বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুঃসময়ে প্রিয়াঙ্কা

এখন তিনি আন্তর্জাতিক তারকা বলিউড থেকে হলিউড, দুই দুনিয়াতেই প্রতিষ্ঠিত নাম প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না। সম্প্রতি এক আলোচনায় প্রিয়াঙ্কা এমন এক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন, যেখানে চুক্তি স্বাক্ষর করার পরও একটি চলচ্চিত্র থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিও নাকি সহ-অভিনেতার ইচ্ছায়।
প্রিয়াঙ্কা জানান, ঘটনা তখনকার, যখন তিনি ২০০৭ সালের ‘সালাম-ই-ইশক’ ছবির শূটিং করছিলেন। নতুন একটি ছবির জন্য তিনি ইতোমধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, শূটিং শুরুর অপেক্ষা। ঠিক সেই সময় তার সহ-অভিনেতা সেটে এসে ব্যক্তিগতভাবে জানান, পরিচালক নাকি ‘ভুল করে’ তাকে ছবিতে নিয়েছেন, কারণ ছবিটি মূলত অন্য এক অভিনেত্রীর জন্য পরিকল্পিত ছিল।
‘তিনি এসে বললেন, পরিচালক ভুল করেছেন, ছবিটি আসলে অন্য কারও করার কথা ছিল। আমরা অন্য আরেকটা ছবি করব, চিন্তা কোরো না,’ প্রিয়াঙ্কা স্মৃতিচারণা করেন। কথাগুলো বলেই তিনি নাকি খাবার খেয়ে চলে যান। আর ২২ বছর বয়সী অভিনেত্রী তখন ভেঙে পড়েছিলেন। প্রিয়াঙ্কা বলেন, সেই সিনেমাটি তার ক্যারিয়ারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু হাতে চুক্তিপত্র থাকলেও বাস্তবে কিছুই করার ছিল না। ‘আমি ভাবছিলাম চুক্তি তো সাইন করা, তাহলে কীভাবে সম্ভব?’ এই প্রশ্নের উত্তর তখন তিনি পাননি। শিল্পের অঘোষিত রাজনীতি তাকে বারবার এমন পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে।
শুধু এই একটি ঘটনা নয়, আরও কয়েকটি ছবি তার কাছ থেকে ‘সরে গেছে’ বলে জানান তিনি। কখনো প্রধান চরিত্র থেকে দ্বিতীয় চরিত্রে নেমে আসতে হয়েছে, কখনো অন্য কাউকে জায়গা দিতে হয়েছে। তখন ‘নেপোটিজম’ শব্দটি এত প্রচলিত না হলেও শিল্পের ভেতরের সম্পর্ক আর ক্ষমতার প্রভাব যে কতটা কাজ করত, সেটি ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। এই ধাক্কাগুলো তাকে এক সময় নিজের ক্যারিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছিল। এমনকি কলেজে ফিরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেন অভিনয়ে মনোযোগ বাড়াবেন, নিজের কাজ দিয়েই জায়গা করে নেবেন। ‘আমি ঠিক করি, কাজের ওপরই ফোকাস করব। সেটাই আমাকে ধরে রেখেছিল এবং আরও কাজ এনে দিয়েছিল,’ বলেছেন তিনি। তবে কোন ছবি থেকে বাদ পড়েছিলেন আর কোন নায়কের এতে সায় ছিল সে কথা অবশ্য বলেননি অভিনেত্রী।
২০০৩ সালে ‘আন্দাজ’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হওয়ার পর প্রিয়াঙ্কা দ্রুত জনপ্রিয়তা পান। তবে একই সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করেছিলেন বহু তারকার সন্তান, তখনই তিনি বুঝে ফেলেন সবাই সমান জায়গা থেকে দৌড় শুরু করে না। তার ভাষায়, ‘কেউ আমার জন্য সিনেমা বানাচ্ছিল না। কারও বাড়ির মানুষও ছিলাম না আমি।’ তবু এই লড়াইই হয়ত তাকে গড়ে দিয়েছে অন্যভাবে। বৈচিত্র্যময় চরিত্র খুঁজে নেওয়া, নিজেকে বারবার নতুন করে তৈরি করা এই পথ ধরেই তিনি পরবর্তী সময়ে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছান। প্রিয়াঙ্কা শেষবার ভারতীয় ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ২০১৯ সালের ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’-এ। সামনে তাকে দেখা যাবে পরিচালক এস এস রাজামৌলির নতুন সিনেমা ‘বারানসি’-তে যা মুক্তির কথা রয়েছে ২০২৭ সালে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

দুঃসময়ে প্রিয়াঙ্কা

প্রকাশিত সময় : ০৭:১৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এখন তিনি আন্তর্জাতিক তারকা বলিউড থেকে হলিউড, দুই দুনিয়াতেই প্রতিষ্ঠিত নাম প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না। সম্প্রতি এক আলোচনায় প্রিয়াঙ্কা এমন এক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন, যেখানে চুক্তি স্বাক্ষর করার পরও একটি চলচ্চিত্র থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিও নাকি সহ-অভিনেতার ইচ্ছায়।
প্রিয়াঙ্কা জানান, ঘটনা তখনকার, যখন তিনি ২০০৭ সালের ‘সালাম-ই-ইশক’ ছবির শূটিং করছিলেন। নতুন একটি ছবির জন্য তিনি ইতোমধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, শূটিং শুরুর অপেক্ষা। ঠিক সেই সময় তার সহ-অভিনেতা সেটে এসে ব্যক্তিগতভাবে জানান, পরিচালক নাকি ‘ভুল করে’ তাকে ছবিতে নিয়েছেন, কারণ ছবিটি মূলত অন্য এক অভিনেত্রীর জন্য পরিকল্পিত ছিল।
‘তিনি এসে বললেন, পরিচালক ভুল করেছেন, ছবিটি আসলে অন্য কারও করার কথা ছিল। আমরা অন্য আরেকটা ছবি করব, চিন্তা কোরো না,’ প্রিয়াঙ্কা স্মৃতিচারণা করেন। কথাগুলো বলেই তিনি নাকি খাবার খেয়ে চলে যান। আর ২২ বছর বয়সী অভিনেত্রী তখন ভেঙে পড়েছিলেন। প্রিয়াঙ্কা বলেন, সেই সিনেমাটি তার ক্যারিয়ারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু হাতে চুক্তিপত্র থাকলেও বাস্তবে কিছুই করার ছিল না। ‘আমি ভাবছিলাম চুক্তি তো সাইন করা, তাহলে কীভাবে সম্ভব?’ এই প্রশ্নের উত্তর তখন তিনি পাননি। শিল্পের অঘোষিত রাজনীতি তাকে বারবার এমন পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে।
শুধু এই একটি ঘটনা নয়, আরও কয়েকটি ছবি তার কাছ থেকে ‘সরে গেছে’ বলে জানান তিনি। কখনো প্রধান চরিত্র থেকে দ্বিতীয় চরিত্রে নেমে আসতে হয়েছে, কখনো অন্য কাউকে জায়গা দিতে হয়েছে। তখন ‘নেপোটিজম’ শব্দটি এত প্রচলিত না হলেও শিল্পের ভেতরের সম্পর্ক আর ক্ষমতার প্রভাব যে কতটা কাজ করত, সেটি ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। এই ধাক্কাগুলো তাকে এক সময় নিজের ক্যারিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছিল। এমনকি কলেজে ফিরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেন অভিনয়ে মনোযোগ বাড়াবেন, নিজের কাজ দিয়েই জায়গা করে নেবেন। ‘আমি ঠিক করি, কাজের ওপরই ফোকাস করব। সেটাই আমাকে ধরে রেখেছিল এবং আরও কাজ এনে দিয়েছিল,’ বলেছেন তিনি। তবে কোন ছবি থেকে বাদ পড়েছিলেন আর কোন নায়কের এতে সায় ছিল সে কথা অবশ্য বলেননি অভিনেত্রী।
২০০৩ সালে ‘আন্দাজ’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হওয়ার পর প্রিয়াঙ্কা দ্রুত জনপ্রিয়তা পান। তবে একই সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করেছিলেন বহু তারকার সন্তান, তখনই তিনি বুঝে ফেলেন সবাই সমান জায়গা থেকে দৌড় শুরু করে না। তার ভাষায়, ‘কেউ আমার জন্য সিনেমা বানাচ্ছিল না। কারও বাড়ির মানুষও ছিলাম না আমি।’ তবু এই লড়াইই হয়ত তাকে গড়ে দিয়েছে অন্যভাবে। বৈচিত্র্যময় চরিত্র খুঁজে নেওয়া, নিজেকে বারবার নতুন করে তৈরি করা এই পথ ধরেই তিনি পরবর্তী সময়ে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছান। প্রিয়াঙ্কা শেষবার ভারতীয় ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ২০১৯ সালের ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’-এ। সামনে তাকে দেখা যাবে পরিচালক এস এস রাজামৌলির নতুন সিনেমা ‘বারানসি’-তে যা মুক্তির কথা রয়েছে ২০২৭ সালে।