই মুসাব্বির হত্যার চুক্তি দেন। ১৫ লাখ টাকা এবং মামলার সব দায়ভার নেওয়ার আশ্বাসে রাজি হন বিল্লাল। পরে তিনি তিন লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেলের বিনিময়ে শুটার জিন্নাতকে ভাড়া করেন। এর আগে রিয়াজকে দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা করা হলেও তিনি হত্যার আগের দিন তা বাস্তবায়ন না করে ফিরে যান। পরে চূড়ান্তভাবে হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয় জিন্নাতকে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তেজগাঁও এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির নিহত হন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

১৫-২০ লাখের চুক্তিতে হত্যা, লেনদেন বিকাশে

প্রকাশিত সময় : ০৪:১৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি সংস্থাটি। ডিবির ধারণা, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, সম্প্রতি কারওয়ানবাজারে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাসহ একাধিক কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।

ঢাকা, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল বিকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন আলামত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- দুই শুটারের একজন জিন্নাত, কিলিং মিশনের মূল সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল, ঘটনার পর আসামিদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী আব্দুল কাদির এবং ঘটনার আগের দিন ঘটনাস্থল রেকি করা মো. রিয়াজ। আব্দুল কাদির বিল্লালের চাচা। অপর শুটার জিন্নাতের ভাই রহিম এখনও পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল ও ছয় হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, মুসাব্বির হত্যার পেছনে রাজনৈতিক কিংবা অন্য কোনো ইন্ধন রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি, কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে এর পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা কিংবা অর্থের বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি নাÑ সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক শুটার রহিমকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিবি সূত্র জানিয়েছে, মুসাব্বিরকে হত্যার জন্য খুনিদের সঙ্গে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা বিভ্রান্তিকর ও পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছেন। ডিবির একটি সূত্র জানায়, মূল মাস্টারমাইন্ড সরাসরি খুনিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। বিদেশে অবস্থানরত এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার বিল্লালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিকাশের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের অর্থ পাঠানো হয়। মধ্যস্থতাকারীকে গ্রেপ্তার করা গেলে মূল পরিকল্পনাকারী সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা করছে ডিবি।

ডিবি কর্মকর্তারা আরও জানান, বিদেশে থাকা বিল্লালের এক বড় ভাই মুসাব্বির হত্যার চুক্তি দেন। ১৫ লাখ টাকা এবং মামলার সব দায়ভার নেওয়ার আশ্বাসে রাজি হন বিল্লাল। পরে তিনি তিন লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেলের বিনিময়ে শুটার জিন্নাতকে ভাড়া করেন। এর আগে রিয়াজকে দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা করা হলেও তিনি হত্যার আগের দিন তা বাস্তবায়ন না করে ফিরে যান। পরে চূড়ান্তভাবে হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয় জিন্নাতকে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তেজগাঁও এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির নিহত হন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।