শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী বিভাগের অর্ধেকের বেশি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, বাড়ছে সহিংসতার আশঙ্কা

নির্বাচনে নাশকতার পরিকল্পনা চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর হতে শনিবার রাত ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে ১টি ওয়ান শ্যুটার পিস্তল, ৫ রাউন্ড কার্তুজ, ২টি ম্যাগাজিন ও ৮টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৫। এদিকে রাজশাহীর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এভাবেই দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র তৈরি করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত এগারোটার দিকে উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের বৈইকুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের বাঁশবাগান থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব-৫ এর একটি দল।

র‌্যাবের পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, র‌্যাব ধারনা করছে যে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র সমূহ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অশান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে নাশকতার পরিকল্পনায় দুষ্কৃতিকারীরা মজুদ করে রেখেছিল।

এর আগের দিন শুক্রবার ভোরে রাজশাহী বিজিবি-১ এর একটি দল বাঘা উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এর কয়েকদিন আগে বিজিবি রাজশাহীর চর থেকে দুটি বিদেশি পিস্তুল উদ্ধার করে। বিজিবি-১ এর সহকারী পরিচালক সোহাগ মিলন জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে দুস্কৃতিকারীরা অস্ত্রগুলোগুলো মজুদ করার চেষ্টা করেছিল।

রাজশাহীর বাগমারার আউচপাড়া এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার নির্বাচন কেন জানি সহিংস হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচনের আগে অস্ত্র মজুদ করার বিষয়টি অবশ্যই সঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কড়া নজরদারি করতে হবে।

এদিকে, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে সহিংসতার আশঙ্কাও বাড়ছে। ফলে এসব কেন্দ্রের জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা ও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার ৫ হাজার ৫০৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২ হাজার ৭৮৬ ভোটকেন্দ্র প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের সূত্রমতে, রাজশাহীর ৩৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে রাজশাহী ও বগুড়ায়। তবে ভোটকেন্দ্রগুলোয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রস্তুতিও চলছে পুরোদমে। রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার ৫ হাজার ৫০৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২ হাজার ৭৮৬ ভোটকেন্দ্র প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বগুড়ার আসনের ৯৮৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫০১টি ঝুঁকিপূর্ণ। রাজশাহীর ছয়টি আসনের ৭৭৮টি কেন্দ্রে ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৩৯টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে ৫১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ। নাটোরের ৪টি আসনের ৭৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯২টি ঝুঁকিপূর্ণ। নওগাঁর ৬টি আসনের ৭৮২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬৪টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনে ৯২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৬২টি ঝুঁকিপূর্ণ। পাবনার ৫টি আসনে ৭১২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৬৯টি ঝুঁকিপূর্ণ। জয়পুরহাটের ২টি আসনে ২৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭৬টি ঝুঁকিপূর্ণ।

এ বিষয়ে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচনি পরিবেশ শান্তিপূর্ণ আছে। তবে শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে বিভিন্ন জায়গায় যেসব অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে-তাতে কিছুটা তো শঙ্কা থেকেই যায়। তার পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তৎপর রয়েছে। নির্বাচনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না।

পাবনার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র পাবনা-৪ আসন। এরই মধ্যে এ আসনে জামায়াতে ইসলাম ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়াও এখানে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী ও বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

পাবনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউর রহমান মন্ডল বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ফলে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিমুক্ত থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজশাহী বিভাগের অর্ধেকের বেশি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, বাড়ছে সহিংসতার আশঙ্কা

প্রকাশিত সময় : ০৩:১১:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনে নাশকতার পরিকল্পনা চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর হতে শনিবার রাত ১০টার দিকে অভিযান চালিয়ে ১টি ওয়ান শ্যুটার পিস্তল, ৫ রাউন্ড কার্তুজ, ২টি ম্যাগাজিন ও ৮টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৫। এদিকে রাজশাহীর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এভাবেই দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র তৈরি করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত এগারোটার দিকে উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের বৈইকুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের বাঁশবাগান থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে র‌্যাব-৫ এর একটি দল।

র‌্যাবের পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, র‌্যাব ধারনা করছে যে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র সমূহ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অশান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে নাশকতার পরিকল্পনায় দুষ্কৃতিকারীরা মজুদ করে রেখেছিল।

এর আগের দিন শুক্রবার ভোরে রাজশাহী বিজিবি-১ এর একটি দল বাঘা উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এর কয়েকদিন আগে বিজিবি রাজশাহীর চর থেকে দুটি বিদেশি পিস্তুল উদ্ধার করে। বিজিবি-১ এর সহকারী পরিচালক সোহাগ মিলন জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে দুস্কৃতিকারীরা অস্ত্রগুলোগুলো মজুদ করার চেষ্টা করেছিল।

রাজশাহীর বাগমারার আউচপাড়া এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার নির্বাচন কেন জানি সহিংস হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচনের আগে অস্ত্র মজুদ করার বিষয়টি অবশ্যই সঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কড়া নজরদারি করতে হবে।

এদিকে, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে সহিংসতার আশঙ্কাও বাড়ছে। ফলে এসব কেন্দ্রের জন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা ও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার ৫ হাজার ৫০৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২ হাজার ৭৮৬ ভোটকেন্দ্র প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের সূত্রমতে, রাজশাহীর ৩৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে রাজশাহী ও বগুড়ায়। তবে ভোটকেন্দ্রগুলোয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রস্তুতিও চলছে পুরোদমে। রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার ৫ হাজার ৫০৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২ হাজার ৭৮৬ ভোটকেন্দ্র প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বগুড়ার আসনের ৯৮৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫০১টি ঝুঁকিপূর্ণ। রাজশাহীর ছয়টি আসনের ৭৭৮টি কেন্দ্রে ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৩৯টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে ৫১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ। নাটোরের ৪টি আসনের ৭৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯২টি ঝুঁকিপূর্ণ। নওগাঁর ৬টি আসনের ৭৮২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬৪টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জের ৬টি আসনে ৯২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৬২টি ঝুঁকিপূর্ণ। পাবনার ৫টি আসনে ৭১২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৬৯টি ঝুঁকিপূর্ণ। জয়পুরহাটের ২টি আসনে ২৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭৬টি ঝুঁকিপূর্ণ।

এ বিষয়ে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচনি পরিবেশ শান্তিপূর্ণ আছে। তবে শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে বিভিন্ন জায়গায় যেসব অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে-তাতে কিছুটা তো শঙ্কা থেকেই যায়। তার পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তৎপর রয়েছে। নির্বাচনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না।

পাবনার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র পাবনা-৪ আসন। এরই মধ্যে এ আসনে জামায়াতে ইসলাম ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়াও এখানে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী ও বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

পাবনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউর রহমান মন্ডল বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ফলে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিমুক্ত থাকবে।