প্রায় দুই দশক পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরল বিএনপি। নেতৃত্ব দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে শপথ নিয়েছেন ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী। এর মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলো বিএনপি সরকারের।
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সর্বশেষ ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি। তখনও ১৯৩ আসন পেয়ে বিপুল জয় পায় বিএনপি। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী জোটবদ্ধ হয়ে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। এরপর ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে সেনাবাহিনী। জারি করা হয় জরুরি অবস্থা।
সেবছরই সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আটক হয়েছিলেন তারেক রহমান। তাকে শারীরিকভাবেও অনেক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। আঠারো মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে চলে যান তিনি। এর প্রায় সতের বছর সেখানে থেকেই বিএনপির হাল ধরেন। অনেকটা অনলাইন কার্যক্রমের মাধ্যমেই দল পরিচালনা করেন তারেক রহমান। নির্বাচন প্রস্তুতিকালে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তায় ঢাকায় ফিরে আসেন গত ২৫ ডিসেম্বর। লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর ঢাকায় ফিরে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা পেয়েছেন তিনি।
তারেক রহমান শুধু ফেরেননি, পুনরুদ্ধার করেছেন দেশের গণতন্ত্র, দলের হারানো গৌরব ও দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নির্যাতিত দলীয় কর্মীদের জন্য হয়েছেন মুক্তির দূত। বিএনপিকে এবারই প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিলেন তারেক রহমান এবং একই সঙ্গে তিনি নিজেও এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। আর ২১২ আসনে বিএনপি জোট বিজয়ী হয়ে ক্ষমতার পথ সুগম হয়। সফল, শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন শেষে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ নিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। সেইসঙ্গে প্রায় তিন যুগ পর দেশের প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রীও তিনি।
নির্বাচনের মাত্র মাসখানেক আগে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে অভিষিক্ত হয় তারেক রহমানের। তার নেতৃত্বে প্রায় দুই যুগ পর ভূমিধস জয় পায় বিএনপি। গঠন করেছে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকার। মূলত এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের তৈরি করা দলটি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংগঠিত ও জনপ্রিয় হওয়ার পর আবার একটি সমস্যা-সঙ্কুল পথ পাড়ি দিয়ে সফলতা এনে দিয়েছেন তারেক রহমান।
গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দশদিন পর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যানের পদে অভিষিক্ত হন তিনি। খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে একটি মামলায় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর লন্ডনে থেকেই অবশ্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তারেক রহমান।
এর আগে ২০০২ সালে তাকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত করেছিলেন খালেদা জিয়া। পরে ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে তিনি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছিলেন। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান গত ২২ জানুয়ারি সিলেট দলের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জায়মা জারনাজ রহমানকেও নানা কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 


















