বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলের মনযোগ দেওয়ার এখনই সময়

দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। একদিকে ভারত যখন ‘সন্ত্রাসবাদকে’ সম্পর্কের প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করছে, অন্যদিকে পাকিস্তান জোরালোভাবে বিশ্বাস করে যে তার অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসবাদে প্রতিবেশী রাষ্ট্রটির সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। আস্থার এই বিশাল ঘাটতি দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে অমীমাংসিত কাশ্মীর ইস্যু। ২০১৯ সালে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বা স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে নয়াদিল্লি দাবি করার চেষ্টা করেছিল যে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে কাশ্মীর এখনও একটি অমীমাংসিত এবং বিতর্কিত ভূখণ্ড হিসেবেই স্বীকৃত।

গত বছর পাহলগাম সংকটের পর দুই দেশ যেভাবে সীমিত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল, তা প্রমাণ করে যে এই বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংঘাতের আশঙ্কা কখনোই দূর হবে না।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা কাশ্মীরে চলমান দমন-পীড়ন এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে কাশ্মীরি শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের ওপর উগ্রবাদী হামলার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হেফাজতে মৃত্যু, নির্যাতন এবং নির্বিচার গ্রেপ্তারের মতো ঘটনাগুলো ওই অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। পাকিস্তান দীর্ঘকাল ধরে আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসলেও ভারত সরকার বরাবরই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

নয়াদিল্লি কাশ্মীরে কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা পছন্দ না করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীতা অনস্বীকার্য হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই একাধিকবার এই বিরোধ মীমাংসায় সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

গত বছর তিনি দুই দেশের যুদ্ধ থামানোর দাবিও করেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত বাইরের চাপে কিছুটা নমনীয় হতে পারে, যেমনটি তারা রুশ তেল কেনা বন্ধের ক্ষেত্রে দেখিয়েছে। ট্রাম্প তার প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধানে উদ্যোগী হবেন কিনা, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সূত্র: দ্য ড

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলের মনযোগ দেওয়ার এখনই সময়

প্রকাশিত সময় : ০৯:০৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। একদিকে ভারত যখন ‘সন্ত্রাসবাদকে’ সম্পর্কের প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করছে, অন্যদিকে পাকিস্তান জোরালোভাবে বিশ্বাস করে যে তার অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসবাদে প্রতিবেশী রাষ্ট্রটির সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। আস্থার এই বিশাল ঘাটতি দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে অমীমাংসিত কাশ্মীর ইস্যু। ২০১৯ সালে ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বা স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে নয়াদিল্লি দাবি করার চেষ্টা করেছিল যে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে কাশ্মীর এখনও একটি অমীমাংসিত এবং বিতর্কিত ভূখণ্ড হিসেবেই স্বীকৃত।

গত বছর পাহলগাম সংকটের পর দুই দেশ যেভাবে সীমিত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল, তা প্রমাণ করে যে এই বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংঘাতের আশঙ্কা কখনোই দূর হবে না।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা কাশ্মীরে চলমান দমন-পীড়ন এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে কাশ্মীরি শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের ওপর উগ্রবাদী হামলার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হেফাজতে মৃত্যু, নির্যাতন এবং নির্বিচার গ্রেপ্তারের মতো ঘটনাগুলো ওই অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। পাকিস্তান দীর্ঘকাল ধরে আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসলেও ভারত সরকার বরাবরই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

নয়াদিল্লি কাশ্মীরে কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা পছন্দ না করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীতা অনস্বীকার্য হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই একাধিকবার এই বিরোধ মীমাংসায় সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

গত বছর তিনি দুই দেশের যুদ্ধ থামানোর দাবিও করেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত বাইরের চাপে কিছুটা নমনীয় হতে পারে, যেমনটি তারা রুশ তেল কেনা বন্ধের ক্ষেত্রে দেখিয়েছে। ট্রাম্প তার প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধানে উদ্যোগী হবেন কিনা, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সূত্র: দ্য ড