সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এক মিনিটেরও কম সময়ে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২

থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ক্রেন ভেঙে পড়ার ঘটনায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ৬৬ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

দুর্ঘটনায় ক্রেনটি ট্রেনের ওপর পড়ে একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয় এবং কয়েকটি বগি সম্পূর্ণভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।

একটি বগিতে আগুনও ধরে যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য নেশন জানায়, দুর্ঘটনার সময় ক্রেনটি একটি বড় কংক্রিটের অংশ তুলছিল। ওই কংক্রিটের অংশটি হঠাৎ নিচে পড়ে ট্রেনের ওপর আঘাত করে, এতে কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মালিওয়ান নাকথন বিবিসি থাইকে বলেন, ‘প্রথমে কংক্রিটের ছোট ছোট টুকরো পড়তে শুরু করে।

এরপর ধীরে ধীরে ক্রেনটি নিচে নেমে এসে সজোরে আঘাত করে এবং পুরো ট্রেনটিকে চাপা দেয়। পুরো ঘটনাটি এক মিনিটেরও কম সময়ে ঘটে।’ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ট্রেনকর্মী থিরাসাক ওংসুংনার্ন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ক্রেনটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ও অন্য যাত্রীরা বাতাসে ছিটকে পড়েন।
আহতদের মধ্যে এক বছরের শিশু ও ৮৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ রয়েছেন।

গুরুতর অবস্থায় আছেন অন্তত সাতজন। থাইল্যান্ড স্টেট রেলওয়ের তথ্য মতে, দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে মোট ১৭১ জন যাত্রী ছিলেন। ট্রেনটি রাজধানী ব্যাংকক থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উবন রাতচাথানি প্রদেশের উদ্দেশে যাচ্ছিল। যাত্রীদের বেশির ভাগই ছিলেন শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ, যারা স্কুল ও কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা জানিয়ে বলেছেন, এই ঘটনার জন্য দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের দুর্ঘটনা শুধু অবহেলা, নিরাপত্তা ধাপ উপেক্ষা, নকশা থেকে বিচ্যুতি বা ভুল উপকরণ ব্যবহারের কারণেই ঘটে থাকে।’
এই ক্রেনটি ব্যাংকক থেকে প্রতিবেশী লাওস পর্যন্ত রেলসংযোগ স্থাপনের জন্য নির্মাণাধীন একটি উড়াল রেলপথের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এটি চীন সমর্থিত ৫৪০ কোটি ডলারের একটি প্রকল্পের অংশ, যার মাধ্যমে ব্যাংকককে লাওস হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

‘ব্যাংকক–নং খাই উচ্চগতির রেল প্রকল্প’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পের লাম তাকং–সিখিও অংশের দায়িত্বে রয়েছে ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট কম্পানি। থাইল্যান্ড স্টেট রেলওয়ে ইতিমধ্যে কম্পানিটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে শুধু ট্রেনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণই ১০ কোটি বাতের বেশি বলে জানানো হয়েছে।

ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট কম্পানি এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, নিহত ও আহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। চীনা গণমাধ্যমের বরাতে থাইল্যান্ডে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় কোনো চীনা নির্মাণ কম্পানি বা কর্মী জড়িত ছিলেন না। উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডে দুর্বল নিরাপত্তা মান ও বিধিমালার কারণে নির্মাণকাজে দুর্ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও দেশটিতে একাধিক বড় নির্মাণ ও পরিবহন দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এক মিনিটেরও কম সময়ে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২

প্রকাশিত সময় : ০৩:৩৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ক্রেন ভেঙে পড়ার ঘটনায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ৬৬ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

দুর্ঘটনায় ক্রেনটি ট্রেনের ওপর পড়ে একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয় এবং কয়েকটি বগি সম্পূর্ণভাবে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।

একটি বগিতে আগুনও ধরে যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য নেশন জানায়, দুর্ঘটনার সময় ক্রেনটি একটি বড় কংক্রিটের অংশ তুলছিল। ওই কংক্রিটের অংশটি হঠাৎ নিচে পড়ে ট্রেনের ওপর আঘাত করে, এতে কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মালিওয়ান নাকথন বিবিসি থাইকে বলেন, ‘প্রথমে কংক্রিটের ছোট ছোট টুকরো পড়তে শুরু করে।

এরপর ধীরে ধীরে ক্রেনটি নিচে নেমে এসে সজোরে আঘাত করে এবং পুরো ট্রেনটিকে চাপা দেয়। পুরো ঘটনাটি এক মিনিটেরও কম সময়ে ঘটে।’ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ট্রেনকর্মী থিরাসাক ওংসুংনার্ন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ক্রেনটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ও অন্য যাত্রীরা বাতাসে ছিটকে পড়েন।
আহতদের মধ্যে এক বছরের শিশু ও ৮৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ রয়েছেন।

গুরুতর অবস্থায় আছেন অন্তত সাতজন। থাইল্যান্ড স্টেট রেলওয়ের তথ্য মতে, দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে মোট ১৭১ জন যাত্রী ছিলেন। ট্রেনটি রাজধানী ব্যাংকক থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উবন রাতচাথানি প্রদেশের উদ্দেশে যাচ্ছিল। যাত্রীদের বেশির ভাগই ছিলেন শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ, যারা স্কুল ও কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা জানিয়ে বলেছেন, এই ঘটনার জন্য দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের দুর্ঘটনা শুধু অবহেলা, নিরাপত্তা ধাপ উপেক্ষা, নকশা থেকে বিচ্যুতি বা ভুল উপকরণ ব্যবহারের কারণেই ঘটে থাকে।’
এই ক্রেনটি ব্যাংকক থেকে প্রতিবেশী লাওস পর্যন্ত রেলসংযোগ স্থাপনের জন্য নির্মাণাধীন একটি উড়াল রেলপথের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এটি চীন সমর্থিত ৫৪০ কোটি ডলারের একটি প্রকল্পের অংশ, যার মাধ্যমে ব্যাংকককে লাওস হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

‘ব্যাংকক–নং খাই উচ্চগতির রেল প্রকল্প’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পের লাম তাকং–সিখিও অংশের দায়িত্বে রয়েছে ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট কম্পানি। থাইল্যান্ড স্টেট রেলওয়ে ইতিমধ্যে কম্পানিটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে শুধু ট্রেনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণই ১০ কোটি বাতের বেশি বলে জানানো হয়েছে।

ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট কম্পানি এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, নিহত ও আহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। চীনা গণমাধ্যমের বরাতে থাইল্যান্ডে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় কোনো চীনা নির্মাণ কম্পানি বা কর্মী জড়িত ছিলেন না। উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডে দুর্বল নিরাপত্তা মান ও বিধিমালার কারণে নির্মাণকাজে দুর্ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও দেশটিতে একাধিক বড় নির্মাণ ও পরিবহন দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি