বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একটা আসনেও এনসিপির জেতার সম্ভাবনা নাই

ঐতিহাসিক ৫ আগস্টের পর দেশ পরিচালনা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় পুরোনো রাজনৈতিক ধারাই প্রাধান্য পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, এ বাস্তবতায় আসন্ন নির্বাচনে তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর একটি আসনেও জেতার সম্ভাবনা নাই।

নুরুল হক নুর বলেন, সরকারের সময় তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টা হয়েছিলেন, কিন্তু তারা উল্লেখযোগ্য বা আইকনিক কোনো পরিবর্তন করতে পারেনি। তাদের মধ্যে কেউ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, কেউ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকেও ব্যর্থ হন ব্যাপক পরিবর্তন আনতে।

তিনি আরও বলেন, অনেকে জাতীয় পার্টি বা কনভেনশন ওয়ে ধারার রাজনীতি থেকে দল গড়েছেন। তাদের ঘিরে মানুষের আশা ছিল তারা বিকল্প হবেন, কিন্তু সরকারের সমর্থন ও সুযোগ-সুবিধা পেয়েও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত অন্য দলের সহায়তা নেওয়ার পথ বেছে নিতে হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে যখন জামায়াত-শিবিরের প্রকাশ্য রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল, তখন তাদের পক্ষে প্রতিবাদ আন্দোলন হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির সদস্য সন্দেহে আক্রমণের বিরুদ্ধে কণ্ঠ উঠেছে। তবে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সবাই যেন নিজ নিজ রাজনীতিতে ফিরে গেছে।

নুরুল হক নুর বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থাকলেও বাস্তবে পুরোনো কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোই টিকে থাকে। নতুন রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলতে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ ও বাধার মুখোমুখি হতে হয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক বিতর্কে ব্যক্তি আক্রমণ ও গালাগালির ঘটনাও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার পথে বড় অন্তরায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

একটা আসনেও এনসিপির জেতার সম্ভাবনা নাই

প্রকাশিত সময় : ১১:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ঐতিহাসিক ৫ আগস্টের পর দেশ পরিচালনা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় পুরোনো রাজনৈতিক ধারাই প্রাধান্য পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, এ বাস্তবতায় আসন্ন নির্বাচনে তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর একটি আসনেও জেতার সম্ভাবনা নাই।

নুরুল হক নুর বলেন, সরকারের সময় তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টা হয়েছিলেন, কিন্তু তারা উল্লেখযোগ্য বা আইকনিক কোনো পরিবর্তন করতে পারেনি। তাদের মধ্যে কেউ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, কেউ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকেও ব্যর্থ হন ব্যাপক পরিবর্তন আনতে।

তিনি আরও বলেন, অনেকে জাতীয় পার্টি বা কনভেনশন ওয়ে ধারার রাজনীতি থেকে দল গড়েছেন। তাদের ঘিরে মানুষের আশা ছিল তারা বিকল্প হবেন, কিন্তু সরকারের সমর্থন ও সুযোগ-সুবিধা পেয়েও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত অন্য দলের সহায়তা নেওয়ার পথ বেছে নিতে হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে যখন জামায়াত-শিবিরের প্রকাশ্য রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল, তখন তাদের পক্ষে প্রতিবাদ আন্দোলন হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির সদস্য সন্দেহে আক্রমণের বিরুদ্ধে কণ্ঠ উঠেছে। তবে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সবাই যেন নিজ নিজ রাজনীতিতে ফিরে গেছে।

নুরুল হক নুর বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থাকলেও বাস্তবে পুরোনো কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোই টিকে থাকে। নতুন রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলতে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ ও বাধার মুখোমুখি হতে হয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক বিতর্কে ব্যক্তি আক্রমণ ও গালাগালির ঘটনাও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার পথে বড় অন্তরায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।