নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে দেশকে একটি সমন্বিত ক্রীড়াঙ্গন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। সরকারের ক্রীড়া কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করব।”
শিক্ষা ও গ্রাসরুট পর্যায়ে সংস্কারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, “দেশজুড়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করে বিকেএসপি ও বিভাগীয় কেন্দ্রগুলোতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাদের পড়াশোনা এবং প্রশিক্ষণের দায়িত্ব আমরা নেব। নতুনভাবে বিভাগীয় পর্যায়ে বিকেএসপি শাখা স্থাপন করাও আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে।”
মাঠ ও অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ঢাকার জন্য তিনি বললেন, “প্রায় ১০০টি ওয়ার্ডে আমরা খেলার মাঠ তৈরি করতে চাই। প্রতিটি দুটি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩–৪ বিঘা জমিতে মাঠ এবং চারপাশে হাঁটার পথ থাকবে, যেখানে সাধারণ মানুষও শরীরচর্চা করতে পারবে।”
জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামো নিয়েও প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ‘ক্রিকেট, ফুটবলসহ সব ফেডারেশনের জাতীয় খেলোয়াড়দের সরকারি বেতনের আওতায় আনা হবে। টিমে পরিবর্তন হলেও বেতন কাঠামো সমন্বয় করা হবে।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলতে না পারার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে না পারার বিষয়টি কূটনৈতিক জটিলতার ফল। আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি।’ বিসিবি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি আইসিসি–এর নিয়মের আওতায় এবং আইনের ভিতরে আলোচনা করে অবস্থান জানানো হবে।
সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মর্তুজাকে ‘জাতীয় সম্পদ’ ‘উল্লেখ করে আমিনুল যোগ করেন, “তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নমনীয়ভাবে সমাধান হবে।” রাজনীতি ও খেলাধুলা আলাদা রাখার অঙ্গীকার জানিয়ে তিনি বলেন, “খেলাধুলায় রাজনৈতিককরণ ও দলীয়করণ বন্ধ করতে চাই। যোগ্য ও ক্রীড়াপ্রেমী ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেব।”
প্রতিমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেছেন, স্কুল পর্যায়ে পাঁচটি বাধ্যতামূলক ইভেন্ট নির্ধারণ করা হবে, যার মধ্যে ক্রিকেট ও ফুটবলসহ তিনটি খেলা এশিয়ান গেমস ও অলিম্পিকসে ভালো করার সম্ভাবনা থাকবে।
বিভিন্ন ফেডারেশনে এডহক কমিটি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে রোডম্যাপ তৈরি করা হবে, এবং বোর্ড কর্মকর্তাদের বেফাঁস মন্তব্যে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।
আমিনুল হক সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে সকলকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা খেলোয়াড়, সাংবাদিক, সংগঠক সবাই মিলে একসাথে আগামীর ক্রীড়াঙ্গন গড়তে চাই। খেলোয়াড়রা যদি ভালো থাকে, পুরো ক্রীড়াঙ্গন ভালো থাকবে।”

রিপোর্টারের নাম 
























