শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোট দিতে ঈদের মত বাড়ির পানে ছুটছে মানুষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে রাজশাহী শুরু হয়েছে ঘরে ফেরার ব্যস্ততা। ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে রাজশাহী শহর ছাড়ছেন শহরে থাকা কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার ভোটাররা। ফলে রাজশাহী বাস টার্মিনাল এবং রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনজুড়ে তৈরি হয়েছে উপচে পড়া ভিড়। নির্বাচন ঘিরে এই যাত্রা অনেকের কাছেই যেন ঈদের বাড়ি ফেরার মতো আনন্দের।

 

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকেই রাজশাহী রেলস্টেশনে বাড়তে থাকে যাত্রীদের চাপ। সূর্য ওঠার আগেই প্ল্যাটফর্মে জড়ো হন শত শত মানুষ। কারও হাতে বড় ট্রলি ব্যাগ, কারও কাঁধে ব্যাকপ্যাক, কেউ আবার শিশুদের হাত ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ট্রেনের ঘোষণা ভেসে আসার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়। কেউ সিট খুঁজছেন, কেউ স্বজনদের ডাকছেন, কেউ শেষ মুহূর্তে ফোনে বাড়ির খবর নিচ্ছেন। মুহূর্তেই স্টেশন এলাকা হয়ে ওঠে সরব ও প্রাণচঞ্চল।

রাজশাহী স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, দল বেঁধে যাচ্ছেন অনেকেই। বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠেছেন কেউ কেউ। আবার কেউ চুপচাপ অপেক্ষা করছেন ট্রেনের। কিন্তু সবার চোখেমুখেই একই রকম উচ্ছ্বাস। দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের উৎসবের আবহ। তবে, বাস না পেয়ে অনেক যাত্রীকে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।

নগরীরতে একটি ঔষধ কোম্পানিতে কর্মরত রাকিব হাসানের বাড়ী রংপুর জেলায়,তিনি বলেন, ‘বছরে এক-দুবারের বেশি বাড়ি যাওয়া হয় না। ভোটটা নিজের এলাকায় গিয়ে দিতে চাই। মনে হচ্ছে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছি।’

শুধু রেলস্টেশন নয়, বাস টার্মিনালেওএকই চিত্র। শিরোইল জেলাও আন্তঃজেলা বাসটার্মীনালে সকাল থেকেই বাড়তি যাত্রীচাপ লক্ষ্য করা গেছে। দূরপাল্লার বাসের কাউন্টারে টিকিট সংগ্রহে লম্বা লাইন দেখা যায়। অনেকে আগেভাগে টিকিট কেটে রাখলেও শেষ মুহূর্তে টিকিট না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন কেউ কেউ।

রেলওয়ে ও বাস সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যাত্রীচাপ সামাল দিতে ট্রেন অতিরিক্ত কোচ লাগানো হয়েছে, এমন কি আন্তঃনগরসহ সকল ট্রেনের অফডে বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে অতিরিক্ত বাস চালানোর উদ্যোগ নিয়েছন বাস মালিক সমিতি।। তবুও নির্বাচন ঘিরে বাড়ি ফেরার চাপ পুরোপুরি কমানো যাচ্ছে না।

এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ছুটি কার্যকর থাকবে।

 

সব মিলিয়ে রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলো এখন শুধু যাত্রাপথ নয়, যেন এক মিলনমেলা। ভোটের টানে শেকড়ে ফেরার এই স্রোত জানান দিচ্ছে, নির্বাচন ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ কতটা প্রাণবন্ত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভোট দিতে ঈদের মত বাড়ির পানে ছুটছে মানুষ

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে রাজশাহী শুরু হয়েছে ঘরে ফেরার ব্যস্ততা। ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে রাজশাহী শহর ছাড়ছেন শহরে থাকা কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার ভোটাররা। ফলে রাজশাহী বাস টার্মিনাল এবং রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনজুড়ে তৈরি হয়েছে উপচে পড়া ভিড়। নির্বাচন ঘিরে এই যাত্রা অনেকের কাছেই যেন ঈদের বাড়ি ফেরার মতো আনন্দের।

 

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকেই রাজশাহী রেলস্টেশনে বাড়তে থাকে যাত্রীদের চাপ। সূর্য ওঠার আগেই প্ল্যাটফর্মে জড়ো হন শত শত মানুষ। কারও হাতে বড় ট্রলি ব্যাগ, কারও কাঁধে ব্যাকপ্যাক, কেউ আবার শিশুদের হাত ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ট্রেনের ঘোষণা ভেসে আসার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়। কেউ সিট খুঁজছেন, কেউ স্বজনদের ডাকছেন, কেউ শেষ মুহূর্তে ফোনে বাড়ির খবর নিচ্ছেন। মুহূর্তেই স্টেশন এলাকা হয়ে ওঠে সরব ও প্রাণচঞ্চল।

রাজশাহী স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, দল বেঁধে যাচ্ছেন অনেকেই। বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প-আড্ডায় মেতে উঠেছেন কেউ কেউ। আবার কেউ চুপচাপ অপেক্ষা করছেন ট্রেনের। কিন্তু সবার চোখেমুখেই একই রকম উচ্ছ্বাস। দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের উৎসবের আবহ। তবে, বাস না পেয়ে অনেক যাত্রীকে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।

নগরীরতে একটি ঔষধ কোম্পানিতে কর্মরত রাকিব হাসানের বাড়ী রংপুর জেলায়,তিনি বলেন, ‘বছরে এক-দুবারের বেশি বাড়ি যাওয়া হয় না। ভোটটা নিজের এলাকায় গিয়ে দিতে চাই। মনে হচ্ছে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছি।’

শুধু রেলস্টেশন নয়, বাস টার্মিনালেওএকই চিত্র। শিরোইল জেলাও আন্তঃজেলা বাসটার্মীনালে সকাল থেকেই বাড়তি যাত্রীচাপ লক্ষ্য করা গেছে। দূরপাল্লার বাসের কাউন্টারে টিকিট সংগ্রহে লম্বা লাইন দেখা যায়। অনেকে আগেভাগে টিকিট কেটে রাখলেও শেষ মুহূর্তে টিকিট না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন কেউ কেউ।

রেলওয়ে ও বাস সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যাত্রীচাপ সামাল দিতে ট্রেন অতিরিক্ত কোচ লাগানো হয়েছে, এমন কি আন্তঃনগরসহ সকল ট্রেনের অফডে বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে অতিরিক্ত বাস চালানোর উদ্যোগ নিয়েছন বাস মালিক সমিতি।। তবুও নির্বাচন ঘিরে বাড়ি ফেরার চাপ পুরোপুরি কমানো যাচ্ছে না।

এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ছুটি কার্যকর থাকবে।

 

সব মিলিয়ে রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলো এখন শুধু যাত্রাপথ নয়, যেন এক মিলনমেলা। ভোটের টানে শেকড়ে ফেরার এই স্রোত জানান দিচ্ছে, নির্বাচন ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ কতটা প্রাণবন্ত।