বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের অঙ্গীকার তারেক রহমানের

নির্বাচনী প্রচারের দ্বিতীয় দিনে নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনে প্রচার চালিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বক্তব্য শুরুর আগে ভাষানটেক বস্তির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মঞ্চে ডেকে তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের অঙ্গীকার করেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ভাষানটেকে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ‘দেশ পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, কৃষি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বস্তিবাসীর পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবে বিএনপি।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আন্দোলন ও সংগ্রাম হয়েছে। স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন দেশ গঠন করতে হবে। স্বৈরাচারের কারণে আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছিল। এখন দেশ পুনর্গঠনে নিজেদের প্রতিনিধি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে হবে। আমি, তুমি ও ডামির নির্বাচন যখন হয়েছে, তখন সমস্যা নিয়ে জনপ্রতিনিধির কাছে যাওয়া যায়নি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। শুধু জাতীয় নির্বাচনে নয়, একই সঙ্গে পৌরসভা-উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদ সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ, সব ক্ষেত্রে জবাবদিহি থাকতে হবে। আর যারা জনপ্রতিনিধি হবেন, তাদের অবশ্যই জানতে হবে জনগণের সমস্যা কী।’

‘১৫ বছরের দুঃশাসন পেছনে ফেলে জনগণ এখন বড় পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষায় আছে’ এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এলাকার সমস্যা সমাধান করতে হলে, দেশের উন্নয়ন করতে হলে অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করতে হবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে এবং ভোট দিয়ে নিজের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে।’

জনসভায় অংশ নেওয়া মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের মুখ থেকে সমস্যা জানতে চাই। আমার প্রত্যাশা, প্রতিটি জনপ্রতিনিধি আগামী দিনে জনগণের কাছে যাবেন, তাদের সমস্যা শুনে সমাধান করবেন।’ তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভ্যানগাড়ি চালক জুয়েল, গৃহিণী নাসিমা আকতারসহ কয়েকজন বস্তিবাসী বক্তব্য দেন।

এ সময় নিজের পরিকল্পনা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষকের জন্য বিশেষ কার্ড ও ঋণের ব্যবস্থা করে কৃষির উন্নয়নে কাজ করবে বিএনপি। এছাড়া যুবকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে চাই আমরা। যাতে ভবিষ্যতে তারা কর্মসংস্থান পায়, বিদেশে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যেতে পারে অথবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারে। নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থাসহ নারীর ক্ষমতায়নে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কাজ করবে।’

‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ উপস্থিত জনতার উদ্দেশে এই শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধানের শীষকে যতবার জনগণ নির্বাচিত করেছে, ততবার মানুষের উন্নতি হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সারা দেশে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। সবার আত্মীয়-স্বজনকেও অনুরোধ করবেন ধানের শীষে ভোট দিতে।’

মঞ্চে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। বিএনপি নেতাদের মধ্যে ছিলেন নজরুল ইসলাম খান, আব্দুস সালাম, ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিমুদ্দিন আলম, আমিনুল হক, মোস্তফা জামান, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদের মাহমুদ ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা অংশ নেন।

ঢাকা-১৭ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত। মূলত গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, বারিধারা, শাহজাদপুর এবং ঢাকা সেনানিবাসের একাংশ নিয়ে এই আসন গঠিত।

রাজধানীর বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের প্রচার

জুমার নামাজের পর শাহজাহানপুরে পারিবারিক কবর জিয়ারতের মাধ্যমে দ্বিতীয় দিনের মতো প্রচারণা শুরু করেন ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। বিকেলে রাজধানীর আরামবাগে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বর্তমানে খেলাধুলার অবস্থা তলানিতে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘খেলাধুলা নিয়ে কোনো সরকারই যথাযথ কাজ করেনি। বর্তমানে খেলার অবস্থা খুব তলানিতে। দেশে সন্ত্রাস, মাদক ও সামাজিক মাধ্যমে তরুণদের আসক্তি বেড়ে যাওয়ায় খেলাধুলা নিয়ে খুব বেশি চর্চা হচ্ছে না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খেলাধুলা নিয়ে ব্যাপক চর্চার ব্যবস্থা করা হবে।’

সকালে মিরপুরের ১২ নম্বর পল্লবী স্টেশনের সামনে থেকে গণসংযোগ কর্মসূচি শুরুর প্রাক্কালে এক পথসভায় ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক ধর্মের অপব্যবহার, তথ্য জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘যারা ধর্মকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে, তারা মূলত ধর্মের নামে মিথ্যাচার করছে এবং ধর্মপ্রাণ মানুষকে প্রতারণা করছে।’

গতকাল রাজধানীর সবুজবাগ থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ বাসাবো ইউনিটের উদ্যোগে এক উঠান বৈঠক ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন ঢাকা-৯ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

এ সময় তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে সফল করতে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ভোট দেওয়া শুধু অধিকার নয়, এটি দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ব।’

সকালে রাজধানীর সুরিটোলা স্কুলের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। এ সময় পুরান ঢাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, দূষণ ও ট্রাফিক জ্যামের মতো জটিল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পুরান ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা হবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক

বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের অঙ্গীকার তারেক রহমানের

প্রকাশিত সময় : ১২:১৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনী প্রচারের দ্বিতীয় দিনে নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ আসনে প্রচার চালিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বক্তব্য শুরুর আগে ভাষানটেক বস্তির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মঞ্চে ডেকে তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের অঙ্গীকার করেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ভাষানটেকে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ‘দেশ পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, কৃষি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বস্তিবাসীর পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবে বিএনপি।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আন্দোলন ও সংগ্রাম হয়েছে। স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন দেশ গঠন করতে হবে। স্বৈরাচারের কারণে আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছিল। এখন দেশ পুনর্গঠনে নিজেদের প্রতিনিধি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে হবে। আমি, তুমি ও ডামির নির্বাচন যখন হয়েছে, তখন সমস্যা নিয়ে জনপ্রতিনিধির কাছে যাওয়া যায়নি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। শুধু জাতীয় নির্বাচনে নয়, একই সঙ্গে পৌরসভা-উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদ সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ, সব ক্ষেত্রে জবাবদিহি থাকতে হবে। আর যারা জনপ্রতিনিধি হবেন, তাদের অবশ্যই জানতে হবে জনগণের সমস্যা কী।’

‘১৫ বছরের দুঃশাসন পেছনে ফেলে জনগণ এখন বড় পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষায় আছে’ এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এলাকার সমস্যা সমাধান করতে হলে, দেশের উন্নয়ন করতে হলে অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করতে হবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে এবং ভোট দিয়ে নিজের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে।’

জনসভায় অংশ নেওয়া মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের মুখ থেকে সমস্যা জানতে চাই। আমার প্রত্যাশা, প্রতিটি জনপ্রতিনিধি আগামী দিনে জনগণের কাছে যাবেন, তাদের সমস্যা শুনে সমাধান করবেন।’ তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভ্যানগাড়ি চালক জুয়েল, গৃহিণী নাসিমা আকতারসহ কয়েকজন বস্তিবাসী বক্তব্য দেন।

এ সময় নিজের পরিকল্পনা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষকের জন্য বিশেষ কার্ড ও ঋণের ব্যবস্থা করে কৃষির উন্নয়নে কাজ করবে বিএনপি। এছাড়া যুবকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে চাই আমরা। যাতে ভবিষ্যতে তারা কর্মসংস্থান পায়, বিদেশে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যেতে পারে অথবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে পারে। নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থাসহ নারীর ক্ষমতায়নে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কাজ করবে।’

‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ উপস্থিত জনতার উদ্দেশে এই শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধানের শীষকে যতবার জনগণ নির্বাচিত করেছে, ততবার মানুষের উন্নতি হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সারা দেশে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। সবার আত্মীয়-স্বজনকেও অনুরোধ করবেন ধানের শীষে ভোট দিতে।’

মঞ্চে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। বিএনপি নেতাদের মধ্যে ছিলেন নজরুল ইসলাম খান, আব্দুস সালাম, ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিমুদ্দিন আলম, আমিনুল হক, মোস্তফা জামান, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদের মাহমুদ ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা অংশ নেন।

ঢাকা-১৭ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত। মূলত গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, বারিধারা, শাহজাদপুর এবং ঢাকা সেনানিবাসের একাংশ নিয়ে এই আসন গঠিত।

রাজধানীর বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের প্রচার

জুমার নামাজের পর শাহজাহানপুরে পারিবারিক কবর জিয়ারতের মাধ্যমে দ্বিতীয় দিনের মতো প্রচারণা শুরু করেন ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। বিকেলে রাজধানীর আরামবাগে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বর্তমানে খেলাধুলার অবস্থা তলানিতে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘খেলাধুলা নিয়ে কোনো সরকারই যথাযথ কাজ করেনি। বর্তমানে খেলার অবস্থা খুব তলানিতে। দেশে সন্ত্রাস, মাদক ও সামাজিক মাধ্যমে তরুণদের আসক্তি বেড়ে যাওয়ায় খেলাধুলা নিয়ে খুব বেশি চর্চা হচ্ছে না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খেলাধুলা নিয়ে ব্যাপক চর্চার ব্যবস্থা করা হবে।’

সকালে মিরপুরের ১২ নম্বর পল্লবী স্টেশনের সামনে থেকে গণসংযোগ কর্মসূচি শুরুর প্রাক্কালে এক পথসভায় ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক ধর্মের অপব্যবহার, তথ্য জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘যারা ধর্মকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে, তারা মূলত ধর্মের নামে মিথ্যাচার করছে এবং ধর্মপ্রাণ মানুষকে প্রতারণা করছে।’

গতকাল রাজধানীর সবুজবাগ থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ বাসাবো ইউনিটের উদ্যোগে এক উঠান বৈঠক ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন ঢাকা-৯ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

এ সময় তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে সফল করতে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ভোট দেওয়া শুধু অধিকার নয়, এটি দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ব।’

সকালে রাজধানীর সুরিটোলা স্কুলের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। এ সময় পুরান ঢাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা, দূষণ ও ট্রাফিক জ্যামের মতো জটিল সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পুরান ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা হবে।’