মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পোস্টাল ব্যালটে অনিয়মে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে হয়েছে: সালাহউদ্দিন

পোস্টাল ব্যালটে অনিয়মে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিছু কাজ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন, প্রেরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি প্রথম উদ্যোগ। ফলে কিছু ভুলভ্রান্তি হতে পারে। তবে যেসব অনিয়মের অভিযোগ আসছে, তাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিছু কিছু কাজ হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।’

ইসি সচিবের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু আইনগত বিষয় ও আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা করা হয়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো বাসায় ২০০ থেকে ৩০০টি করে ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও ব্যালট জব্দ করা হয়েছে, কোথাও ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার কোথাও একজনের নামে পাঠানো ব্যালট অন্য কেউ গ্রহণ করছে এমন ঘটনাও সামনে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘কোন প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে, কীভাবে তারা ভোট দেবেন, কোথায় স্ক্যান করবেন এবং এক জায়গায় বিপুলসংখ্যক ব্যালট পাওয়া গেলে তার দায় কার—এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা বিষয়গুলো বিবেচনা করে ব্যাখ্যা দেবে, প্রয়োজনে আজই দিতে পারে।’

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে ভোটার স্লিপে ভোটারের নম্বর, প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে আচরণবিধিতে ভোটার স্লিপে কোনো দলের নাম বা প্রার্থীর ছবি না দেওয়ার বিধান রয়েছে, যা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। নির্বাচন কমিশন চাইলে নিজেরাই এই বিধান পরিবর্তন করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ভোটার স্লিপ দেওয়া মানেই ভোটে প্রভাব নয়। ভোটার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে কাকে ভোট দেবে। নির্বাচনকে কঠিন না করে ভোটারদের সহযোগিতা করা উচিত।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আগে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি সফর স্থগিত করা হয়েছিল। সেটি রাজনৈতিক প্রচার ছিল না। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নীরবতা বিএনপির নজরে এসেছে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় যেসব প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের নাম ও প্রতীকসহ যে সাধারণ ব্যালট ব্যবহার করা হয়, সেই একই ব্যালট সংশ্লিষ্ট এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবেও ব্যবহার করা উচিত। এতে সব নির্বাচনী এলাকার জন্য আলাদা আলাদা প্রতীকসংবলিত ব্যালট ছাপানোর প্রয়োজন হবে না এবং জটিলতাও কমবে।’ নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া ও বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পোস্টাল ব্যালটে অনিয়মে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে হয়েছে: সালাহউদ্দিন

প্রকাশিত সময় : ০৪:৩০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

পোস্টাল ব্যালটে অনিয়মে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিছু কাজ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন, প্রেরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি প্রথম উদ্যোগ। ফলে কিছু ভুলভ্রান্তি হতে পারে। তবে যেসব অনিয়মের অভিযোগ আসছে, তাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিছু কিছু কাজ হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।’

ইসি সচিবের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু আইনগত বিষয় ও আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা করা হয়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো বাসায় ২০০ থেকে ৩০০টি করে ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও ব্যালট জব্দ করা হয়েছে, কোথাও ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার কোথাও একজনের নামে পাঠানো ব্যালট অন্য কেউ গ্রহণ করছে এমন ঘটনাও সামনে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘কোন প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে, কীভাবে তারা ভোট দেবেন, কোথায় স্ক্যান করবেন এবং এক জায়গায় বিপুলসংখ্যক ব্যালট পাওয়া গেলে তার দায় কার—এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা বিষয়গুলো বিবেচনা করে ব্যাখ্যা দেবে, প্রয়োজনে আজই দিতে পারে।’

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে ভোটার স্লিপে ভোটারের নম্বর, প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে আচরণবিধিতে ভোটার স্লিপে কোনো দলের নাম বা প্রার্থীর ছবি না দেওয়ার বিধান রয়েছে, যা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। নির্বাচন কমিশন চাইলে নিজেরাই এই বিধান পরিবর্তন করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ভোটার স্লিপ দেওয়া মানেই ভোটে প্রভাব নয়। ভোটার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে কাকে ভোট দেবে। নির্বাচনকে কঠিন না করে ভোটারদের সহযোগিতা করা উচিত।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আগে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি সফর স্থগিত করা হয়েছিল। সেটি রাজনৈতিক প্রচার ছিল না। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নীরবতা বিএনপির নজরে এসেছে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় যেসব প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের নাম ও প্রতীকসহ যে সাধারণ ব্যালট ব্যবহার করা হয়, সেই একই ব্যালট সংশ্লিষ্ট এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবেও ব্যবহার করা উচিত। এতে সব নির্বাচনী এলাকার জন্য আলাদা আলাদা প্রতীকসংবলিত ব্যালট ছাপানোর প্রয়োজন হবে না এবং জটিলতাও কমবে।’ নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া ও বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।