শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেনীতে ভুল তথ্যে জামায়াত সমর্থকের বাড়িতে অভিযান

ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ফেনীর দাগনভূঁঞা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বদুর রহিমের বাড়িতে পুলিশের অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকা। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে থানা ঘেরাও করেন জামায়াতের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে আবদুর রহিমের বাড়িতে পুলিশি অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী দাগনভূঁঞা থানা অভিমুখে যাত্রা করেন এবং থানা প্রাঙ্গণ ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আলোচনার পর পরিস্থিতির সমাধান হয়।

ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি আব্দুল হান্নান বলেন, ‘অন্যায়ভাবে আমাদের লোককে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য দাগনভূঁঞা থানার ওসি নিরপেক্ষ নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের জানিয়েছে নির্বাচন পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দায়িত্ব পালন করবেন।

ফেনী সোনাগাজী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সৈয়দ মুমিদ রায়হান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘আবদুর রহিমের বাসা সম্পর্কে আমাদের কাছে যে তথ্য ছিল, অভিযানের সময় দেখা যায় তা ভুল ছিল। এই ঘটনার ফলে নির্বাচনে পুলিশের নিরপেক্ষতা ও শান্তি-শৃঙ্খলার পরিবেশ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। দাগনভূঁঞা এলাকায় নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে ‘স্পেশাল সুপারভাইজার অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই এলাকায় দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ফেনীতে ভুল তথ্যে জামায়াত সমর্থকের বাড়িতে অভিযান

প্রকাশিত সময় : ১১:২৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ফেনীর দাগনভূঁঞা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বদুর রহিমের বাড়িতে পুলিশের অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকা। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে থানা ঘেরাও করেন জামায়াতের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে আবদুর রহিমের বাড়িতে পুলিশি অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী দাগনভূঁঞা থানা অভিমুখে যাত্রা করেন এবং থানা প্রাঙ্গণ ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আলোচনার পর পরিস্থিতির সমাধান হয়।

ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি আব্দুল হান্নান বলেন, ‘অন্যায়ভাবে আমাদের লোককে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য দাগনভূঁঞা থানার ওসি নিরপেক্ষ নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের জানিয়েছে নির্বাচন পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দায়িত্ব পালন করবেন।

ফেনী সোনাগাজী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সৈয়দ মুমিদ রায়হান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘আবদুর রহিমের বাসা সম্পর্কে আমাদের কাছে যে তথ্য ছিল, অভিযানের সময় দেখা যায় তা ভুল ছিল। এই ঘটনার ফলে নির্বাচনে পুলিশের নিরপেক্ষতা ও শান্তি-শৃঙ্খলার পরিবেশ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। দাগনভূঁঞা এলাকায় নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে ‘স্পেশাল সুপারভাইজার অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই এলাকায় দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।