রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ১৫

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনি জনসভা শেষে ফেরার পথে জামায়াত-শিবির এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উপজেলা শিবির সভাপতিসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার জগন্নাথ ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে সংঘর্ষ হয়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা দক্ষিণ শিবির সভাপতি রিফাত সানি, জামায়াতে কর্মী রাসেল, রবিউল হোসেন রকি ও রাসেল। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলাইমান চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজান খান, মামুন, নাজমা বেগম ও নার্গিসসহ কয়েকজন আহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জামায়াতের জনসভা শেষে পিকআপ ভ্যানে করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় হাটবাইর গ্রামে পৌঁছালে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজান খান, গাজী ইয়াছিন ও মোবারক চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মু. বেলাল হোসাইন বলেন, জনসভা শেষে ফেরার পথে তাঁদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। এতে শিবিরের উপজেলা সভাপতি রিফাত সানিসহ চারজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শাহ আলম রাজু বলেন, চৌদ্দগ্রামে বিএনপি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাই প্রথমে হামলা চালান। এতে বিএনপির অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনাতেও মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত উভয় পক্ষের কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কুমিল্লায় জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ১৫

প্রকাশিত সময় : ০৯:১৮:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনি জনসভা শেষে ফেরার পথে জামায়াত-শিবির এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উপজেলা শিবির সভাপতিসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার জগন্নাথ ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে সংঘর্ষ হয়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা দক্ষিণ শিবির সভাপতি রিফাত সানি, জামায়াতে কর্মী রাসেল, রবিউল হোসেন রকি ও রাসেল। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সোলাইমান চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজান খান, মামুন, নাজমা বেগম ও নার্গিসসহ কয়েকজন আহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জামায়াতের জনসভা শেষে পিকআপ ভ্যানে করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় হাটবাইর গ্রামে পৌঁছালে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজান খান, গাজী ইয়াছিন ও মোবারক চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মু. বেলাল হোসাইন বলেন, জনসভা শেষে ফেরার পথে তাঁদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। এতে শিবিরের উপজেলা সভাপতি রিফাত সানিসহ চারজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শাহ আলম রাজু বলেন, চৌদ্দগ্রামে বিএনপি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাই প্রথমে হামলা চালান। এতে বিএনপির অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনাতেও মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত উভয় পক্ষের কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।