শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাশিমপুর কারাগারে ‘আয়নাবাজি’ করতে গিয়ে ধরা পড়লেন আজিজুল

গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ ‘আয়নাবাজি’ সিনেমার মতো একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। টাকার বিনিময়ে অন্য আসামির হয়ে জেল খাটতে গিয়ে ধরা পড়েছেন মো. আজিজুল হক নামের এক ব্যক্তি। ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় কারা অধিদপ্তর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৫ জানুয়ারি মো. রাজিব (২৬) নামের এক ব্যক্তি টঙ্গী পূর্ব থানার একটি মামলায় গাজীপুর জেলা কারাগারে আসেন। তাঁর হাজতি নম্বর ১৮১০/২৬। বাবার নাম মো. রজব আলী চৌকদার। বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার আড়িয়া গ্রামে। গত ৩১ জানুয়ারি তাঁকে গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ পাঠানো হয়।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে অনলাইন ডেটাবেইসে তথ্য এন্ট্রির সময় বন্দীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হলে দেখা যায়, আগত ব্যক্তিটির নাম মো. রাজিব নয়; বরং ডেটাবেইসে মো. আজিজুল হক। বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার কুড়িমারা। ওই এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে পরিচয় প্রদর্শিত হয়।

আরও বলা হয়, পরিচয়ে গরমিলের বিষয়টি সামনে আসার পর কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন, টাকার লোভে পড়ে তিনি প্রকৃত আসামি মো. রাজিবের পরিবর্তে মাদক মামলায় জেল খাটতে এসেছেন। তাঁর প্রকৃত নাম মো. আজিজুল হক বলে তিনি জানান।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি বিচারিক প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার একটি গুরুতর অপরাধ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কাশিমপুর কারাগারে ‘আয়নাবাজি’ করতে গিয়ে ধরা পড়লেন আজিজুল

প্রকাশিত সময় : ০৮:৪২:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ ‘আয়নাবাজি’ সিনেমার মতো একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। টাকার বিনিময়ে অন্য আসামির হয়ে জেল খাটতে গিয়ে ধরা পড়েছেন মো. আজিজুল হক নামের এক ব্যক্তি। ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় কারা অধিদপ্তর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৫ জানুয়ারি মো. রাজিব (২৬) নামের এক ব্যক্তি টঙ্গী পূর্ব থানার একটি মামলায় গাজীপুর জেলা কারাগারে আসেন। তাঁর হাজতি নম্বর ১৮১০/২৬। বাবার নাম মো. রজব আলী চৌকদার। বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার আড়িয়া গ্রামে। গত ৩১ জানুয়ারি তাঁকে গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ পাঠানো হয়।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে অনলাইন ডেটাবেইসে তথ্য এন্ট্রির সময় বন্দীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হলে দেখা যায়, আগত ব্যক্তিটির নাম মো. রাজিব নয়; বরং ডেটাবেইসে মো. আজিজুল হক। বাড়ি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার কুড়িমারা। ওই এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে পরিচয় প্রদর্শিত হয়।

আরও বলা হয়, পরিচয়ে গরমিলের বিষয়টি সামনে আসার পর কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন, টাকার লোভে পড়ে তিনি প্রকৃত আসামি মো. রাজিবের পরিবর্তে মাদক মামলায় জেল খাটতে এসেছেন। তাঁর প্রকৃত নাম মো. আজিজুল হক বলে তিনি জানান।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি বিচারিক প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার একটি গুরুতর অপরাধ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।