শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইনকিলাব মঞ্চের ‘হাদি সমাবেশ’ আগামী সপ্তাহে

ইনকিলাব মঞ্চ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আগামী সপ্তাহেই ‘হাদি সমাবেশ’ করার ঘোষণা দিয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সমাবেশ থেকে মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই ঘোষণা দেন।

জুমার নামাজের পর কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রূপ নেয়। অংশগ্রহণকারীরা হাদি হত্যার বিচার দাবিতে স্লোগান দেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শেষ হয়।

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাদি সমাবেশ হবে। সেখানে লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেবে। সমাবেশ থেকে একটাই বার্তা থাকবে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিপক্ষে যারা যাবে, তারা দেশের মাটিতে নিরাপদ থাকবে না। তাদের জানাজা পর্যন্ত হবে না।

তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জুলাইয়ের পর দেশের তরুণরা আপনাদের ওপর আস্থা রেখেছিল। জানাজায় গিয়ে আপনি বলেছেন, হাদিকে ধারণ করেছেন। যদি সত্যিই ধারণ করে থাকেন, তাহলে হত্যাকারীরা কোথায়, তা আপনার অজানা হওয়ার কথা নয়। যারা হত্যায় জড়িত, কে পরিকল্পনা করেছে এবং কারা সহায়তা করেছে-এসব বিষয়ে জাতির সামনে স্পষ্ট করে বলতে হবে।

সমাবেশে অংশ নিতে সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানানো হবে উল্লেখ করে জাবের বলেন, সমাবেশের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হবো রাজনৈতিক দলগুলো কী চায়। এরপর ৩০০ আসনে ইনসাফের জন্য ছড়িয়ে পড়ব। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলকে চিনব না। আমরা শুধু চিনি ইনসাফ। যারা হাদি হত্যার বিচারের পক্ষে দাঁড়াবে, তাদেরকেই ভোট দেব। সমাবেশের পরে আমাদের লড়াই শুরু হবে।

অভিযোগপত্রের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ডিবি অফিস জানিয়েছে, হাদিকে গুলি করার দিনে পাঁচটি টিম ছিল। তাহলে চার্জশিটে শুধু যারা গুলি করেছে, তাদের নাম কেন আছে? বাকি টিমগুলো কোথায়? আমরা জানতে চাই।

সমাবেশে ‘আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব’, ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়।

একই দাবিতে চট্টগ্রামে শুক্রবার জুমার নামাজের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আন্দরকিল্লাহ শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাজীর দেউড়ি মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শেষ হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামের সাবেক নেতা ইবনে হোসেন জিয়াদ বলেন, হাদি হত্যার বিচার নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার টালবাহানা শুরু করেছে। তিনি বলেন, বিচার নিশ্চিত না হলে প্রয়োজনে আইন উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামা হবে।

সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক রাফসান রাকিব অভিযোগ করেন, হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে সঠিক তথ্য উঠে আসেনি। অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে টালবাহানা করছে কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, টালবাহানা অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রাম থেকেই কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইনকিলাব মঞ্চের ‘হাদি সমাবেশ’ আগামী সপ্তাহে

প্রকাশিত সময় : ১১:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আগামী সপ্তাহেই ‘হাদি সমাবেশ’ করার ঘোষণা দিয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সমাবেশ থেকে মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই ঘোষণা দেন।

জুমার নামাজের পর কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রূপ নেয়। অংশগ্রহণকারীরা হাদি হত্যার বিচার দাবিতে স্লোগান দেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শেষ হয়।

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাদি সমাবেশ হবে। সেখানে লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেবে। সমাবেশ থেকে একটাই বার্তা থাকবে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিপক্ষে যারা যাবে, তারা দেশের মাটিতে নিরাপদ থাকবে না। তাদের জানাজা পর্যন্ত হবে না।

তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জুলাইয়ের পর দেশের তরুণরা আপনাদের ওপর আস্থা রেখেছিল। জানাজায় গিয়ে আপনি বলেছেন, হাদিকে ধারণ করেছেন। যদি সত্যিই ধারণ করে থাকেন, তাহলে হত্যাকারীরা কোথায়, তা আপনার অজানা হওয়ার কথা নয়। যারা হত্যায় জড়িত, কে পরিকল্পনা করেছে এবং কারা সহায়তা করেছে-এসব বিষয়ে জাতির সামনে স্পষ্ট করে বলতে হবে।

সমাবেশে অংশ নিতে সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানানো হবে উল্লেখ করে জাবের বলেন, সমাবেশের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হবো রাজনৈতিক দলগুলো কী চায়। এরপর ৩০০ আসনে ইনসাফের জন্য ছড়িয়ে পড়ব। আমরা কোনো রাজনৈতিক দলকে চিনব না। আমরা শুধু চিনি ইনসাফ। যারা হাদি হত্যার বিচারের পক্ষে দাঁড়াবে, তাদেরকেই ভোট দেব। সমাবেশের পরে আমাদের লড়াই শুরু হবে।

অভিযোগপত্রের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ডিবি অফিস জানিয়েছে, হাদিকে গুলি করার দিনে পাঁচটি টিম ছিল। তাহলে চার্জশিটে শুধু যারা গুলি করেছে, তাদের নাম কেন আছে? বাকি টিমগুলো কোথায়? আমরা জানতে চাই।

সমাবেশে ‘আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব’, ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়।

একই দাবিতে চট্টগ্রামে শুক্রবার জুমার নামাজের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আন্দরকিল্লাহ শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাজীর দেউড়ি মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শেষ হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামের সাবেক নেতা ইবনে হোসেন জিয়াদ বলেন, হাদি হত্যার বিচার নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার টালবাহানা শুরু করেছে। তিনি বলেন, বিচার নিশ্চিত না হলে প্রয়োজনে আইন উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামা হবে।

সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক রাফসান রাকিব অভিযোগ করেন, হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে সঠিক তথ্য উঠে আসেনি। অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে টালবাহানা করছে কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, টালবাহানা অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রাম থেকেই কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসবে।