শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে এসআইকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখার ভিডিও ভাইরাল

রাজশাহীর পুঠিয়ায় বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহতের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও ঘুষ নিয়ে চালককে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে পুলিশের এক উপপরির্দশকে (এসআই) প্রায় দুই ঘণ্টা কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা। এসআইর সঙ্গে একই স্থানে ওসিকেও অবরুদ্ধ করা হয়। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে পুলিশ সদস্যের কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকার একটি ভিডিও ও একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে বিক্ষুব্ধ লোকজনকে বলতে শোনা যায়, “ওই যে ওসি। কান ধর, কান ধর।” অবশ্য ওসিকে কান ধরতে দেখা যায়নি।

ভিডিওতে আরো বলতে শোনা যায়, “এটা বেলপুকুর থানার পুলিশ। কান ধরে দাঁড়িয়েছে। জনগণের কাছে কট।”

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে পুঠিয়ার পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হন। তাদের মধ্যে একজন বেসরকারি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, একজন নারী এবং আরেকজন পুরুষ। আরো ছয়জন আহত হয়ে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ঘটনার পর স্থানীয়রা রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট তৈরি হয়। রাতের দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে এক পুলিশ সদস্যকে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে নেটিজেনরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে ওই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে বেলপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরজুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি রাজশাহী মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারাও।

পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, “সীমানা নিয়ে জটিলতার কারণে সমস্যা হয়েছে। মূলত, দুর্ঘটনার স্থানটি ছিল হাইওয়ে থানাধীন। আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। স্থানীয়রা না বুঝে বেলপুকুর থানার এসআইকে অবরুদ্ধ করে। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজশাহীতে এসআইকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখার ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীর পুঠিয়ায় বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহতের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও ঘুষ নিয়ে চালককে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে পুলিশের এক উপপরির্দশকে (এসআই) প্রায় দুই ঘণ্টা কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা। এসআইর সঙ্গে একই স্থানে ওসিকেও অবরুদ্ধ করা হয়। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে পুলিশ সদস্যের কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকার একটি ভিডিও ও একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে বিক্ষুব্ধ লোকজনকে বলতে শোনা যায়, “ওই যে ওসি। কান ধর, কান ধর।” অবশ্য ওসিকে কান ধরতে দেখা যায়নি।

ভিডিওতে আরো বলতে শোনা যায়, “এটা বেলপুকুর থানার পুলিশ। কান ধরে দাঁড়িয়েছে। জনগণের কাছে কট।”

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে পুঠিয়ার পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হন। তাদের মধ্যে একজন বেসরকারি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, একজন নারী এবং আরেকজন পুরুষ। আরো ছয়জন আহত হয়ে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ঘটনার পর স্থানীয়রা রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট তৈরি হয়। রাতের দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে এক পুলিশ সদস্যকে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে নেটিজেনরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে ওই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে বেলপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরজুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি রাজশাহী মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারাও।

পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, “সীমানা নিয়ে জটিলতার কারণে সমস্যা হয়েছে। মূলত, দুর্ঘটনার স্থানটি ছিল হাইওয়ে থানাধীন। আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। স্থানীয়রা না বুঝে বেলপুকুর থানার এসআইকে অবরুদ্ধ করে। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।”