শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে স্কুলছাত্র নিহত

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

বুধবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর গুলিবিদ্ধ হয়ে মুস্তাকিমের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন।

নিহত মুস্তাকিম সৌদি আরব প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে। সে স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সায়দাবাদ এলাকায় হানিফ মাষ্টার ও এরশাদ মিয়ার নেতৃত্বাধীন দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে আজ সকালে এরশাদ গ্রুপের অনুসারীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাষ্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এক পর্যায়ে এরশাদ গ্রুপের অনুসারী ও সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না বন্দুক থেকে গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ হয়ে মুস্তাকিম ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

নিহত মুস্তাকিমের মা শাহানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে কোনো দলের না। ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, সেখানেই তাকে গুলি করে মেরে ফেলল। যারা আমার বুক খালি করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, “মুস্তাকিমের শরীরের বাম পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে বেরিয়ে গেছে। হাসপাতালে আনার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।”

রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে স্কুলছাত্র নিহত

প্রকাশিত সময় : ০৩:১৭:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

বুধবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর গুলিবিদ্ধ হয়ে মুস্তাকিমের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন।

নিহত মুস্তাকিম সৌদি আরব প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে। সে স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সায়দাবাদ এলাকায় হানিফ মাষ্টার ও এরশাদ মিয়ার নেতৃত্বাধীন দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে আজ সকালে এরশাদ গ্রুপের অনুসারীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাষ্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এক পর্যায়ে এরশাদ গ্রুপের অনুসারী ও সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না বন্দুক থেকে গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ হয়ে মুস্তাকিম ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

নিহত মুস্তাকিমের মা শাহানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে কোনো দলের না। ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, সেখানেই তাকে গুলি করে মেরে ফেলল। যারা আমার বুক খালি করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, “মুস্তাকিমের শরীরের বাম পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে বেরিয়ে গেছে। হাসপাতালে আনার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।”

রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”