মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটকেন্দ্র দখলচেষ্টা জনগণই প্রতিরোধ করবে: হাসনাত

ভোটকেন্দ্র দখলচেষ্টা জনগণই প্রতিরোধ করবে বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র দখলের যেকোনো অপচেষ্টা বাংলার জনগণ মেনে নেবে না। ভোট কেন্দ্র জনগণের অধিকার। যদি কেউ জোর করে ভোটকেন্দ্র দখলচেষ্টা করে, তাহলে বাংলার জনগণ তা সহ্য করবে না। জনগণ তাদের ভোটের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠ ১১ দলীয় জোটের আয়োজিত সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের নির্বাচনী জনসভায় হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব জানিয়ে তিনি বলেন,  নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা সহিংসতা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

ভোটারদের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, ভয় নয়, সাহস নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। আপনার ভোটই আপনার শক্তি।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের আশা-আকঙ্খা পূরণে ১১ দলীয় জোট একটি কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম। আগামী ১২ তারিখ এই জোটের মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও ন্যায়ের পক্ষে এই জোট ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।

দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ১১ দলীয় জোট শুধু রাজনৈতিক জোট নয়, এটি জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। এই উদ্যোগ দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে।

যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ব্যবস্থা ও আত্মীয়তা করেছে তাদের উদ্দেশ্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে ব্যবসায়ীক সুবিধা নিয়েছে, তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। দেশের ক্রীড়া ও সামাজিক অঙ্গনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হলে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলার মাঠ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এখানে সুযোগ পাবে মেধা, যোগ্যতা ও সততা।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তিরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে এসেছে। এর ফলে প্রকৃত প্রতিভাবানরা বঞ্চিত হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে সংস্কারের উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, অনেকে একে রাজনৈতিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে প্রার্থী হাসনাত বলেন, নির্বাচনের সময় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রশাসন জনগণের সেবক। কোনো দল বা ব্যক্তির পক্ষে নয়। আইন ও সংবিধানের পক্ষে দাঁড়ানোই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ভোট কেন্দ্র দখল, ভয়ভীতি বা অনিয়মের কোনো চেষ্টা হলে প্রশাসনকে কঠোরভাবে তা প্রতিহত করতে হবে। প্রশাসন যদি সৎ ও নিরপেক্ষ থাকে, তাহলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব। জনগণের আস্থা ফেরাতে প্রশাসনের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ জনগণ মেনে নেবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী রফিকুল আলম খান ও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের এনসিপির প্রার্থী এস এম সাইফ মোস্তাফিজ প্রমুখ। জনসভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভোটকেন্দ্র দখলচেষ্টা জনগণই প্রতিরোধ করবে: হাসনাত

প্রকাশিত সময় : ০৫:৪৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোটকেন্দ্র দখলচেষ্টা জনগণই প্রতিরোধ করবে বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র দখলের যেকোনো অপচেষ্টা বাংলার জনগণ মেনে নেবে না। ভোট কেন্দ্র জনগণের অধিকার। যদি কেউ জোর করে ভোটকেন্দ্র দখলচেষ্টা করে, তাহলে বাংলার জনগণ তা সহ্য করবে না। জনগণ তাদের ভোটের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠ ১১ দলীয় জোটের আয়োজিত সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের নির্বাচনী জনসভায় হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব জানিয়ে তিনি বলেন,  নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা সহিংসতা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

ভোটারদের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, ভয় নয়, সাহস নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবেন। আপনার ভোটই আপনার শক্তি।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের আশা-আকঙ্খা পূরণে ১১ দলীয় জোট একটি কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম। আগামী ১২ তারিখ এই জোটের মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও ন্যায়ের পক্ষে এই জোট ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।

দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ১১ দলীয় জোট শুধু রাজনৈতিক জোট নয়, এটি জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। এই উদ্যোগ দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে।

যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ব্যবস্থা ও আত্মীয়তা করেছে তাদের উদ্দেশ্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে ব্যবসায়ীক সুবিধা নিয়েছে, তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। দেশের ক্রীড়া ও সামাজিক অঙ্গনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হলে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলার মাঠ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এখানে সুযোগ পাবে মেধা, যোগ্যতা ও সততা।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তিরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে এসেছে। এর ফলে প্রকৃত প্রতিভাবানরা বঞ্চিত হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে সংস্কারের উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, অনেকে একে রাজনৈতিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে প্রার্থী হাসনাত বলেন, নির্বাচনের সময় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রশাসন জনগণের সেবক। কোনো দল বা ব্যক্তির পক্ষে নয়। আইন ও সংবিধানের পক্ষে দাঁড়ানোই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ভোট কেন্দ্র দখল, ভয়ভীতি বা অনিয়মের কোনো চেষ্টা হলে প্রশাসনকে কঠোরভাবে তা প্রতিহত করতে হবে। প্রশাসন যদি সৎ ও নিরপেক্ষ থাকে, তাহলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব। জনগণের আস্থা ফেরাতে প্রশাসনের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ জনগণ মেনে নেবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী রফিকুল আলম খান ও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের এনসিপির প্রার্থী এস এম সাইফ মোস্তাফিজ প্রমুখ। জনসভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ।