শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পবিত্র কোরআনে ‘কুল’ শব্দের ব্যবহার

পবিত্র কোরআনে সর্বাধিক ব্যবহৃত একটি শব্দ ‘কুল’। এর অর্থ তুমি বলো বা বলে দাও। কোরআনে ‘কুল’ শব্দ মোট ৩৩২ বার এসেছে (আল-মুজাম আল-মুফাহরাস লি-আলফাজিল কুরআন : পৃ-৫৭১)

আল-কোরআনের মোট ৫৭টি সুরায় এই শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, তবে ব্যবহারের সংখ্যা সুরাভেদে ভিন্ন ভিন্ন দেখা যায়। এর মধ্যে সর্বাধিক এসেছে সুরা আল-আনআমে (৪৪ বার)।

তারপর সুরা ইউনুসে (২৪ বার), এরপর সুরা আলে-ইমরানে (২৩ বার)। আবার ১৯টি সুরায় এটি মাত্র একবার করে এসেছে।
এই সংখ্যা নির্ধারিত হয়েছে হাফস আন আসিম কিরাতের ভিত্তিতে। অন্য কিরাতের ক্ষেত্রে সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে।

কারণ কিছু শব্দ হাফস ছাড়া অন্য কিরাতে আদেশসূচক রূপে ‘কুল’ পড়া হয়েছে, কিন্তু হাফস তা অতীতকাল ‘কালা’ হিসেবে পড়েছেন। (বিস্তারিত দেখুন—তাফসির আত-তাহরির ওয়াত তানভির : ১৭/১৭৬)
কাকে উদ্দেশ করে এই আদেশ ‘কুল’?

পবিত্র কোরআনের বেশির ভাগ স্থানে এই আদেশসূচক ‘কুল’ প্রথমে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি নির্দেশিত। তাঁর মাধ্যমে পরে যাঁরা কোরআনের পাঠক, পরোক্ষভাবে তাঁরাও এই আদেশের অধীন। মহানবী (সা.) নবী ও রাসুল হিসেবে তাঁর মূল কাজ মানুষের কাছে মহান আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়া।

তা সত্ত্বেও কিছু স্থানে বিশেষভাবে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
তবে ‘কুল’ শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে চার জায়গায় ব্যতিক্রম দেখা যায়। দুটি স্থানে এই শব্দ দিয়ে নূহ (আ.)-এর প্রতি সম্বোধন করা হয়েছে; যেমন—সুরা মুমিনুন, আয়াত : ২৮-২৯।

এক জায়গায় নবী মুসা (আ.)-এর প্রতি সম্বোধন করা হয়েছে; যেমন—সুরা নাজিয়াত, আয়াত : ১৭-১৮। এবং এক জায়গায় মা-বাবার গর্ভে জন্মলাভকারী সব সন্তানকে সম্বোধন করা হয়েছে; যেমন—সুরা ইসরা/বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৩।

এখানে যদিও সম্বোধন নবী (সা.)-কে, কিন্তু উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষ; কারণ রাসুল (সা.) তাঁর পিতা-মাতাকে জীবিত পাননি।

‘কুল’ শব্দ নিয়ে পুনরাবৃত্ত বাক্য

‘কুল’ শব্দ সংবলিত কিছু বাক্য হুবহু পুনরাবৃত্ত হয়েছে; যেমন—

‘কুল সিরু ফিল আরদ’ চারবার, ‘কুল হা-তু বুররাহাকুম’ তিনবার এবং ‘কুল ইন্নি আখাফু’ দুইবার ব্যবহৃত হয়েছে।

‘কুল’ভিত্তিক আয়াতগুলোর আলোচ্য বিষয়

আহলে কিতাব ও মুশরিকদের সঙ্গে বিতর্ক।

মহানবী (সা.)-এর রিসালাত, দাওয়াত ও কর্মপদ্ধতি।

বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব।

অদৃশ্য বিষয় ও ভবিষ্যৎ ঘটনা।

আখিরাত বিষয়ে আলোচনা।

আল্লাহর তাওহিদ ও গুণাবলি বিষয়ে আলোচনা।

কোরআনের সত্যতা বিষয়ে বর্ণনা।

দোয়া ও ইবাদতের শিক্ষা।

মুমিনদের জন্য নির্দেশনা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পবিত্র কোরআনে ‘কুল’ শব্দের ব্যবহার

প্রকাশিত সময় : ১১:৪৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

পবিত্র কোরআনে সর্বাধিক ব্যবহৃত একটি শব্দ ‘কুল’। এর অর্থ তুমি বলো বা বলে দাও। কোরআনে ‘কুল’ শব্দ মোট ৩৩২ বার এসেছে (আল-মুজাম আল-মুফাহরাস লি-আলফাজিল কুরআন : পৃ-৫৭১)

আল-কোরআনের মোট ৫৭টি সুরায় এই শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, তবে ব্যবহারের সংখ্যা সুরাভেদে ভিন্ন ভিন্ন দেখা যায়। এর মধ্যে সর্বাধিক এসেছে সুরা আল-আনআমে (৪৪ বার)।

তারপর সুরা ইউনুসে (২৪ বার), এরপর সুরা আলে-ইমরানে (২৩ বার)। আবার ১৯টি সুরায় এটি মাত্র একবার করে এসেছে।
এই সংখ্যা নির্ধারিত হয়েছে হাফস আন আসিম কিরাতের ভিত্তিতে। অন্য কিরাতের ক্ষেত্রে সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে।

কারণ কিছু শব্দ হাফস ছাড়া অন্য কিরাতে আদেশসূচক রূপে ‘কুল’ পড়া হয়েছে, কিন্তু হাফস তা অতীতকাল ‘কালা’ হিসেবে পড়েছেন। (বিস্তারিত দেখুন—তাফসির আত-তাহরির ওয়াত তানভির : ১৭/১৭৬)
কাকে উদ্দেশ করে এই আদেশ ‘কুল’?

পবিত্র কোরআনের বেশির ভাগ স্থানে এই আদেশসূচক ‘কুল’ প্রথমে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি নির্দেশিত। তাঁর মাধ্যমে পরে যাঁরা কোরআনের পাঠক, পরোক্ষভাবে তাঁরাও এই আদেশের অধীন। মহানবী (সা.) নবী ও রাসুল হিসেবে তাঁর মূল কাজ মানুষের কাছে মহান আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়া।

তা সত্ত্বেও কিছু স্থানে বিশেষভাবে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
তবে ‘কুল’ শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে চার জায়গায় ব্যতিক্রম দেখা যায়। দুটি স্থানে এই শব্দ দিয়ে নূহ (আ.)-এর প্রতি সম্বোধন করা হয়েছে; যেমন—সুরা মুমিনুন, আয়াত : ২৮-২৯।

এক জায়গায় নবী মুসা (আ.)-এর প্রতি সম্বোধন করা হয়েছে; যেমন—সুরা নাজিয়াত, আয়াত : ১৭-১৮। এবং এক জায়গায় মা-বাবার গর্ভে জন্মলাভকারী সব সন্তানকে সম্বোধন করা হয়েছে; যেমন—সুরা ইসরা/বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৩।

এখানে যদিও সম্বোধন নবী (সা.)-কে, কিন্তু উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষ; কারণ রাসুল (সা.) তাঁর পিতা-মাতাকে জীবিত পাননি।

‘কুল’ শব্দ নিয়ে পুনরাবৃত্ত বাক্য

‘কুল’ শব্দ সংবলিত কিছু বাক্য হুবহু পুনরাবৃত্ত হয়েছে; যেমন—

‘কুল সিরু ফিল আরদ’ চারবার, ‘কুল হা-তু বুররাহাকুম’ তিনবার এবং ‘কুল ইন্নি আখাফু’ দুইবার ব্যবহৃত হয়েছে।

‘কুল’ভিত্তিক আয়াতগুলোর আলোচ্য বিষয়

আহলে কিতাব ও মুশরিকদের সঙ্গে বিতর্ক।

মহানবী (সা.)-এর রিসালাত, দাওয়াত ও কর্মপদ্ধতি।

বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব।

অদৃশ্য বিষয় ও ভবিষ্যৎ ঘটনা।

আখিরাত বিষয়ে আলোচনা।

আল্লাহর তাওহিদ ও গুণাবলি বিষয়ে আলোচনা।

কোরআনের সত্যতা বিষয়ে বর্ণনা।

দোয়া ও ইবাদতের শিক্ষা।

মুমিনদের জন্য নির্দেশনা।