আজ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটের রাজনীতিতে নানা সমীকরণ দেখা গেছে। প্রার্থী বাছাই, জোটসমীকরণ, প্রচারণার কৌশল, সবকিছুর মধ্যেই এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে এসেছে – নারী ভোটাররা। ফলে নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে নারী ভোটাররা বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন বলে আলোচনা হচ্ছে সর্বত্র।
সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ। এর মধ্যে নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে কম হলেও স্থানীয় নির্বাচনে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্তমানে শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্র নারীদের বিচরণ প্রমাণ করছে, রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তারা আর পিছিয়ে নেই। ফলে এবার যে কোনো আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দিতে পারে নারীদের ভোটের ঝোঁক।
রাজনৈতিক দলগুলোও বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন দলের নির্বাচনী ইশতেহারে নারীর নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষায় সমতা, ক্ষুদ্রঋণ ও উদ্যোক্তা সহায়তার মতো বিষয়গুলো বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের প্রচারণায় নারী সমাবেশ, উঠান বৈঠক, পাড়া-মহল্লাভিত্তিক মতবিনিময় সভা বাড়ানো হয়েছে। অনেক আসনে নারী ভোটারদের লক্ষ্য করে আলাদা কৌশলও নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীরা সাধারণত পরিবারকেন্দ্রিক ও সামাজিক ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেন। দ্রব্যমূল্য, শিক্ষা ব্যয়, চিকিৎসা সুবিধা, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা এসব বিষয় তাদের ভোটের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া স্থানীয় প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, আচরণ ও সহজপ্রাপ্যতাও নারী ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
গ্রামীণ অঞ্চলে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বাড়লেও এখনো কিছু জায়গায় সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব কাজ করে। তবে তরুণী ও শিক্ষিত নারী ভোটারদের মধ্যে স্বাধীন মত প্রকাশের প্রবণতা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নারীদের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ দৃশ্যমান।
নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, যে দল বা প্রার্থী নারীদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে, তাদের জন্য বিজয়ের পথ অনেকটাই সহজ হবে। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাই এখানে মূল বিষয়। ফলে এবারের নির্বাচনে নারী ভোটারদের মন জয় করাই হতে পারে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 





















