শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমার সীমান্তে স্থল মাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার, এলাকায় আতঙ্ক

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকায় মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ১০টি স্থল মাইনের চাপ প্লেট (ট্রিগার অংশ) উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে এসব চাপ প্লেট উদ্ধার করা হয়।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সীমান্তের বিভিন্ন স্থান থেকে এসব চাপ প্লেট সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেছেন, “সীমান্ত এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি স্থল মাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার করা হয়েছে। আপাতত এগুলোতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।”

হোয়াইক্যংয়ের বাসিন্দা হাফেজ মিয়া বলেছেন, “মাঠে কাজ করতে গেলেই ভয় লাগে। কোথায় মাইন পোঁতা আছে, কেউ জানে না। আবার ওপার থেকে মাঝে-মধ্যে গুলিও ছোড়া হয়। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি।”

স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেছেন, “আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থল মাইন এবং সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে জেলে, কৃষকসহ স্থানীয়রা নিয়মিতভাবে হতাহত হচ্ছেন। কয়েকদিন আগে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছে হোয়াইক্যং এলাকার এক শিশু। সীমান্ত এলাকার মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।”

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহজনক এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মিয়ানমার সীমান্তে স্থল মাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার, এলাকায় আতঙ্ক

প্রকাশিত সময় : ০৮:১৩:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকায় মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ১০টি স্থল মাইনের চাপ প্লেট (ট্রিগার অংশ) উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে এসব চাপ প্লেট উদ্ধার করা হয়।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সীমান্তের বিভিন্ন স্থান থেকে এসব চাপ প্লেট সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেছেন, “সীমান্ত এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি স্থল মাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার করা হয়েছে। আপাতত এগুলোতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।”

হোয়াইক্যংয়ের বাসিন্দা হাফেজ মিয়া বলেছেন, “মাঠে কাজ করতে গেলেই ভয় লাগে। কোথায় মাইন পোঁতা আছে, কেউ জানে না। আবার ওপার থেকে মাঝে-মধ্যে গুলিও ছোড়া হয়। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি।”

স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেছেন, “আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থল মাইন এবং সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে জেলে, কৃষকসহ স্থানীয়রা নিয়মিতভাবে হতাহত হচ্ছেন। কয়েকদিন আগে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছে হোয়াইক্যং এলাকার এক শিশু। সীমান্ত এলাকার মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।”

লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহজনক এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে।