শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী বিভাগে ১ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন

  • রায়হান রোহানঃ
  • প্রকাশিত সময় : ১১:০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে রাজশাহী বিভাগে ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।

বিভাগীয় কমিশনার জানান, রাজশাহী বিভাগে মোট ৩৯টি সংসদীয় আসন রয়েছে। ৮টি জেলা, ৬৭টি উপজেলা, ১টি সিটি করপোরেশন, ৬২টি পৌরসভা ও ৫৬৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ বিভাগের আয়তন ১৮ হাজার ১৫৪ বর্গকিলোমিটার। এখানে প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ মানুষের বসবাস। চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন; যার মধ্যে পুরুষ, নারী ও হিজড়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মোট ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ২৮৭টি, এর মধ্যে ১ হাজার ৭৬৭টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৫৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। একই সময়ে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ ৭৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪৩৩টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ সময় বৈধ ৪ হাজার ৫৯৪টি অস্ত্র জমা পড়েছে। নির্বাচনকালীন গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনে ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। মোতায়েনকৃত ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা সদস্যের মধ্যে সেনাবাহিনীর ১০ হাজার, বিজিবির ৪ হাজার ১২৩, রেঞ্জ পুলিশের ১৩ হাজার ৭৯৬, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ২ হাজার ৪০৫, র‍্যাবের ১ হাজার ৬ এবং আনসারের ৭২ হাজার ৭৩৬ সদস্য রয়েছেন। প্রতি সংসদীয় আসনে গড়ে ২ হাজার ৬৬৮ জন এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রয়োজনীয়সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্তরভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ৫ হাজার ২৬৬টি কেন্দ্রে সিসিটিভি এবং ২ হাজার ৩১৮টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে কোর কমিটির মাধ্যমে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং ও সার্বিক সমন্বয়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে জয়েন্ট অপারেশন সেল কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। পাশাপাশি একটি মিডিয়া সেলও কাজ করছে। প্রতিদিন তিন থেকে চারবার নির্বাচনের হালনাগাদ তথ্য পিআইডির মাধ্যমে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার), পিএইচডি; রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজশাহী বিভাগে ১ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন

প্রকাশিত সময় : ১১:০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে রাজশাহী বিভাগে ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।

বিভাগীয় কমিশনার জানান, রাজশাহী বিভাগে মোট ৩৯টি সংসদীয় আসন রয়েছে। ৮টি জেলা, ৬৭টি উপজেলা, ১টি সিটি করপোরেশন, ৬২টি পৌরসভা ও ৫৬৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ বিভাগের আয়তন ১৮ হাজার ১৫৪ বর্গকিলোমিটার। এখানে প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ মানুষের বসবাস। চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন; যার মধ্যে পুরুষ, নারী ও হিজড়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মোট ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ২৮৭টি, এর মধ্যে ১ হাজার ৭৬৭টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৫৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। একই সময়ে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ ৭৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪৩৩টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ সময় বৈধ ৪ হাজার ৫৯৪টি অস্ত্র জমা পড়েছে। নির্বাচনকালীন গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনে ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। মোতায়েনকৃত ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা সদস্যের মধ্যে সেনাবাহিনীর ১০ হাজার, বিজিবির ৪ হাজার ১২৩, রেঞ্জ পুলিশের ১৩ হাজার ৭৯৬, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ২ হাজার ৪০৫, র‍্যাবের ১ হাজার ৬ এবং আনসারের ৭২ হাজার ৭৩৬ সদস্য রয়েছেন। প্রতি সংসদীয় আসনে গড়ে ২ হাজার ৬৬৮ জন এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রয়োজনীয়সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্তরভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ৫ হাজার ২৬৬টি কেন্দ্রে সিসিটিভি এবং ২ হাজার ৩১৮টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে কোর কমিটির মাধ্যমে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং ও সার্বিক সমন্বয়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে জয়েন্ট অপারেশন সেল কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। পাশাপাশি একটি মিডিয়া সেলও কাজ করছে। প্রতিদিন তিন থেকে চারবার নির্বাচনের হালনাগাদ তথ্য পিআইডির মাধ্যমে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার), পিএইচডি; রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।