ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তমে বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশসহ ৭০টি দেশের নৌবাহিনী। বাংলাদেশের নৌবাহিনী তাদের ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ ‘সমুদ্র অভিযান’ মহড়ায় অংশ নিতে পাঠিয়েছিল। জাহাজটি ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার ভারতে পৌঁছেছিল।
মহড়ায় অংশ নেওয়া অন্যান্য দেশের মধ্যে ছিল ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড। ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী অংশ নিয়েছিল তাদের ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ কেআরআই বুং তোমো-৩৫৭, আর সংযুক্ত আরব আমিরাত পাঠিয়েছিল আল ইমারাত যুদ্ধজাহাজ। ভারতের পক্ষ থেকে মহড়ায় অংশ নিয়েছে আইএনএস বিক্রান্ত।
মহড়ার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মহড়ার উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “এই মহড়া সামুদ্রিক ঐতিহ্যের প্রতি বিভিন্ন দেশের আস্থা, ঐক্য এবং শ্রদ্ধার প্রতিফলন। ভিন্ন ভিন্ন পতাকাবাহী এসব জাহাজ এবং দেশের নৌ সেনারা ঐক্যের চেতনাকে তুলে ধরছে। আমাদের মহড়ার মূল থিম হলো সামুদ্রিক ঐক্য। সম্মিলিত নৌবাহিনীর সংকল্প সব বাধাকে অতিক্রম করতে সক্ষম এবং এটি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।”
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আন্তর্জাতিক সমুদ্র নীতিতে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, “সমুদ্রে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সহযোগিতা বজায় রাখতে আমরা সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত ‘বিশ্ব পরিবার’ নীতিতে বিশ্বাসী। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, সব দেশের নৌবাহিনী একসঙ্গে কাজ করে আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখুক।”
মহড়ার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে অভ্যর্থনা জানিয়ে তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার নতুন মাত্রা যোগ করবে। মহড়ার বিভিন্ন কার্যক্রমে কৌশলগত মহড়ার পাশাপাশি উদ্ধার, রেসকিউ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কিত মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের নৌবাহিনী “সমুদ্র অভিযান” জাহাজের মাধ্যমে অংশ নেওয়ায় সামুদ্রিক প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে। মহড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশের নৌবাহিনী একে অপরের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক মহড়া সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সমুদ্র নীতি এবং দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া মহড়া সমুদ্র পথে বাণিজ্যিক রুট ও জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও সহায়ক।
মহড়ায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলো আগামী কয়েকদিন বিভিন্ন কৌশলগত ও সামুদ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধজাহাজ প্রদর্শনী, যৌথ নৌমহড়া, উদ্ধার ও রেসকিউ কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক নৌ নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা।
সূত্র: পিটিআই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 























