শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আইসিসিকে আবার চিঠি বাংলাদেশের

নিরাপত্তা শঙ্কাকে সামনে রেখে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ নাকচ করার পরও অবস্থান থেকে একচুলও সরেনি সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বরং নতুন করে আইসিসির কাছে চিঠি পাঠিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি স্বাধীন ডিসপিউট রেজ্যুলেশন কমিটির কাছে পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে বিসিবি। এতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখন কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

আইসিসি চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দেয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতে গিয়েই খেলতে হবে। এরপর সরকারের সঙ্গে আলোচনার কথা বলে আইসিসির কাছে ২৪ ঘণ্টা সময় চেয়েছিল বিসিবি। তবে সেই সময় পার হলেও বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

এর আগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের স্পষ্ট করে বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ ভেন্যু না বদলালে বাংলাদেশ এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে নাÑ এটাই চূড়ান্ত অবস্থান। এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে গত বৃহস্পতিবার আবার আইসিসিকে ই-মেইল পাঠিয়েছে বিসিবি। চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে, ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিটি যেন আইসিসির স্বাধীন ডিসপিউট রেজ্যুলেশন কমিটির কাছে পাঠানো হয়। আইসিসির কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে স্বাধীন আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি বিষয়টির নিষ্পত্তি করে থাকে।

বিসিবির আশা, আইসিসি তাদের অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি ওই কমিটির কাছে পাঠাবে। তবে বুধবার ঘোষণার পর আইসিসি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আর কিছু জানায়নি। একইভাবে শুরু থেকেই নীরব অবস্থানে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

আসিফ নজরুলের বক্তব্য অনুযায়ী, আইসিসি যদি শেষ পর্যন্ত ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি না মানে, তবে ভারত ও শ্রীলংকায় আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা হচ্ছে না। টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই ছিল ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ে।

সরকার কোন বাস্তবতায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি ক্রিকেটারদের বৈঠকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে জানান ক্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি বিস্তারিত না বললেও জানা গেছে, ক্রিকেটাররা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেননি। সভায় মতামত জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামাই তাদের দায়িত্ব, আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকার ও বিসিবির। তারা যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাকেই সমর্থন করবেন ক্রিকেটাররা।

কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে গত ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় বিসিসিআই। সেই ঘটনার পরই নিরাপত্তা সংকটের কথা উল্লেখ করে বিসিবি জানায়, বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না। আসিফ নজরুলের মতে, ভারতের সেই নিরাপত্তা পরিস্থিতির এখনও কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে নিজেদের ম্যাচগুলো তারা শ্রীলংকায় খেলতে চায় এবং সে লক্ষ্যেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বিসিবি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আইসিসিকে আবার চিঠি বাংলাদেশের

প্রকাশিত সময় : ১২:৪৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

নিরাপত্তা শঙ্কাকে সামনে রেখে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ নাকচ করার পরও অবস্থান থেকে একচুলও সরেনি সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বরং নতুন করে আইসিসির কাছে চিঠি পাঠিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি স্বাধীন ডিসপিউট রেজ্যুলেশন কমিটির কাছে পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে বিসিবি। এতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখন কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

আইসিসি চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দেয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতে গিয়েই খেলতে হবে। এরপর সরকারের সঙ্গে আলোচনার কথা বলে আইসিসির কাছে ২৪ ঘণ্টা সময় চেয়েছিল বিসিবি। তবে সেই সময় পার হলেও বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

এর আগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের স্পষ্ট করে বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ ভেন্যু না বদলালে বাংলাদেশ এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে নাÑ এটাই চূড়ান্ত অবস্থান। এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে গত বৃহস্পতিবার আবার আইসিসিকে ই-মেইল পাঠিয়েছে বিসিবি। চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে, ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিটি যেন আইসিসির স্বাধীন ডিসপিউট রেজ্যুলেশন কমিটির কাছে পাঠানো হয়। আইসিসির কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে স্বাধীন আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি বিষয়টির নিষ্পত্তি করে থাকে।

বিসিবির আশা, আইসিসি তাদের অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি ওই কমিটির কাছে পাঠাবে। তবে বুধবার ঘোষণার পর আইসিসি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আর কিছু জানায়নি। একইভাবে শুরু থেকেই নীরব অবস্থানে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)।

আসিফ নজরুলের বক্তব্য অনুযায়ী, আইসিসি যদি শেষ পর্যন্ত ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি না মানে, তবে ভারত ও শ্রীলংকায় আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা হচ্ছে না। টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই ছিল ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ে।

সরকার কোন বাস্তবতায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি ক্রিকেটারদের বৈঠকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে জানান ক্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি বিস্তারিত না বললেও জানা গেছে, ক্রিকেটাররা সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেননি। সভায় মতামত জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামাই তাদের দায়িত্ব, আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকার ও বিসিবির। তারা যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাকেই সমর্থন করবেন ক্রিকেটাররা।

কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে গত ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় বিসিসিআই। সেই ঘটনার পরই নিরাপত্তা সংকটের কথা উল্লেখ করে বিসিবি জানায়, বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না। আসিফ নজরুলের মতে, ভারতের সেই নিরাপত্তা পরিস্থিতির এখনও কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে নিজেদের ম্যাচগুলো তারা শ্রীলংকায় খেলতে চায় এবং সে লক্ষ্যেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বিসিবি।