শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্লকোমায় হারাতে পারেন দৃষ্টিশক্তি, সচেতনতাই একমাত্র প্রতিকার!

প্রথমদিকে দৃষ্টি কিছুটা ঝাপসা লাগবে। ধীরে ধীরে কমতে থাকবে চারপাশের জিনিস দেখার ক্ষমতা। শেষে এমন এক সময় আসে, যখন চোখের সামনে শুধুই অন্ধকার। এই ভয়ানক রোগের নাম গ্লকোমা।চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি ‘নীরব ঘাতক’, কারণ অনেক ক্ষেত্রে রোগী বুঝতেই পারেন না যে তিনি দৃষ্টি হারাচ্ছেন। বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, দেশে গ্লকোমা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

গ্লকোমা আসলে কী

চোখের ভেতরে এক ধরনের তরল বা ফ্লুইড প্রবাহিত হয়। যখন এই তরল চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, তখন তা ভেতরে জমে গিয়ে চোখের অপটিক স্নায়ুর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে।

একে বলা হয় ‘ইন্ট্রাঅকুলার প্রেশার’। এই চাপের কারণে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষ অন্ধত্বের দিকে এগিয়ে যায়।মনে রাখা জরুরি, গ্লকোমায় একবার দৃষ্টি চলে গেলে তা আর কোনো চিকিৎসাতেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

কাদের ঝুঁকি বেশি

  • যাদের বয়স ৪০ বছরের ওপরে।
  • যাদের পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস রয়েছে।
  • ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা মায়োপিয়া থাকলে।
  • যারা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই স্টেরয়েড জাতীয় আই ড্রপ, ক্রিম বা ইনহেলার ব্যবহার করছেন।
  • চোখে পুরনো আঘাত বা অস্ত্রোপচারের ইতিহাস থাকলে।
  • অন্ধকার ঘরে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলোর ব্যবহার।

লক্ষণগুলো চিনে নিন

গ্লকোমার শুরুর দিকে সেভাবে কোনো ব্যথা বা উপসর্গ থাকে না। তবে কিছু সংকেত এড়িয়ে চলা উচিত নয়।

  • পাশের জিনিস দেখার ক্ষমতা বা ‘সাইড ভিশন’ কমে আসা।
  • বারবার চশমার পাওয়ার পালটে যাওয়া।
  • কম আলোয় কাজ করতে অসুবিধা।
  • মাঝেমধ্যে মাথা ব্যথা বা চোখে যন্ত্রণা।

প্রতিরোধের উপায়

সচেতনতাই এই রোগের প্রধান ওষুধ। বছরে অন্তত দুই বার চোখের ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করান। বিশেষ করে আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে বা পরিবারের কেউ গ্লকোমায় আক্রান্ত থাকেন, তবে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা ড্রপ চোখে দেবেন না। মনে রাখবেন, সময়মতো রোগ ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ধত্বের ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গ্লকোমায় হারাতে পারেন দৃষ্টিশক্তি, সচেতনতাই একমাত্র প্রতিকার!

প্রকাশিত সময় : ১১:১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথমদিকে দৃষ্টি কিছুটা ঝাপসা লাগবে। ধীরে ধীরে কমতে থাকবে চারপাশের জিনিস দেখার ক্ষমতা। শেষে এমন এক সময় আসে, যখন চোখের সামনে শুধুই অন্ধকার। এই ভয়ানক রোগের নাম গ্লকোমা।চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি ‘নীরব ঘাতক’, কারণ অনেক ক্ষেত্রে রোগী বুঝতেই পারেন না যে তিনি দৃষ্টি হারাচ্ছেন। বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, দেশে গ্লকোমা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

গ্লকোমা আসলে কী

চোখের ভেতরে এক ধরনের তরল বা ফ্লুইড প্রবাহিত হয়। যখন এই তরল চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, তখন তা ভেতরে জমে গিয়ে চোখের অপটিক স্নায়ুর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে।

একে বলা হয় ‘ইন্ট্রাঅকুলার প্রেশার’। এই চাপের কারণে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষ অন্ধত্বের দিকে এগিয়ে যায়।মনে রাখা জরুরি, গ্লকোমায় একবার দৃষ্টি চলে গেলে তা আর কোনো চিকিৎসাতেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

কাদের ঝুঁকি বেশি

  • যাদের বয়স ৪০ বছরের ওপরে।
  • যাদের পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস রয়েছে।
  • ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা মায়োপিয়া থাকলে।
  • যারা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই স্টেরয়েড জাতীয় আই ড্রপ, ক্রিম বা ইনহেলার ব্যবহার করছেন।
  • চোখে পুরনো আঘাত বা অস্ত্রোপচারের ইতিহাস থাকলে।
  • অন্ধকার ঘরে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলোর ব্যবহার।

লক্ষণগুলো চিনে নিন

গ্লকোমার শুরুর দিকে সেভাবে কোনো ব্যথা বা উপসর্গ থাকে না। তবে কিছু সংকেত এড়িয়ে চলা উচিত নয়।

  • পাশের জিনিস দেখার ক্ষমতা বা ‘সাইড ভিশন’ কমে আসা।
  • বারবার চশমার পাওয়ার পালটে যাওয়া।
  • কম আলোয় কাজ করতে অসুবিধা।
  • মাঝেমধ্যে মাথা ব্যথা বা চোখে যন্ত্রণা।

প্রতিরোধের উপায়

সচেতনতাই এই রোগের প্রধান ওষুধ। বছরে অন্তত দুই বার চোখের ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করান। বিশেষ করে আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে বা পরিবারের কেউ গ্লকোমায় আক্রান্ত থাকেন, তবে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা ড্রপ চোখে দেবেন না। মনে রাখবেন, সময়মতো রোগ ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ধত্বের ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন